Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২৪ মার্চ ২০২৬-এ এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়ে দিয়েছে, হিন্দু, বৌদ্ধ বা শিখ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্ম গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর তফসিলি জাতি হিসেবে গণ্য হবেন না(SC Court)। আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে, ধর্মান্তরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসসি মর্যাদা “তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণভাবে” বাতিল হয়ে যাবে, জন্মসূত্রে সেই পরিচয় থাকলেও তা আর প্রযোজ্য হবে না।
‘হিন্দু, বৌদ্ধ বা শিখ ছাড়া তফশিলি নয়’(SC Court)
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চ সংবিধানের ১৯৫০ সালের তফসিলি জাতি আদেশের ধারা ৩-এর ব্যাখ্যা দেয়। এই ধারায় বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্ম ছাড়া অন্য ধর্মে বিশ্বাসী কেউ এসসি হিসেবে গণ্য হবেন না। পরে ১৯৫৬ সালে শিখ এবং ১৯৯০ সালে বৌদ্ধ ধর্মকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আদালতের মতে, এই বিধান “সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত”।
মামলাকারীর আবেদন খারিজ
এই মামলাটি করেন চিন্তাদা আনন্দ, যিনি জন্মসূত্রে হিন্দু-মাডিগা (এসসি) হলেও পরে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করে পাস্টর হন। তিনি অত্যাচারের অভিযোগে এসসি/এসটি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছিলেন। তবে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়, যা সুপ্রিম কোর্টও বহাল রাখে।
‘খ্রিস্টধর্মে জাতপাত স্বীকৃত নয়’ (SC Court)
রায়ে “profess” শব্দটির ব্যাখ্যায় আদালত জানায়, এটি শুধু ব্যক্তিগত বিশ্বাস নয়, বরং প্রকাশ্যে কোনও ধর্ম পালন ও ঘোষণা করার বিষয়। খ্রিস্টধর্মে জাতপাত প্রথা স্বীকৃত নয় বলেও আদালত উল্লেখ করেছে।
আরও পড়ুন: PNG Service: কোন নিয়ম না মানলে বন্ধ হবে LPG সরবরাহ, কী জানাচ্ছে সরকার?
প্রত্যাবর্তনে প্রয়োজন প্রমাণ (SC Court)
তবে কেউ যদি পুনরায় হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্মে ফিরে আসেন, তাহলে তাকে নিজের আগের জাত পরিচয়, ধর্মে প্রত্যাবর্তনের সত্যতা এবং সমাজের গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। একই সঙ্গে আদালত জানায়, তফসিলি জনজাতি (ST)-এর ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে উপজাতীয় পরিচয় বাস্তবে বজায় আছে কি না, তা বিচার করে দেখা হবে।



