Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ‘চরম শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump (Iran Crisis)। ৪৮ ঘণ্টার সেই আল্টিমেটামের সময়সীমা রবিবার শেষ হতেই সোমবার ভোর থেকে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ সামরিক অভিযান। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

ভোরের নীরবতা ভেঙে বিস্ফোরণের তাণ্ডব (Iran Crisis)
ভোরের নীরবতা ভেঙে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা দেশ। তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কারাজ, আহভাজ, খোররামাবাদ এবং উর্মিয়ায় ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বহু বহুতল আবাসন মুহূর্তে ধসে পড়েছে। আবাসিক এলাকায় হামলার জেরে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বন্দর শহর আব্বাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলির দাবি। এই হামলায় একটি হাসপাতাল এবং একটি রেডিও স্টেশন সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে উদ্ধারকাজ ও তথ্য আদানপ্রদান দু’টিই বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পরিষেবাও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
নাগরিক জীবনে বিপর্যয় (Iran Crisis)
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর আহভাজে বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরপর একাধিক বিস্ফোরণে এলাকা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থা International Red Cross এখনও হতাহতের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।

থমকে উদ্ধার ও যোগাযোগ (Iran Crisis)
আশঙ্কা করা হচ্ছে চলমান হামলায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাথমিক হিসাব এই হামলায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। ফলে লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Meteorit Explosion: উড়ন্ত অবস্থাতেই বিস্ফোরণ, উল্কার বিস্ফোরণে তোলপাড় আকাশ!

এই হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড়সড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কূটনৈতিক মহলে তৎপরতা বাড়লেও, সংঘাত থামানোর কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও মেলেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষত তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।



