Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার বিধানসভার মাহাতা অঞ্চলের রাই রামচন্দ্রপুর বানোগ্রামে এক যুব মোর্চা নেতার উপর নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Purba Bardhaman)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রঞ্জিত মালিক (Purba Bardhaman)
অভিযোগ অনুযায়ী, বিজেপির যুব মোর্চার স্থানীয় সভাপতি রঞ্জিত মালিককে পুলিশ শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর মা ও স্ত্রীর উপরও পুরুষ পুলিশকর্মীদের দ্বারা অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
পুলিশের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে (Purba Bardhaman)
ভাতার বিধানসভার ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি অরিন্দম ঘোষের দাবি, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি সাধারণ আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে বচসা বাধে, এবং সেই ঘটনার প্রতিবাদ করছিলেন রঞ্জিত মালিক। সেই কারণেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপির মুখপাত্র ডা. শান্তরূপ দে আরও কড়া ভাষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের একাংশ শাসকদলের হয়ে কাজ করছে এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “পুলিশের উচিত নিরপেক্ষভাবে কাজ করা, নচেৎ এর ফল ভবিষ্যতে ভোগ করতে হবে।”

আইন অনুযায়ীই পদক্ষেপ (Purba Bardhaman)
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, রঞ্জিত মালিকই কয়েকদিন আগে তৃণমূলের একটি মিছিলে হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, তৃণমূল কর্মীরা আইন নিজেদের হাতে তুলে না নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ রঞ্জিত মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতার করতে গেলে বাধার মুখে পড়ে। তিনি বলেন, “পুলিশের কাজে বাধা দিলে পুলিশ নিজেদের মতো ব্যবস্থা নিতেই পারে।”
আরও পড়ুন: Badminton Ayush Shetty: রূপোয় থামতে হল আয়ুষকে!
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
এই ঘটনাকে ঘিরে ভাতার এলাকায় রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসছে। একদিকে বিজেপি যেখানে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক দমননীতি হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস আইনানুগ পদক্ষেপের কথা বলছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে কার বক্তব্য সত্য, আর কার দাবি রাজনৈতিক কৌশল?



