Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ ১-২ হারের পরই নেতৃত্ব ছেড়েছিলেন কোহলি।এবার সেই নিয়েই মুখ খুললেন বিরাট (Virat Kohli)।
টেস্ট নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে অকপট কোহলি (Virat Kohli)
অনেক সময় একজনকে বাইরে থেকে যতই কঠিন মনে হোক না কেন তাঁর ভিতরে লুকিয়ে থাকে ক্ষোভ, অভিমান। বাইরে থেকে সেগুলোর নাগাল পাওয়া আমাদের সম্ভব হয় না যতক্ষণ না তাঁরা সেগুলো মুখ ফুটে বলেন। তেমনই এক চরিত্র বিরাট কোহলি। আধুনিক ক্রিকেটে যিনি নিজের সাম্রাজ্য স্থাপন করেছেন নিজের হাতে। নতুন করে ইতিহাস লিখেছেন। সেই কোহলি যখন নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তখন বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল (Virat Kohli)।
প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ ১-২ ব্যবধানে হারের পর বিরাট কোহলি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সিরিজ শেষ হওয়ার একদিন পরেই জানিয়ে দেন যে তিনি দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন। টেস্ট নেতৃত্ব ছাড়ার কিছু মাস আগেই তিনি টি-টোয়েন্টি দলের নেত্রত্ব ছেড়েছিলেন। অন্যদিকে একদিনের ফরম্যাটে তাঁকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে সবথেকে বেশি অবাক করেছিল তাঁর টেস্ট ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোতে। টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের অন্যতম বা সবচেয়ে সফল অধিনায়ক বললেও ভুল হবে না। সাত বছরের মধ্যে ৬৮টি ম্যাচের মধ্যে ৪০টি ম্যাচে জয় এনেছিলেন তিনি।

এবার তাঁর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই মুখ খুললেন বিরাট। আচমকা এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে কী কারণ রয়েছে সেটাই জানালেন তিনি। কোহলি বলেন দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের চাপ সামলাতে সামলাতে তিনি মানসিক এবং শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। সেই সময় দাঁড়িয়ে তাঁর মনে হয় এবার এগিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয় আর সেই কারণেই এমন সিদ্ধান্ত (Virat Kohli)।

বিরাট বলেন ভারতীয় দলের ব্যাটিংয়ের গুরু দায়িত্ব এক সময় পর্যন্ত ছিল তাঁর কাঁধে আর এর উপর অধিনায়কত্বের ভার। দুই দায়িত্ব এক সঙ্গে সামলাতে সামলাতে একসময় তিনি ক্লান্ত বোধ করছিলেন। কিন্তু সেই সময় এই দিক গুলো তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
আরসিবি-র এক অনুষ্ঠানে বিরাট বলেন, ‘আমি দলের ব্যাটিংয়েরও মূল ভরসা ছিলাম, আবার নেতৃত্বও সামলাচ্ছিলাম। কিন্তু এই দু’টি দায়িত্ব আমার জীবনে কতটা চাপ তৈরি করছিল, সেটা বুঝিনি। আমার মাথায় শুধু একটা কথাই ছিল, ভারতীয় ক্রিকেটকে সব সময় সবার উপরে রাখতে হবে। তাই নিজের দিকে তেমন নজর দিইনি।’
বিরাট আরও বলেন, ‘অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময় আমি পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আর কিছু দেওয়ার নেই। সমস্ত শক্তি যেন শেষ হয়ে গিয়েছিল। সময়টা খুব কঠিন ছিল।’
কোহলির নেতৃত্বে ভারত টানা পাঁচ বছর আইসিসি-র টেস্টের ক্রমতালিকায় শীর্ষে ছিল। সবচেয়ে বড় সাফল্যের একটি ছিল ২০১৮-১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি জয়ও আসে বিরাট আমলে। প্রথম বার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ জিতে নজির গড়েছিল ভারত (Virat Kohli)।
আরও পড়ুন: Bangladesh: লজ্জার নজির পাকিস্তানের, বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ বাবররা
বিরাটের মতে অধিনায়কের কাজ শুধু মাঠেই থাকে না। একজন অধিনায়কের কাজ হল দলের সবাইকে বোঝ, তাঁদের পাশে থাকা এবং তাঁদের মধ্যে থেকে সেরাটা বের করে আনা। সেটা করতে গিয়ে নিজের কথাই আর ভাবা সম্ভব হয় না। বিরাট বলেন, ‘নেতৃত্বের দায়িত্ব তখনই দেওয়া হয়, যখন মানুষ ভাবে আপনি বেশি দায়িত্ব নিতে পারবেন। নেতৃত্ব মানে শুধু খেলা বোঝানো নয়, অনেকটা সবাইকে সামলানোর কাজও। কে কী ভাবছে, কার কী দরকার— সে সব বুঝতে হয়। তাই নিজের কথা ভাবার সময়ই থাকে না।’
শেষে কোহলির গলায় ছিল আবেগ এবং অভিমানের সুর। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেননি ‘তুমি কেমন আছ?’ সেই অভাব তাঁকে ভিতর থেকে আরও ক্লান্ত করে দিয়েছিল (Virat Kohli)।


