Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চিংড়িহাটা মেট্রো প্রকল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে গতি ফিরেছে নির্মাণকাজে (Kolkata Metro)। কলকাতার পরিবহন ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে বিবেচিত এই প্রকল্প বহুদিন ধরে প্রশাসনিক, আইনি এবং ট্রাফিক সংক্রান্ত সমস্যার কারণে থমকে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ট্রাফিক ব্লকের অনুমতি মেলার ফলে নতুন করে আশার আলো দেখছে শহরবাসী।

অচলাবস্থা থেকে অগ্রগতির পথে (Kolkata Metro)
চিংড়িহাটা এলাকা কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত সংযোগস্থল। পূর্ব কলকাতা ও সল্টলেকের মধ্যে যাতায়াতের জন্য এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক এই কারণেই মেট্রো প্রকল্পের কাজ এখানে বারবার বাধার মুখে পড়ে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সমস্যার কারণে কাজের অনুমতি মিলছিল না, ফলে প্রকল্প কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি কলকাতা পুলিশ ট্রাফিক ব্লকের অনুমতি দেওয়ায় পরিস্থিতির বদল ঘটেছে। আগামী ১৫ মে থেকে কাজ শুরু করার সবুজ সংকেত মিলেছে, যা প্রকল্পের গতি বাড়াতে বড় ভূমিকা নেবে।
শেষ ল্যাপ—মাত্র ৩৬৬ মিটার (Kolkata Metro)
এই বিশাল মেট্রো প্রকল্পের বাকি অংশ মাত্র ৩৬৬ মিটার হলেও, সেই অংশটিই ছিল সবচেয়ে জটিল। এই অংশে পিলার নির্মাণ, তার উপর গার্ডার বসানো এবং ট্র্যাক স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। এই কাজ সম্পূর্ণ হলেই নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত সরাসরি মেট্রো পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে। ফলে শহরের আইটি হাব ও আবাসিক এলাকার মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

আইনি লড়াই—হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট (Kolkata Metro)
এই প্রকল্প ঘিরে রাজ্য সরকার ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। ট্রাফিক ব্লক নিয়ে মতবিরোধের জেরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। প্রথমে কলকাতা হাই কোর্ট এই মামলার শুনানি করে নির্দেশ দেয় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার। পরবর্তীতে বিষয়টি পৌঁছায় সুপ্রিম কোর্ট-এ। সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের নির্দেশ বহাল রেখে স্পষ্ট জানায় যে উন্নয়নমূলক কাজকে কোনোভাবেই আটকে রাখা যাবে না। আদালত রাজ্য সরকারকে মামলাটি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় এবং সময়মতো কাজ সম্পন্ন করার উপর জোর দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে রাজনৈতিক টানাপোড়েন অনুচিত এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করা উচিত নয়।
ট্রাফিক ব্লক—সমস্যা না সমাধান? (Kolkata Metro)
চিংড়িহাটা কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক করিডর। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি এই রুট দিয়ে চলাচল করে। ফলে এখানে ট্রাফিক ব্লক করা মানেই শহরের যানচলাচলে বড়সড় প্রভাব পড়া। এই কারণেই এতদিন ধরে প্রশাসনিক স্তরে দ্বন্দ্ব চলছিল। তবে এখন আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ফলে ট্রাফিক ব্লকের অনুমতি মিলেছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা দূর করেছে।

বর্ষার আগে কাজ শেষের চ্যালেঞ্জ (Kolkata Metro)
প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা। বিশেষ করে বর্ষা শুরু হওয়ার আগে এই কাজ শেষ করতে পারলে নির্মাণে বাধা কম হবে। বর্ষাকালে জল জমা, আবহাওয়ার প্রতিকূলতা এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা কাজকে বিলম্বিত করতে পারে। তাই দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Leander Paes Joins BJP: ভোটের আগেই ফুল বদল, ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্মে যোগ লিয়েন্ডারের!
ভবিষ্যতের কলকাতা—মেট্রোর উপর নির্ভরতা
এই মেট্রো প্রকল্প শুধু একটি রুট নয়, এটি কলকাতার ভবিষ্যৎ পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ। কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিংড়িহাটার এই ছোট্ট অংশ সম্পূর্ণ হলেই গোটা প্রকল্পের একটি বড় বাধা দূর হবে এবং শহরের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হবে।



