Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে (LPG) বা রান্নার গ্যাসকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। একদিকে যেমন চড়চড় করে বাড়ছে সিলিন্ডারের দাম, অন্যদিকে বুকিং করার পরেও সময়মতো গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ উঠছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ফলে দৈনন্দিন জীবনে সমস্যায় পড়ছেন বহু পরিবার।

স্বস্তির খবর এসেছে (LPG)
এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে কেন্দ্রের তরফে। শুক্রবার ভোরে প্রায় ৪২ হাজার মেট্রিক টন LPG বোঝাই ‘জগ বসন্ত’ নামের একটি জাহাজ গুজরাটের কান্দলা বন্দরে নোঙর ফেলেছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, কুয়েত থেকে যাত্রা শুরু করে গত সোমবার হরমুজ় প্রণালী পার হয়ে এই জাহাজটি নিরাপদে ভারতে পৌঁছেছে। জাহাজে রয়েছেন ২৭ জন ভারতীয় নাবিক।
শুধু ‘জগ বসন্ত’ই নয়, খুব শীঘ্রই আরও একটি LPG বোঝাই জাহাজ ‘পাইন গ্যাস’ ভারতে পৌঁছতে চলেছে বলে খবর। আগামী দু’দিনের মধ্যেই সেটি দেশের কোনও বন্দরে ভিড়তে পারে। এর আগে গত সপ্তাহে ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’ নামের দুটি জাহাজও বিপুল পরিমাণ LPG নিয়ে ভারতে আসে। ১৬ মার্চ গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে নোঙর ফেলে ‘শিবালিক’, যার মধ্যে ছিল প্রায় ৪৫ হাজার মেট্রিক টন LPG। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘নন্দা দেবী’ও এসে পৌঁছয়।

জাহাজ আসা সত্ত্বেও কেন বাজারে চাপ? (LPG)
তবে প্রশ্ন উঠছে—এই সব জাহাজ আসা সত্ত্বেও কেন বাজারে চাপ? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের জ্বালানি নির্ভরতার বড় অংশই পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভরশীল। দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ৬০ শতাংশ LPG আসে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে। বিশেষ করে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ভারতের প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এই সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটেছে। হরমুজ় প্রণালী যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহণের পথ সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় জাহাজ চলাচলেও প্রভাব পড়ছে। ফলে সরবরাহে দেরি এবং খরচ দু’টিই বাড়ছে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দেশে প্রায় ৮ লক্ষ মেট্রিক টন LPG মজুত রয়েছে, যা দিয়ে অন্তত এক মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। পাশাপাশি আরও ৮ লক্ষ মেট্রিক টন LPG আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন: Energy Lockdown: দেশজুড়ে লকডাউন! যুদ্ধের জেরে এই অবস্থা?
আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্র
অন্যদিকে, অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রেও আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্র। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ দিনের মতো ক্রুড অয়েলের মজুত রয়েছে। এছাড়া রাশিয়া থেকে তেল আমদানি এখনও অব্যাহত থাকায় পেট্রল ও ডিজেলের দামে আপাতত বড় কোনও প্রভাব পড়েনি। সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ভারতের জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ালেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র। তবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ এখনও কাটেনি দাম ও সরবরাহ, দুই নিয়েই দুশ্চিন্তা রয়েই গিয়েছে।



