Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে (India Pakistan)। বিশেষ করে ইরান–কে ঘিরে সংঘাতের আবহ এবং আমেরিকা–র লাগাতার আকাশপথে হামলার খবর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ভারত।
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর সঙ্গে প্রায় ১৯৫০ কোটি টাকার একটি বড় চুক্তি সই করেছে। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য কেনা হবে দু’টি অত্যাধুনিক মাউন্টেন রাডার সিস্টেম, যা বিশেষভাবে পার্বত্য অঞ্চলে নজরদারির জন্য তৈরি।

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত (India Pakistan)
ভারতের বহু গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত। যেমন লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর, অরুণাচল প্রদেশ। এইসব এলাকায় ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সাধারণ রাডার সিস্টেম সবসময় কার্যকর হয় না। পাহাড়ের আড়ালে শত্রুপক্ষের ড্রোন বা হেলিকপ্টার সহজেই নিচু উচ্চতায় উড়ে এসে নজর এড়িয়ে যেতে পারে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ফাঁক থেকে যায়। এই সমস্যা দূর করতেই মাউন্টেন রাডার সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাডার কার্যকর ভূমিকা নেবে (India Pakistan)
নতুন প্রজন্মের এই রাডারগুলির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, হালকা ও বহনযোগ্য, ফলে সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। দ্রুত মোতায়েন যোগ্য, যার কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ইনস্টল করা সম্ভব। লো-অল্টিটিউড ট্র্যাকিং ক্ষমতা থাকায়, নিচু দিয়ে উড়া ড্রোন, হেলিকপ্টার বা ক্ষুদ্র বিমান শনাক্ত করতে সক্ষম এবং দুর্গম অঞ্চলেও কার্যকরী হওয়ার কারণে যেখানে আধুনিক পরিকাঠামো কম, সেখানেও কাজ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের এমন অনেক এলাকা রয়েছে যেখানে দ্রুত নজরদারি ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, সেই প্রয়োজন মেটাতে এই রাডার কার্যকর ভূমিকা নেবে।

পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে (India Pakistan)
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সেনার দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান “ফতেহ্-টু” হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ভারতের দিকে তাক করে ছুঁড়েছিল “অপারেশন সিঁদুর”-এর সময়। যদিও এই দাবি আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইসাপেক্ষ, তবুও সম্ভাব্য হুমকির গুরুত্ব অস্বীকার করা যাচ্ছে না। চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ভারতের জন্য একটি বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সীমান্ত নজরদারি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা দুই ক্ষেত্রেই উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
বিশ্বের ছোট দেশগুলির তুলনায় ভারতের ভৌগোলিক বিস্তার অনেক বেশি। তাই Iron Dome–এর মতো একটি একক সিস্টেম দিয়ে পুরো দেশকে সুরক্ষিত করা বাস্তবসম্মত নয়। এই কারণেই ভারত মাল্টি-লেয়ার এয়ার ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছে, যেখানে দূরপাল্লার মিসাইল প্রতিরক্ষা, মাঝারি পাল্লার নজরদারি, স্বল্প দূরত্বে ড্রোন ও লো-ফ্লাইং থ্রেট শনাক্তকরণ, সবকিছুকে মিলিয়ে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। “অপারেশন সিঁদুর”-এর পর থেকে এই আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা মহলের ধারণা।

আরও পড়ুন: Leander Paes Joins BJP: ভোটের আগেই ফুল বদল, ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্মে যোগ লিয়েন্ডারের!
যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে!
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি এখন আকাশপথে হামলা, ড্রোন যুদ্ধ এবং হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। ইরান–কে ঘিরে সংঘাত সেই পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ। এই পরিস্থিতিতে ভারত কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানেই নেই, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে। সব মিলিয়ে, ১৯৫০ কোটি টাকার এই মাউন্টেন রাডার চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পার্বত্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, ড্রোন ও লো-অল্টিটিউড হুমকি মোকাবিলা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে এই রাডার সিস্টেম বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।



