Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গ্রেফতার মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম(Kaliachak Arrest)। নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। মালদহ কাণ্ডের তদন্তে শুক্রবার সকালেই কলকাতায় এসেছেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র আইজি সনিয়া সিংহ।
বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার (Kaliachak Arrest)
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন মোফাক্কেরুলের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। পুলিশ তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে। বৃহস্পতিবার মোফাক্কেরুলকে ফোনে বা মেসেজে ধরার চেষ্টা হলেও তিনি জবাব দেননি। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার হওয়ার আগে সমাজমাধ্যমে পোস্ট দেন মোফাক্কেরুল, ‘ভাল থাকুন আপনারা।’ ফেসবুকে লাইভে গ্রেফতারির পর তিনি বলেন, “নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের প্রতিবাদে ছিলাম বলে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হলাম।” ভিডিয়োটি পরে অবশ্য আর দেখা যায়নি।
মোট ৩৫ জন গ্রেফতার (Kaliachak Arrest)
উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, মালদহ কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। মোট ৩৫ জন গ্রেফতার। পুলিশ জানিয়েছে, মোফাক্কেরুলকে ‘মূল প্ররোচনাকারী’ বলে গ্রেফতার হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়। জয়রামন জানান, মোফাক্কেরুলকে খুঁজে বার করতে সিআইডি-র সাহায্য চাওয়া হয়। শিলিগুড়ি পুলিশ মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানতে পেরেছে তিনি বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনায় ছিলেন।
‘পুলিশের গাফিলতি ছিল না’
বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনা নিয়েও মুখ খুলেছেন উত্তরবঙ্গের এডিজি। তিনি বলেন, “বিচারকদের উদ্ধার করতে দেরি হয়েছে। পুলিশের কোনও গাফিলতি ছিল না, তবু ঘটনার তদন্ত হচ্ছে।”
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি
মোফাক্কেরুলের সঙ্গে আক্রামুল বাগানি নামের এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে৷ আলিপুরদুয়ার থেকে বাইকে চেপে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে যান তিনি। তাঁর সঙ্গে মোফাক্কেরুলের কী সম্পর্ক, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। তবে গ্রেফতারির পরেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মালদহ নিয়ে যাওয়ার সময় মোফাক্কেরুল বলেন, “যতক্ষণ না নাম উঠবে এই আন্দোলন চলবে৷”
MIM-এর প্রার্থী হন আইনজীবী মোফাক্কেরুল
ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী ছিলেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করতেন। হাইকোর্টের কাছেই তাঁর চেম্বার। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কলকাতায় থাকেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম (মিম)-এ যোগ দেন। প্রার্থীও হন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহারের প্রার্থী হিসাবে মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল।
দফায় দফায় উত্তপ্ত হয় কালিয়াচক
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখে উত্তেজিত জনতা। বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে থাকার পর পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
পুলিশের গাড়িতে হামলার চেষ্টা (Kaliachak Arrest)
বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীদের পাল্টা অভিযোগ, ঘেরাও হয়ে থাকা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করার সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তার পর বিচারকদের নিয়ে কনভয় যখন যাচ্ছিল, তখন একটি গাড়ি এক জন আন্দোলনকারীকে ধাক্কা মারে বলে বলে অভিযোগ।
রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের (Kaliachak Arrest)
বৃহস্পতিবার সকালে SIR মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট মালদহের ঘটনার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করে। NIA বা CBI-এর মত সংস্থাকে ওই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দিতে বলা হয়। তদন্তকারী সংস্থাকে আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতেও বলা হয়। তার পরেই নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে বসে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে। জ্ঞানেশের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন পুলিশ আধিকারিকেরা। শেষপর্যন্ত মালদহ কাণ্ডে এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
আরও পড়ুন: NRS Roof: আরজি করের পর এবার NRS: CCU-তে ভেঙে পড়ল ছাদের চাঙড়, বরাতজোরে রক্ষা ১২ রোগীর
স্থানীয় মানুষদের প্ররোচনা (Kaliachak Arrest)
কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার বেশ কয়েক জন নেতা স্থানীয় মানুষদের প্ররোচিত করেছিলেন। তার পরেই উত্তেজিত জনতা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার ‘মূলচক্রী’ হিসাবে মোফাক্কেরুলের নাম উঠে আসে।



