Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এ যেন জলে কুমীর ডাঙায় বাঘ। পারস্য উপসাগরের অস্থির আকাশের নিচে টানা ২৩ দিন দুঃস্বপ্নের মতো কাটিয়েছেন ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার পাইন গ্যাস-এর ২৭ জন নাবিক(Iran Gas Tankar)। ইরান ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সংঘাত তীব্র হয়ে উঠতেই জাহাজটি কার্যত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাঝে আটকে পড়ে।
অনিশ্চয়তার যাত্রা (Iran Gas Tankar)
২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রুয়াইস বন্দর থেকে ৪৫,০০০ টন রান্নার গ্যাস বোঝাই করে রওনা দিয়েছিল জাহাজটি। স্বাভাবিকভাবে সাত দিনের যাত্রা হওয়ার কথা থাকলেও তা গড়ায় তিন সপ্তাহের অনিশ্চয়তায়। প্রধান কর্মকর্তা সোহন লাল বলেন, “প্রতিদিন মাথার ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন উড়তে দেখেছি। রাতের আকাশে আগুনের রেখা স্পষ্ট দেখা যেত।”
বিকল্প পথের সন্ধান
২৩ মার্চ এক ক্ষীণ সুযোগ তৈরি হলেও পথ ছিল বিপজ্জনক। হরমুজ প্রণালীর প্রধান নৌপথে মাইন পাতা ছিল বলে জানায় ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড। বিকল্প হিসেবে লারাক দ্বীপের উত্তরে সরু একটি চ্যানেলের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা ইরানের জলসীমার ভেতরে। এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি জাহাজের ২৭ জন ক্রু মিলে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত সবাই ঝুঁকি নিয়েই এগোনোর পক্ষে মত দেন।
‘সাইলেন্ট রান’ মোড (Iran Gas Tankar)
সনাক্তকরণ এড়াতে জাহাজটি ‘সাইলেন্ট রান’ মোডে চলে। বন্ধ রাখা হয় অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS), আর জিপিএস ছিল অকার্যকর। আইআরজিসির নজরদারির মধ্যে দিয়ে লারাক চ্যানেল পেরিয়ে ওমান উপসাগরে পৌঁছালে ভারতীয় নৌবাহিনীর চারটি যুদ্ধজাহাজ ২০ ঘণ্টা নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায় এই জাহাজকে।
আরও পড়ুন: Pawan Ruiya PC: সাইবার প্রতারণা মামলায় শিল্পপতি পবন রুইয়ার ৭ দিনের পুলিশ হেফাজত
যাত্রার শেষে স্বস্তি (Iran Gas Tankar)
অবশেষে আরব সাগরে নিরাপদে পৌঁছায় পাইন গ্যাস। একইভাবে উদ্ধার হয় তার সহযাত্রী জাহাজ জ্যাগ বসন্তও। এই সফল অভিযান ভারতের এলপিজি সরবরাহে বড় স্বস্তি এনেছে, যদিও এখনও ১৮টি ভারতীয় জাহাজ ওই অঞ্চলে আটকে আছে। সোহন লালের কথায়, “আমরা কোনও ফি দিইনি, কেউ জাহাজে ওঠেনি। আমরা শুধু পণ্য আর প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে চেয়েছিলাম।”



