Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শহর কলকাতায় বসে দেশজুড়ে জাল ছড়িয়েছিল এক বিশাল সাইবার প্রতারণা চক্র। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না(Cyber Fraud)।
প্রতারণা চক্র গুঁড়িয়ে দিল কলকাতা পুলিশ (Cyber Fraud)
কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার‘-এর তথ্যের ভিত্তিতে অতর্কিত হানা দিয়ে এই চক্রকে গুঁড়িয়ে দিল কলকাতা পুলিশ। ই-কমার্স সংস্থার নাম করে চলত এই লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা(Cyber Fraud)।
সাইবার প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শহরের দুই প্রান্তে হানা দিয়ে এক বড়সড় আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৫০টি অভিযোগ খতিয়ে দেখে এই সাফল্য মিলেছে। পুলিশি অভিযানে জানা গেছে, বালিগঞ্জ এবং গড়িয়াহাট থানা এলাকায় দুটি ভুয়ো কল সেন্টার খুলে বসেছিল এই প্রতারকরা।
উত্তর ভারতের সাধারণ মানুষকে টার্গেট
প্রথম অভিযানটি চালানো হয় গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্কে একটি অবৈধ কল সেন্টারে। দ্বিতীয় হানাটি দেওয়া হয় বালিগঞ্জ স্টেশন রোডের একটি ইউনিটে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই চক্রটি মূলত উত্তর ভারতের সাধারণ মানুষকে টার্গেট করত। নামী ই-কমার্স সংস্থা বা নামজাদা ক্যুরিয়ার কোম্পানির এক্সিকিউটিভ সেজে তারা ফোন করত সাধারণ মানুষকে।
ক্যাশ অন ডেলিভারির নামে টাকার দাবি
জাল লোগো এবং নথি ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করার পর ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) অ্যাডভান্সের নাম করে টাকা চাওয়া হত। রিফান্ড বা ক্যাশব্যাকের লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হত গোপন তথ্য। এরপর সেই টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হত একাধিক ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
বিশাল ডেটাবেস বাজেয়াপ্ত
বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৪৭টি ফিক্সড ওয়্যারলেস ফোন, ৪৩টি মোবাইল ফোন, ১৪টি সক্রিয় সিম কার্ড, ১টি ল্যাপটপ, রাউটার এবং কয়েক হাজার মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের একটি বিশাল ডেটাবেস।

১৭ জন গ্রেফতার (Cyber Fraud)
এই ঘটনায় পুলিশ মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে ৮ জন পুরুষ এবং ৯ জন মহিলা। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম পাণ্ডা অভীক বোস, যে ইতিপূর্বেও সাইবার ক্রাইম মামলায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছিল।
আরও পড়ুন: EC Bike Ban: নির্বাচনের আগে কড়া দাওয়াই কমিশনের: রাজ্যে বাইক র্যালি ও চলাচলে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ
সচেতনতাই প্রধান অস্ত্র (Cyber Fraud)
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে: “কোনো অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে যদি অগ্রিম টাকা, রিফান্ড বা ক্যুরিয়ার চার্জ চাওয়া হয়, তবে সতর্ক হন। কোনও যাচাই না করে কাউকেই টাকা পাঠাবেন না। সাইবার অপরাধ রুখতে সচেতনতাই হল প্রধান অস্ত্র।”



