Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রাক্কালে (Srijato Arrest Warrent) নজিরবিহীন কড়াকড়ি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই আবহেই কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে পুরনো মামলায় গ্রেফতারির নির্দেশ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কমিশনের তরফে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্ররোচনার আশঙ্কা, সতর্ক কমিশন (Srijato Arrest Warrent)
নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটের সময় কোনওরকম উত্তেজনা (Srijato Arrest Warrent) বা অশান্তি এড়াতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অভিযোগ, কবির কিছু বক্তব্য বা লেখার জেরে জনমনে প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে পুলিশকে তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালের কবিতা ঘিরে বিতর্ক (Srijato Arrest Warrent)
এই মামলার সূত্রপাত (Srijato Arrest Warrent) ২০১৭ সালে। সেই সময় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথ দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রীজাত একটি ১২ লাইনের কবিতা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, যার শিরোনাম ছিল “অভিশাপ”। অভিযোগ ওঠে, ওই কবিতায় ব্যবহৃত কিছু শব্দবন্ধ হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। এর ভিত্তিতেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫এ ধারায় মামলা দায়ের হয়।
অভিযোগের সূত্র ও আইনি প্রক্রিয়া
শিলিগুড়ির বাঘডোগরার এক কলেজ পড়ুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই মামলার তদন্ত নিয়ে আদালতও সক্রিয় হয়। কলকাতা হাই কোর্ট পুলিশের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বর্তমানে সেই পুরনো মামলাই নতুন করে সামনে এসেছে এবং গ্রেফতারির নির্দেশ জারি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভোটের আগে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: Actor Sudip Sarkar: শুটিং চলাকালীন অসুস্থ অভিনেতা, কেমন আছেন সুদীপ?
তদন্তে তৎপর পুলিশ
আইনি নির্দেশ কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই পুলিশ সক্রিয় হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে যাতে ভোটের সময় কোনও অশান্তি বা উত্তেজনা তৈরি না হয়। সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানই এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
আজ সকাল থেকেই একটি খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে-‘ভোটের মুখে কবি শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে’। এই খবরটি সামনে আসতেই সাহিত্যিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কিন্তু এই খবরের সত্যতা নেই বলেই জানিয়ে দিল কমিশন। ভাইরাল হওয়া খবরটিতে দাবি করা হয়েছিল, পুরনো একটি কবিতা সংক্রান্ত মামলায় আদালতের নির্দেশে শ্রীজাতকে গ্রেফতার করতে চলেছে পুলিশ। এমনকি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি দিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতেই উঠে এল আসল সত্য।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা CEO-র পক্ষ থেকে টুইট করে এই খবরটিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘ভুয়ো’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কালিমালিপ্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই ধরণের মিথ্যে খবর রটানো হচ্ছে। যারা এই ধরণের ফেক নিউজ ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কমিশন।
এতো সব জল্পনার মাঝে শ্রীজাত নিজের ফেসবুক দেওয়ালে লিখেছেন, “আমার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খবরটা ভুয়ো নয়, একশো ভাগ সত্যি। আপাতত এটুকুই। বাকি কথা পরে হবে।”

(আমরাও এই খবরটির প্রাথমিক সূত্র খতিয়ে দেখছিলাম। কিন্তু প্রশাসনিক স্তরে যাচাই করার পর এটি নিশ্চিত যে, কবি শ্রীজাতর বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে এমন কোনো আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি পরোয়ানার খবর সত্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য সবসময় আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ধরণের উস্কানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর খবরে কান দেবেন না।)


