Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুরের চাইপাট হাটতলা এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলের এক আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় মুহূর্তের মধ্যে তৈরি করল ত্রাসের পরিবেশ (Heavy Rain)। মাত্র কয়েক মিনিটের ঝোড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির দাপটে গোটা এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এমন আচমকা ঝড় বহুদিন দেখেননি তারা।

আচমকা প্রকৃতির রুদ্ররূপ (Heavy Rain)
বিকেল প্রায় পাঁচটা নাগাদ আকাশ হঠাৎ করেই কালো মেঘে ঢেকে যায় (Heavy Rain)। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি, তার সঙ্গে তীব্র গতির ঝোড়ো হাওয়া যা দ্রুত ঘূর্ণিঝড়ের আকার ধারণ করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়, দোকানপাটের শাটার পড়ে যায়, আর মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে।
গাছ ভেঙে পড়ে গাড়ির ওপর (Heavy Rain)
এই ঘূর্ণিঝড়ের জেরে চাইপাট হাটতলা সংলগ্ন এলাকায় একাধিক বড় গাছ উপড়ে পড়ে। তার মধ্যে একটি বিশাল গাছ সরাসরি দুটি চার চাকা গাড়ির ওপর ভেঙে পড়ে। গাড়ি দুটি মুহূর্তের মধ্যেই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলির মালিক সীমন্ত জানা। এছাড়াও গাছের ডালের নিচে আটকে পড়ে একটি সাদা রঙের হিউন্দাই কোম্পানির ‘ইয়ন’ গাড়ি। গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে ডালপালার ভেতরে চাপা পড়ে যায়, ফলে সেটি বের করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
বিদ্যুৎ পরিষেবাতেও বিপর্যয় (Heavy Rain)
শুধু গাছ পড়াই নয়, ঝড়ের তাণ্ডবে দাসপুরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে বলে খবর। এর ফলে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং সন্ধ্যা নামতেই অন্ধকারে ডুবে যায় বহু এলাকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধারকাজ (Heavy Rain)
ঝড় থামার পরই এলাকার মানুষ একজোট হয়ে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। কেউ কুড়াল, কেউ দা, কেউবা খালি হাতে গাছের ডাল সরাতে শুরু করেন। তাদের এই দ্রুত উদ্যোগের ফলেই ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলি থেকে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। স্থানীয়দের এই মানবিক উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করে বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই গ্রামীণ বাংলার সবচেয়ে বড় শক্তি।

আরও পড়ুন: IIT Baba: সরল জীবনেই মুগ্ধ সঙ্গিনী, সন্ন্যাস ছেড়ে বিয়ে করলেন আইআইটি বাবা!
আতঙ্ক কাটলেও রয়ে গেল ক্ষতির চিহ্ন
যদিও ঘূর্ণিঝড়টি স্থায়ী হয়েছিল মাত্র কয়েক মিনিট, কিন্তু তার প্রভাব ছিল দীর্ঘস্থায়ী। রাস্তার ধারে ভাঙা গাছ, ছিন্ন বৈদ্যুতিক তার, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সব মিলিয়ে এখনও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট এলাকাজুড়ে। এই ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট বলেই মনে করা হচ্ছে।



