Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়ণ চক্রবর্ত্তী, কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজ কলকাতার নভোটেল হোটেলে জনগণের চার্জশিট প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই রাজ্য সভাপতি শ্রী শমীক ভট্টাচার্য বলেন, দীর্ঘদিনের তৃণমূল কংগ্রেসের অপশাসন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজ আমরা একটি চার্জশিট পেশ করছি। এই চার্জশিট পেশ করবেন দেশের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ।
তারপর চার্জশিট পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, আপনাদের সকলকে ভারতীয় জনতা পার্টির এই সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাগত জানাই। আপনারা সকলেই জানেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেছে। আমাদের রাজ্য সভাপতি শ্রী শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিজেপির কর্মীরা উৎসাহের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন। আমাদের বিরোধী দলনেতা এবং নেতৃত্ব সমগ্র রাজ্য পরিক্রমা করে অরাজকতা, দুর্নীতি এবং অনুপ্রবেশের বিষয়গুলি মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন।

এই নির্বাচন শুধু বাংলার জন্য নয় (Amit Shah)
দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আসামে বিজেপি সরকার গঠনের পর অনুপ্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে। এখন একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ দিয়েই অনুপ্রবেশ হচ্ছে। তাই দেশের সুরক্ষার জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ আমরা যে চার্জশিট পেশ করছি, তা বাংলার মানুষের চার্জশিট। গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস ভয়, দুর্নীতি, বিভাজন, মিথ্যা এবং হিংসার মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার এক নতুন রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০১১ সাল থেকে আমরা এই অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছি এবং এবার বাংলার জনগণ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।
সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আজ বাংলাকে দুর্নীতির কেন্দ্রে পরিণত করেছে। শিল্প প্রায় বন্ধ, উন্নয়ন থমকে গেছে। অনুপ্রবেশ, তোষণনীতি, কাটমানি এবং সিন্ডিকেট রাজ বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। বহু বছর কমিউনিস্ট শাসন সহ্য করার পর আজ বাংলার মানুষ বলছেন, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের চেয়ে সেই সময়ও ভালো ছিল।
২০১৪ সাল থেকে বাংলায় বিজেপির জনসমর্থন ক্রমাগত বেড়েছে। ২০১৬ সালে আমরা ৩টি আসন পেয়েছিলাম, আর ২০২১ সালে ৭৭টি আসন নিয়ে আমরা প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়েছি। কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট শূন্যে নেমে এসেছে। আর ২০২৬ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা ক্ষমতায় আসব।

এই নির্বাচন ভয়মুক্তির নির্বাচন (Amit Shah)
বেকারত্ব থেকে মুক্তির নির্বাচন, মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্বাচন। এটি শান্তি, উন্নয়ন, বিনামূল্যে চিকিৎসা, পাকা বাড়ি, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের নিশ্চয়তার নির্বাচন। এটি অনুপ্রবেশমুক্ত সমাজ গড়ার নির্বাচন।
দেশজুড়ে যে গতিতে উন্নয়ন হচ্ছে, সেই উন্নয়নের সঙ্গে বাংলাকেও যুক্ত হতে হবে। অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর এবং ওড়িশা সহ একাধিক রাজ্যে আমরা সরকার গঠন করেছি। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি সরকার গঠিত হবে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
‘ভিক্টিম কার্ড’ রাজনীতি খেলেন? (Amit Shah)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ‘ভিক্টিম কার্ড’ রাজনীতি খেলেন—কখনও নিজের অসুস্থতা, পা ভাঙা , মাথা ফাটা, কখনও নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ। কিন্তু বাংলার মানুষ এই ভিক্টিম কার্ড পলিটিক্স রাজনীতি বুঝে গেছেন। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করা বাংলার সংস্কৃতির পরিপন্থী।
দেশের অন্যান্য রাজ্যে শান্তিপূর্ণভাবে এসআইআর হয়েছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে সুপ্রিম কোর্টকে জুডিসিয়াল অফিসার নিয়োগ করতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।
আমি বাংলার মানুষকে প্রশ্ন করতে চাই—অনুপ্রবেশকারীরা কি বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে? আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।
আমাদের জন্য সীমান্ত সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাজ্যে প্রায় ৬০০ কিমি সীমান্ত এখনও অসুরক্ষিত। জমি না দেওয়ার কারণে সীমান্ত সুরক্ষার কাজ আটকে আছে। কিন্তু ৬ মে-র পর বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হলে ৪৫ দিনের মধ্যে এই কাজ শুরু হবে।
এই রাজ্যে সংখ্যালঘুদের জন্য বিপুল বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, অথচ অনগ্রসর শ্রেণির জন্য তুলনামূলকভাবে কম বরাদ্দ। ওবিসি তালিকায়ও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অনুপ্রবেশের ফলে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে জাল নোট পাচার হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মহিলাদের নিরাপত্তার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সন্দেশখালি, পার্ক স্ট্রিট, হাঁসখালি, কামদুনি—এমন বহু ঘটনার সাক্ষী বাংলা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। ৩০০-রও বেশি রাজনৈতিক কর্মী বিশেষ করে বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন, বিরোধী দলনেতা ও অন্যান্য নেতাদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। আক্রমণ থেকে বাদ যাননি পূর্বতন সর্বভারতীয় সভাপতি শ্রী জেপি নাড্ডা।
রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি, মনরেগা, পিএম আবাস, মিড-ডে মিল এবং আম্ফান দুর্নীতি—একাধিক ক্ষেত্রে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। তৃণমূলের ২০-রও বেশি সাংসদ ও বিধায়ক, পদাধিকারী জেলে গিয়েছেন।

আরও পড়ুন: Bengal Elections 2026: বিক্ষোভে উত্তাল দফতর, মানতে নারাজ বিজেপিরই একাংশ
পশ্চিমবঙ্গ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলা নয়
আজ তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে যে জায়গায় নিয়ে গেছে সেই পশ্চিমবঙ্গ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলা নয়। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিকৃত করা হচ্ছে। বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান রাজ্য ছেড়ে চলে গেছে।
১৫ বছর আগে ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার আজ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বাংলার মানুষ ভয়মুক্ত, উন্নত ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ চান। আমি বাংলার মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি ভয় ত্যাগ করুন, নিজের অধিকার প্রয়োগ করুন এবং তৃণমূল সরকারের অবসান ঘটান।



