Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বকর্মা পুজোর দিনও কাজ থেকে ছুটি মেলে না নিত্যযাত্রীদের (Local Train)। প্রতিদিনের মতোই ভোরে উঠে কাজে বেরোতে হয়। তবে উৎসবের আবহকে ফিকে হতে দিতে চাননি কেউই। তাই যাত্রাপথেই পুজোর আয়োজন। আর সেই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল লোকাল ট্রেনের কামরা।

কামরা- যেন পূজামণ্ডপ (Local Train)
হাওড়াগামী কাটোয়া লোকালের চার নম্বর কামরা এদিন রূপ নিল একেবারে পূজামণ্ডপে। ফুল দিয়ে সাজানো আসন, বিশ্বকর্মা ঠাকুর, মন্ত্রপাঠ, পুজো সামগ্রী, এমনকি প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও ছিল। চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই মন্ত্রোচ্চারণে ভরে উঠল পরিবেশ। সহযাত্রীরা মিলেমিশে যে আবহ তৈরি করলেন, তা যে কোনও পূজামণ্ডপকেও টেক্কা দিতে পারে।
দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য (Local Train)
এমন আয়োজন কিন্তু নতুন নয়। গত চার বছর ধরেই লোকাল ট্রেনের কামরায় এই বিশেষ পুজো হয়ে আসছে। তবে এর শিকড় আরও গভীরে। প্রায় ২০ বছর ধরে এই চার নম্বর কামরার নিত্যযাত্রীদের উদ্যোগেই হয়ে আসছে বিশ্বকর্মা পুজো। প্রতি বছরই নিজেরা চাঁদা তুলে মূর্তি আনা হয়, আর ধুমধাম করে পালিত হয় উৎসব।
সহযাত্রীদের মিলনক্ষেত্র কী ট্রেন? (Local Train)
কাটোয়া লোকালের এই কামরার যাত্রীদের পরিচয় বহুমুখী কেউ কম বেতনের দোকান সহায়ক, কেউ সরকারি দপ্তরের বড় অফিসার, কেউ সাংবাদিক, আবার কেউ কলেজপড়ুয়া। কিন্তু ট্রেনে ওঠার পর তাঁদের আর আলাদা পরিচয় থাকে না। তিন ঘণ্টার এই পথচলায় তাঁরা শুধু সহযাত্রী। সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া, গল্পগুজব, খুনসুটি, এমনকি ঝগড়া—সবই মিশে আছে তাঁদের সম্পর্কের বাঁধনে।
আরও পড়ুন : London: লন্ডনের রাস্তায় জনস্রোত, চাপে সরকার বিস্ফোরণ আগুন
প্রতিদিনের তিন ঘণ্টা (Local Train)
কাটোয়া থেকে সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ে, হাওড়ায় পৌঁছয় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পথ প্রতিদিন একসঙ্গে পাড়ি দেন এই যাত্রীরা। প্রচণ্ড ঠান্ডা হোক বা গরম কিংবা বর্ষা তাঁদের দিন শুরু হয় এই যাত্রাপথের সঙ্গীসাথীদের নিয়েই। তাই এই পুজো শুধুই দেবতার উদ্দেশে নিবেদিত নয়, বরং একসঙ্গে পথ চলার আনন্দকেও উদযাপন করে।
পুজোর পর উৎসবের ভাগাভাগি
পুজো শেষে সহযাত্রীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। হইহই, আনন্দে ভরে ওঠে কামরা। তারপর আবার যে যার গন্তব্যে কাজে বেরিয়ে পড়েন সকলে।



