Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন তুঙ্গে, তখনই দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে নতুন বার্তা দিতে চাইল বামফ্রন্ট (CPM)। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে এই তালিকা শুধু প্রার্থী ঘোষণা নয়, বরং কৌশলগত অবস্থানও স্পষ্ট করছে। বৃহস্পতিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সদর দপ্তর থেকে বামফ্রন্ট দ্বিতীয় দফায় ৩২টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। প্রথম দফায় যেখানে ১৯২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানে দ্বিতীয় দফায় তুলনামূলকভাবে কম আসন হলেও রাজনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে অনেকটাই ওজনদার। এই ৩২টি আসনের মধ্যে বাকিগুলিতে সিপিএম প্রার্থী, ১টি আসনে আরএসপি, ৩টি আসনে সিপিআই

চেনা মুখ (CPM)
এই তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে চেনা ও লড়াকু মুখদের তুলে ধরা হয়েছে— ভবানীপুর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিপিএম প্রার্থী আইনজীবী সৃজীব বিশ্বাস, টালিগঞ্জ: প্রফেসর পার্থ প্রতিম বিশ্বাস, বালিগঞ্জ: তরুণ মুখ আফরিন বেগম (শিল্পী), ডায়মন্ড হারবার: সমরেন্দ্রনাথ নাইয়া, জয়নগর: অপূর্ব প্রামাণিক এছাড়াও গ্রামীণ ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করেছে বামেরা।
হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে সিপিআই (CPM)
সবচেয়ে চর্চিত আসন নন্দীগ্রাম এবার শরিক দল সিপিআই-কে ছেড়ে দিয়েছে সিপিএম। এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন শান্তি গিরি। এখানে লড়াই হবে— শুভেন্দু অধিকারী (বিজেপি), পবিত্র কর (তৃণমূল), শান্তি গিরি (সিপিআই) ফলে ত্রিমুখী লড়াইয়ে এই কেন্দ্র আবারও রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব (CPM)
দ্বিতীয় দফার তালিকায় সামাজিক ভারসাম্যের দিকেও নজর দিয়েছে বামফ্রন্ট— ১১ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী, ৩ জন মহিলা প্রার্থী যদিও সংখ্যাটা খুব বেশি নয়, তবুও বার্তা স্পষ্ট বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব রাখতে চাইছে বামেরা।
অভিজ্ঞতা বনাম তারুণ্য (CPM)
বামফ্রন্ট এবার শুধু অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর না করে তরুণদেরও সামনে আনছে। প্রথম দফায় যেমন— মীনাক্ষী মুখার্জি, ময়ূখ বিশ্বাস, সায়নদীপ মিত্র, দীপ্সিতা ধর, এর সঙ্গে অভিজ্ঞ নেতা যেমন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, এই মিশ্রণ দ্বিতীয় দফাতেও বজায় রাখা হয়েছে। স্পষ্ট বার্তা: শুধু পুরনো মুখ নয়, নতুন প্রজন্মকেও সামনে এনে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে বাম শিবির।
চমকের অভাব, কৌশলের ইঙ্গিত (CPM)
এই তালিকায় বড় কোনও চমক না থাকলেও কিছু বিষয় নজর কাড়ছে— রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এখনও প্রার্থী নন, যুব নেতা শতরূপ ঘোষ-এর নামও তালিকায় নেই, গুরুত্বপূর্ণ আসনে শরিকদের জায়গা দেওয়া হয়েছে (যেমন নন্দীগ্রাম) অর্থাৎ, ব্যক্তিগত প্রচারের বদলে জোট রাজনীতি ও সংগঠনগত ভারসাম্যকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের অংশগ্রহণ (CPM)
বাম জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন ১০টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ফাঁসিদেওয়া: সুমন্তী এক্কা, বহরমপুর: আবুল কাশেম শেখ, নৈহাটি: দেবজ্যোতি মজুমদার, বজবজ: কাজল দত্ত, রাসবিহারী: মানস ঘোষ, এতে বোঝা যাচ্ছে, বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তুলতে চেষ্টা জোরদার হয়েছে।
আরও পড়ুন: Humayun Kabir: বড় দলগুলোর মাঝে হুমায়ূনের ‘আম জনতা’, গেমচেঞ্জার হতে পারবে
কী বার্তা দিল বামফ্রন্ট?
দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা থেকে কয়েকটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়— অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের ভারসাম্য, জোট রাজনীতিতে গুরুত্ব, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক সমাজে নজর, হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে কৌশলী প্রার্থী নির্বাচন, তবে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই কৌশল কি ভোটবাক্সে সাফল্য এনে দিতে পারবে?



