Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছত্তিসগড়ের সুকমা জেলাকে সম্পূর্ণ ‘মাওবাদী মুক্ত’ বলে ঘোষণা করল জেলা প্রশাসন (Chhattisgarh)। মঙ্গলবার দুই মহিলা মাওবাদী সদস্য আত্মসমর্পণ করার পরই এই দাবি করেন সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ জি চহ্বান। তাঁর কথায়, এই আত্মসমর্পণ শুধু একটি পৃথক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সাঁড়াশি অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য, যার ফলেই জেলায় মাওবাদীদের অস্তিত্ব কার্যত শেষ হয়ে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে (Chhattisgarh)
আত্মসমর্পণকারী দুই মহিলা নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের ‘কোম্পানি নম্বর ৮’-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁদের মাথার উপর মোট ১৬ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা জঙ্গলের অভ্যন্তরে সংগঠনের হয়ে কাজ করছিলেন এবং বিভিন্ন নাশকতামূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।
আত্মসমর্পণের সময় তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি ইনসাস LMG, দুটি AK-৪৭ রাইফেল ছাড়াও আরও তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা নগদ। এই বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার এবং নগদ অর্থ উদ্ধার হওয়াকে মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।
পুলিশ সুপার কিরণ জি চহ্বান জানান (Chhattisgarh)
সুকমাকে নকশালমুক্ত করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। গত দুই বছর ধরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দুর্গম বনাঞ্চলে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়েছে। পাহাড়ি এবং জঙ্গলে ঘেরা এই অঞ্চলে একের পর এক নিরাপত্তা শিবির স্থাপন করে মাওবাদীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
গত ২৪ মাসের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে ৯০ জনেরও বেশি মাওবাদী সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয়, ৮০০-রও বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করে মূল স্রোতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রশাসনের মতে, লাগাতার চাপ এবং উন্নয়নের সুযোগ—এই দুইয়ের মিলিত প্রভাবেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

দুই মহিলার পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে (Chhattisgarh)
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণকারী দুই মহিলার পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এর মাধ্যমে অন্য মাওবাদীদেরও আত্মসমর্পণে উৎসাহিত করা হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
এদিকে, মাওবাদী কার্যকলাপ কমে আসতেই সুকমা জেলায় উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত দুর্গম বনাঞ্চলের ভিতরে প্রায় ৬০টি নতুন রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে গ্রামগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ সহজে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
আরও পড়ুন: Leander Paes Joins BJP: ভোটের আগেই ফুল বদল, ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্মে যোগ লিয়েন্ডারের!
শুধু পরিকাঠামো নয়, সমাজের সার্বিক উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এলাকার তরুণ প্রজন্মকে মাওবাদী প্রভাব থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যকলাপের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে যুব সমাজকে মূলধারায় ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক সময় মাওবাদী দাপটে আতঙ্কের কেন্দ্র ছিল সুকমা। কিন্তু প্রশাসনের দাবি, এখন সেই ছবি বদলাচ্ছে। বন্দুকের লড়াই পেরিয়ে সুকমা ধীরে ধীরে উন্নয়ন, শান্তি এবং স্বাভাবিক জীবনের পথে এগিয়ে চলেছে।



