Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর পর জেলমুক্তির পথে সুদীপ্ত সেন (Sudipto Sen Bail)। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাঁর মুক্তিতে আর কোনও আইনি বাধা রইল না বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি রয়েছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই জেল থেকে মুক্তি পেতে পারেন তিনি।
মুক্তির পথ পরিষ্কার (Sudipto Sen Bail)
বুধবার কলকাতা হাই কোর্ট-এর বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ (Sudipto Sen Bail) -এর ডিভিশন বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। রাজ্য পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলাতেও তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই-এর করা ৭৬টি মামলায় ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। ফলে সব দিক থেকেই তাঁর মুক্তির পথ পরিষ্কার হয়েছে।

সারদা চিট ফান্ড স্ক্যাম (Sudipto Sen Bail)
২০১৩ সালে প্রকাশ্যে আসে বহুল চর্চিত সারদা চিট (Sudipto Sen Bail) ফান্ড স্ক্যাম। সেই সময় সংস্থার অন্যতম কর্ণধার সুদীপ্ত সেন ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেবযানী মুখার্জি-কে নিয়ে কাশ্মীরের সোনমার্গে পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে জেলবন্দি রয়েছেন দু’জনেই। এই কেলেঙ্কারিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মানুষ প্রতারিত হন। একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পরে তদন্তভার নেয় সিবিআই। পাশাপাশি ইডি এবং Securities and Exchange Board of India-ও পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে।
আরও পড়ুন: Palak Mukesh Wins Gold: হাঙ্গেরিকে পেছনে ফেলে বিশ্বসেরা ভারত, শুটিং-এর লড়াইয়ে নয়া জিত!
জামিন মিললেও আদালত কিছু শর্ত আরোপ (Sudipto Sen Bail) করেছে বলে জানা গিয়েছে। সেই শর্ত মেনেই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে মুক্তির পথে সুদীপ্ত সেন-এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে সারদা কেলেঙ্কারি।
বুধবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে সুদীপ্ত সেনের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের দেওয়া শর্ত গুলি হল: ৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মঞ্জুর। তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে।
পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। থানায় নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে। ট্রায়াল চলার সময় হাজিরা দিতে হবে। এই শর্তেই সুদীপ্ত সেনের জামিল মঞ্জুর করে হাইকোর্ট।
সুদীপ্ত সেনের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন দীর্ঘ (Sudipto Sen Bail) ১৩ বছর ধরে তিনি জেলবন্দী। দীর্ঘদিন আগে চার্জশিট জমা পড়লেও এখনও পর্যন্ত কোনও মামলাতেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। বিচার প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, তা অনিশ্চিত। তাছাড়া সুদীপ্ত সেন শারীরিকভাবে যথেষ্ট অসুস্থ তার চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। তাই তাঁর জামিনের আবেদন করা হয়েছে।
সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে সংশোধনাগার থেকে ‘প্রিজনার্স পিটিশন’ দাখিল করেন সুদীপ্ত সেন। জামিনের আবেদন করার পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে কোনও শুনানি হচ্ছে না। বহু আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তাঁকে আদালতে হাজির করানো হচ্ছে না। তাই তিনি আদালতের কাছে আবেন করেন- হয় তাঁকে অনলাইনে ‘ভার্চুয়ালি’, না হয় ‘ফিজিক্যালি’ হাজির করানো হোক।
গত মঙ্গলবার সেই জামিনের আবেদনের মামলার শেষ শুনানিতে সারদা কর্তার জামিন মামলায় রাজ্যকে তুলোধনা করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। সিবিআই-কেও ভর্ৎসনা করে ডিভিশন বেঞ্চ। মঙ্গলবার জামিন মামলায় শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রাখে আদালত। সেইসঙ্গে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর জন্য সারদা ও তালুকদার কমিটির তরফে বাজার থেকে তোলা টাকার হিসেব, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির হিসেব, আমানতকারীদের কাছে বকেয়ার হিসেব জমা দিতেও নির্দেশ দেয় বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ।
মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, দেশ জুড়ে ৩৮৯টি মামলা হয়েছিল সারদার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল সারদাকর্তা গ্রেফতার হন বিধাননগর থানার মামলায়। সিবিআই ৭৬টি মামলা হাতে নেয়। তারা সব মিলিয়ে চারটে মামলা দায়ের করে। বাকিগুলোয় রাজ্য পুলিশ চার্জশিট দেয়। সেই চার মামলায় আগেই জামিন পেয়ে যান সুদীপ্ত সেন। বেল বন্ড জমা দেন তিনি। কিন্তু রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলার ২টোতে জামিন না পাওয়ায় জেলেই থাকতে হচ্ছিল সুদীপ্ত সেনকে। সেই দু’টি মামলা ছিল বারাসত থানার।
গত শুনানিতে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ বলেন, ২০১৪ সালে চার্জশিট দিয়েছে। অথচ এতদিনেও ট্রায়াল শুরু হয়নি! তাহলে এইভাবে কি একজনকে আটকে রাখা যায়? আর তিনি জামিন পেলে আমানতকারীদের টাকা দ্রুত মেটানোর আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের সাহায্য হবে।’
আইনজীবী জানান, বারাসত থানার একটি মামলায় নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ২০২৪ সালে সেই নথি পাওয়া যায়। এরপর সিবিআই-এর উদ্দেশ্যে বিচারপতি বলেন, ‘সিবিআই ট্রায়াল কবে শেষ করবে? শুধু জামিন পেয়ে গিয়েছে, সেটাই যথেষ্ট? ট্রায়াল করানোর কোনও দায় সিবিআই-এর নেই? তাহলে কেন আটকে রাখা হবে?’
রিপোর্ট দেখে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘সারদার ৯টা বাংলো, একটা ফ্ল্যাট মাত্র ৫২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে! এটা কে করেছে? এত কম টাকায় কী করে বিক্রি হয়?’ এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে হবে বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি। ২০টি বাংলো, ১০টা ফ্ল্যাট ৫০ লাখে কি করে বিক্রি হয়? এই প্রশ্নও উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, কমিটি কী করছে? ২০ হাজার আবেদন নিয়ে বসে রয়েছে, মাত্র ৫০০ আবেদন খতিয়ে দেখেছে।


