Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের একাধিক বড় শহরে, বিশেষ করে আইটি নগরী বেঙ্গালুরুতে, সম্প্রতি এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সংকট নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে (LPG crisis)। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, অফিস ক্যান্টিন এবং মেস পরিষেবার উপর। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, পিজি-তে থাকা তরুণ-তরুণী এবং কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন এই মেস বা ছোট হোটেলের খাবারের উপর নির্ভর করেন। ফলে গ্যাস সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা, এই সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। ভারত যেহেতু এলপিজি আমদানির উপর অনেকটাই নির্ভরশীল, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে কোনও অস্থিরতা তৈরি হলেই তার প্রভাব দ্রুত পড়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে।

এলপিজি সরবরাহের টানাপোড়েন (LPG crisis)
মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সংঘাত শুরু হলেই তেলের পাশাপাশি এলপিজির সরবরাহেও সমস্যা দেখা দেয়। ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। বর্তমানে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ অনেক ক্ষেত্রেই কমে গেছে। এর ফলে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলির রান্নাঘরে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক হোটেল মালিকের বক্তব্য, বাণিজ্যিক গ্যাস ছাড়া নিয়মিত রান্না চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই কোথাও পরিষেবা সীমিত করা হচ্ছে, আবার কোথাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথাও ভাবা হচ্ছে।
মেস ও ছোট হোটেলের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব (LPG crisis)
এই সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাচ্ছেন ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ। বড় শহরগুলিতে বহু মানুষ মেস বা ছোট হোটেলের উপর নির্ভর করে প্রতিদিনের খাবারের জন্য। বিশেষ করে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুনে বা দিল্লির মতো শহরে এই নির্ভরতা আরও বেশি। গ্যাসের ঘাটতির কারণে অনেক মেস বাধ্য হয়ে তাদের খাবারের মেনু ছোট করে ফেলছে। আগে যেখানে দুপুর বা রাতের খাবারে ভাত, ডাল এবং দুই থেকে তিন ধরনের তরকারি থাকত, এখন তা কমিয়ে এক বা দুই পদে সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে। এতে খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও, পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কম গ্যাসে স্বাস্থ্যকর রান্না (LPG crisis)
এই পরিস্থিতিতে অনেক মেস পরিচালনাকারী ও পরিবার এখন ভাবছেন কম গ্যাস খরচ করে কীভাবে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা যায়। এমন খাবার দরকার যা দ্রুত রান্না করা যায়, গ্যাস কম খরচ হয় এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টিও বজায় থাকে। সঠিক পরিকল্পনা করলে সীমিত গ্যাস ব্যবহার করেও একটি স্বাস্থ্যকর দৈনিক খাদ্যতালিকা তৈরি করা সম্ভব।
প্রাতঃরাশ: দ্রুত ও পুষ্টিকর খাবার (LPG crisis)
সকালের খাবার এমন হওয়া উচিত যা অল্প সময়ে তৈরি করা যায় এবং শরীরকে সারাদিনের জন্য শক্তি জোগায়।
১. উপমা বা সবজি পোহা
সুজি বা চিঁড়ে দিয়ে তৈরি উপমা বা পোহা খুব দ্রুত রান্না করা যায়। এর সঙ্গে গাজর, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ বা টমেটো দিলে শরীর পায় প্রচুর ফাইবার ও ভিটামিন।
২. সেদ্ধ ডিম ও টোস্ট
ডিম সেদ্ধ করতে খুব বেশি গ্যাস লাগে না। এটি প্রোটিনের অন্যতম সহজ উৎস। এর সঙ্গে দুটো টোস্ট বা রুটি খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে।
৩. টক দই ও ফল
দইয়ের সঙ্গে কলা, আপেল বা পেঁপে খেলে তা হজমে সাহায্য করে এবং শরীরের জন্যও উপকারী। এই খাবার তৈরিতে গ্যাসের কোনও প্রয়োজনই নেই।
দুপুরের খাবার: সহজ কিন্তু ভারসাম্যপূর্ণ (LPG crisis)
দুপুরের খাবারে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং সবজি থাকা দরকার।
১. ভাত, ডাল ও একটি সবজি
এটি সবচেয়ে সহজ এবং পুষ্টিকর মেনু। প্রেসার কুকারে ডাল দ্রুত রান্না করা যায়। এর সঙ্গে লাউ, ঝিঙে, বাঁধাকপি বা বিনস-গাজরের মতো দ্রুত রান্না হওয়া সবজি রাখা যেতে পারে।
২. খিচুড়ি
চাল, ডাল এবং সবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়ি একটি সম্পূর্ণ খাবার। এটি রান্না করতেও কম সময় লাগে এবং পুষ্টিগুণও বজায় থাকে।
৩. সাল্যাড ও দই
শসা, গাজর, টমেটো দিয়ে সাল্যাড বানিয়ে তার সঙ্গে টক দই রাখা যেতে পারে। এটি হজমের জন্য খুবই উপকারী এবং গ্যাসের ব্যবহারও প্রায় নেই।
রাতের খাবার: হালকা ও সহজপাচ্য (LPG crisis)
রাতের খাবার সাধারণত হালকা হওয়া ভালো, যাতে শরীর সহজে তা হজম করতে পারে।
১. রুটি ও সবজি
রুটির সঙ্গে লাউ, কুমড়ো, ঝিঙে বা মিক্সড ভেজিটেবলের হালকা তরকারি ভালো বিকল্প।
২. ডাল বা সবজির স্যুপ
ডাল বা বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ পুষ্টিকর এবং কম গ্যাসেই দ্রুত তৈরি করা যায়।
৩. ডিম ভুজিয়া বা ডিম সেদ্ধ
ডিম দিয়ে খুব দ্রুত একটি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার তৈরি করা যায়, যা রাতের জন্য উপযুক্ত।
আরও পড়ুন: CM Mamata Banerjee: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফোনেই নতুন রাজ্যপালের নাম! কেন বিস্মিত মুখ্যমন্ত্রী?
পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষায় মাছ বা মাংস
মেস বা বাড়ির খাদ্যতালিকায় সপ্তাহে অন্তত একদিন মাছ বা মাংস রাখা উচিত। সাধারণত চিকেন কারি বা ছোট মাছের ঝোল তুলনামূলক কম সময়ে রান্না করা যায়। মাছ ও মাংসে থাকে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন এবং ভিটামিন বি১২, যা শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং পেশি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য এই ধরনের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



