Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আমেরিকায় ইরানের বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে মুখ খুললেন ফিফা-র সভাপতি (Iran)।
কী বললেন ফিফা সভাপতি? (Iran)
যেকোন খেলা দুই দেশ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্প্রতি স্থাপন করে। তবে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির কারণে এবং কূটনৈতিক সমস্যার কারণে এর আগেও দেখা গেছে কোনও এক দেশ বিশ্বকাপের মত টূর্নামেন্ট মিস করতে। সম্প্রতি ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছিল ভারত এবং শ্রীলঙ্কায়। কিন্তু ভারতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে খেলতে আসতে অস্বীকার করে বাংলাদেশ। সেই সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল এই সিদ্ধান্তের কারণে। এবার সেই একই অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে ফুটবল ময়দানে। নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আবহ (Iran)।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে বাকি সব কিছুর মত প্রভাব পড়েছে ফুটবলেও। সামনে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে একদিকে যেমন উন্মাদনার পারদ চড়ছে সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনিশ্চিয়তা ইরানের খেলা নিয়ে। মার্কিন মুলুকে ইরানের ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার বিষয়ে এবার বড় বার্তা দিলেন ফিফা সভাপতি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো জানিয়ে দিলেন আমেরিকাতেই ফুটবল বিশ্বকাপ খেলবে ইরান (Iran)।

যুদ্ধের আবহে গোটা পৃথিবীর মধ্যে যে অনিশ্চিয়তার বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে তার থেকে বাদ যায়নি ময়দানও। আমেরিকায় ইরান দল পাথানো নিয়ে সংশয় থাকলেও ফিফা-র কথায় এবার স্পষ্ট রূপ পেল। ফিফা কংগ্রেসের ভাষণে ফিফা সভাপতি জানিয়ে দেন আমেরিকাতেই হবে তাদের ম্যাচ। তাঁর গলায় ছিল স্পষ্ট সুর। তিনি বলেন, ‘একটা বিষয় স্পষ্ট করতে চাই। আর সেটা হল আসন্ন বিশ্বকাপ ইরান আমেরিকাতেই খেলবে।’
তবে সংঘাত আবহে আমেরিকায় ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ইরান। গ্রুপ পর্বে তাদের তিনটি ম্যাচ রয়েছে মার্কিন মুলুকে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা আবেদন করেছিল ফিফা-র কাছে যে তাদের ম্যাচগুলি বাকি দুই আয়োজক দেশ কানাডা বা মেক্সিকোতে স্থানান্তিরত করা হোক। কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপের সূচিতে কোনও পরিবর্তন করতে রাজি হয়নি।

এশিয়ার অন্যতম সেরা দল হিসেবে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরান। এই নিয়ে ইরান টানা চার বার ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেবে। সূচি অনুযায়ী তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি ঞ্জেলেস এবং সিয়াটেলে খেলার কথা রয়েছে (Iran)।
এমনকি ফিফা কংগ্রেসেও সমস্যা তৈরি হয়েছিল ইরানকে নিয়ে। ইরানের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে একজনকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে তাঁরা ফিফা কংগ্রেস বয়কট করেন। ইরানের এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী তাঁরা ফিফা কংগ্রেসে অংশ না নিয়ে দেশে ফিরে গেছেন। এই দলের মধ্যে ছিলেন সংস্থার সভাপতি মেহদি তাজ, সচিব হেদায়েত মোমবানি ও সহ সচিব হামেদ মোমেনি।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় দলকে স্বাগত। কিন্তু আমি মনে করি না, এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওদের এখানে আসা উচিত।’ তার জবাবে ইরানের ফুটবল দলের পক্ষে বলা হয়েছিল, ‘কেউ ইচ্ছা হলেই ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না। বাদ দিতে হলে এমন একটি দেশকে বাদ দেওয়া উচিত, যারা শুধু আয়োজক। অথচ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব দলকে নিরাপত্তা দিতে পারে না।’
আরও পড়ুন: Mumbai Poone Missing Link: জনসাধারণের জন্য চালু বহু প্রতীক্ষিত মুম্বই–পুনে মিসিং লিঙ্ক
তবে এর আগে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছিলেন কূটনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব দিক ভাল করে খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে। এরপর আবার ইরানের উপর নতুন করে শর্ত চাপায় আমেরিকা। আমেরিকার বিদেশ সচিব বলেন, ‘ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপ খেলতে আমেরিকায় আসা নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। ইরানের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু দলের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডে কেউ থাকতে পারবেন না।’ তবে এত কাঠখড় পুড়িয়ে ইরান খেলতে আসবেই এই নিশ্চিয়তা এখনও নেই (Iran)।


