Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ভারতের রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলে এক সুপরিচিত নাম (Bikash Ranjan Bhattacharya)। তিনি কেবল একজন দক্ষ আইনজ্ঞই নন, বরং দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী রাজনীতির সক্রিয় মুখ। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর অন্যতম নেতা হিসেবে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এর মহানাগরিক (মেয়র) হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি রাজ্যসভায় সংসদ সদস্য হিসেবেও দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কে টিভি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, তা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ও গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে এক গভীর বিশ্লেষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
“আমি শুধু একজন সৈনিক” (Bikash Ranjan Bhattacharya)
বর্তমান রাজনীতিতে ‘ব্র্যান্ড’ বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভাবমূর্তির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য স্পষ্টভাবে জানান, রাজনীতিতে ‘ব্র্যান্ড’ শব্দটির বিশেষ প্রাসঙ্গিকতা নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বামপন্থী রাজনীতির মূল শক্তি ব্যক্তি নয়, আদর্শ ও সংগঠন। দল যে দায়িত্ব দেয়, তিনি তা পালন করেন একজন নিষ্ঠাবান সৈনিকের মতো। এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, তিনি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ও মতাদর্শকে অগ্রাধিকার দেন।
পরিবর্তিত মানসিকতার ওপর ভরসা (Bikash Ranjan Bhattacharya)
যাদবপুর একসময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে ২০১১ সালের পর থেকে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। এই পরিবর্তনের মধ্যেই জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে। সেই পরিবর্তনের ফলেই রাজনৈতিক পালাবদল হয়। তিনি মনে করেন, যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ তাদের প্রকৃত মত প্রকাশ করতে পারবেন এবং সেই অবস্থায় বামপন্থীরা সমর্থন পাবে।

নির্বাচন মানে শুধু একটি কেন্দ্র নয় (Bikash Ranjan Bhattacharya)
যাদবপুর কেন্দ্রিক ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি বিষয়টিকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখতে চান। তার মতে, নির্বাচন কেবল একটি কেন্দ্রের সমস্যা বা ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বরং পুরো পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক পরিস্থিতিই এখানে বিবেচ্য হওয়া উচিত। তিনি যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন, রাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি, দুর্নীতির বিস্তার, নারী নিরাপত্তার অভাব, এই সবকিছুকেই তিনি নির্বাচনের মূল ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার মতে, স্থানীয় ও রাজ্য ইস্যুকে আলাদা করে দেখানো হলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ক্ষতিকর।
গণতান্ত্রিক অধিকারের সংকট (Bikash Ranjan Bhattacharya)
ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং সংবিধানপ্রদত্ত রাজনৈতিক অধিকারের ওপর আঘাত। স্বাধীনতার পর ভারতীয় নাগরিক যে ভোটাধিকার পেয়েছেন, সেটিকে ক্ষুণ্ণ করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে তিনি এই ঘটনাকে দেখছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রান্তিক ও দুর্বল শ্রেণির মানুষেরাই এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
দ্বিমুখী রাজনীতির অভিযোগ (Bikash Ranjan Bhattacharya)
এই প্রসঙ্গে তিনি মমতা ব্যানার্জি এবং নরেন্দ্র মোদী -র নেতৃত্বাধীন রাজনীতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, অনুপ্রবেশ ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, একদিকে এই ইস্যু তৈরি করা হয়েছে, অন্যদিকে সেটিকেই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রকৃত সমস্যাগুলি আড়ালে থেকে যাচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, যাদের ‘ঘুষপেটিয়া’ বলা হচ্ছে, তারা মূলত প্রান্তিক মানুষ, এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস চলছে।
আরও পড়ুন: Leander Paes Joins BJP: ভোটের আগেই ফুল বদল, ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্মে যোগ লিয়েন্ডারের!
“একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ”
সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে তিনি তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য খুব বেশি নেই। তৃণমূল বা বিরোধী শিবির যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সাধারণ মানুষের পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয় না বলে তার অভিমত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতি একধরনের হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।



