Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লিকে হারিয়ে টানা চার ম্যাচে জয় তুলে নিল নাইট বাহিনী (Finn Allen)।
প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকল কেকেআর (Finn Allen)
রাহুল ছাড়া যে দিল্লির গতি নেই সেটা আবার প্রমাণ হল ৮ মে। দিল্লিতে কেএল রাহুল হলেন ওয়ান ম্যান আর্মি। যে ম্যাচে রাহুল ব্যর্থ সেই ম্যাচে দিল্লি যে খারাপ পারফরম্যান্স করবে সেটা এক প্রকার প্রত্যাশিত। আর যা কিছু প্রত্যাশিত তাই অপরিবর্তনীয়। সেই বদল হল না কলকাতা বনাম দিল্লির ম্যাচে (Finn Allen)।
দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে তখন বেশিভাগ গ্যালারি জুড়ে দিল্লির পতাকা। সমর্থকরা গলা ফাটাচ্ছেন তাঁদের প্রিয় দলের হয়ে। কিন্তু টসের সময় ধাক্কা দিল্লির। টস জিতে কলকাতা ব্যাটিং করতে পাঠাল দিল্লিকে। কারণ হিসেবে রাহানে বললেন যে পিচের চরিত্র বুঝে নেওয়ার জন্য আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া। নাইট অধিনায়ক স্পষ্ট করে দেন তাঁদের লক্ষ্য। নাইট বোলারদের প্রধান দায়িত্ব অল্প রানে বেঁধে ফেলা অক্ষর প্যাটেলদের। আর সেটা বোলাররা করে দেখালেন দক্ষতার সঙ্গে।
দিল্লির বিরুদ্ধে এখন যেই দলই খেলুক না কেন তাঁরা জানে যে রাহুলের উইকেট তাঁদের প্রথম লক্ষ্য। রাহুল সেট হয়ে গেলে তিনি বড় রান করতে যে সক্ষম সেটা তখন নাইট বোলার অনুকূল রায়, কার্তিক ত্যাগীরা জানেন। আর সেই লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই সফল হয় বোলাররা। ২৩ রানে কার্তিক ত্যাগীর বলে ফিরে যান রাহুল। কলকাতা জানে তখনই ম্যাচের রাশ হাতে নেওয়ার সময় আর সেটা করতে কোনও ভুল করলেন না অভিষেক নায়ারের ছাত্ররা। ১৪২-এ থমকে যায় দিল্লির ইনিংস (Finn Allen)।

বড় ম্যাচের প্লেয়ার বলতে তাঁদের বোঝানো হয় যে বা যাঁরা সঠিক সময়ে দলের প্রয়োজনে জ্বলে উঠতে পারেন। দলকে জয়ের রাস্তায় নিয়ে যান দক্ষতার সঙ্গে। এই দিন ফিন অ্যালেন সেটাই করে দেখালেন। ৪৭ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকলেন এই নিউ জিল্যান্ড তারকা। আইপিএল-এ এটাই তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। শুরুর দিকে ব্যর্থতা কাটিয়ে অবশেষে তাঁর ব্যাটে দেখা গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঝলকানি। যে ঝলকানিতে চোখের সামনে অন্ধকার নেমে এল দিল্লির বোলারদের। কারণ অ্যালেন যে রুদ্র মূর্তিতে ব্যাট করছিলেন তাতে বলের ঠিকানা বারবার লেখা হচ্ছে গ্যালারির নামে।

দিল্লির পিচ নিয়ে প্রথম থেকেই সংশয় ছিল এবং এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল এই পিচে রান তুলতে বেগ পেতে হবে ব্যাটারদের। অ্যালেনও সেই কথা মেনে নিলেন। সেই কারণেই প্রথমে উইকেট কামড়ে তিনি পড়ে ছিলেন ক্রিজে। অ্যালেন বলেন, ‘শুরুতেই উইকেট হারানোয় আমাকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। প্রথমদিকে উইকেট কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাদের স্ট্র্যাটেজি ছিল ভাল জায়গায় পৌঁছে শেষপর্যন্ত ব্যাট করা। কঠিন সময় টিকে থেকে, নিজেকে একটা সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম। কয়েকটা ইনিংসে ভাল শুরু করেও, বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারিনি। হতাশ হয়েছিলাম। ব্যক্তিগত সাফল্য পেয়ে ভাল লাগছে (Finn Allen)।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি যে বিধ্বংসী ফর্মে ছিলেন সেখান থেকে মনে হচ্ছিল আইপিএল-এও শুরু থেকে তাণ্ডব করবেন ফিন। তবে শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি। বাদ পড়েন দল থেকে আর তাতেই শাপে বর হয় তাঁর। ভিতরে জেদের আগুনে ফুটতে থাকেন অ্যালেন তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে দিল্লির বিরুদ্ধে। অ্যালেন বলেন, ‘পরিস্থিতি তেমন হলে, নিজের ব্যাটিং ভুলে ফোকাস সিচুয়েশনে চলে যায়। আমি জানতাম আমাকে বেশিক্ষণ উইকেটে টিকে থাকতে হবে। সচরাচর ৪০ বল ক্রিজে টিকে থাকার ঘটনা খুব বেশি ঘটে না। কখনও বাদ পড়লে, দৃষ্টিকোণ বদলে যায়। মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়ে আবার ফেরা যায়। আমি নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ নিয়ে ফেলছিলাম।’
ধোনি আর কোহলি তখন মাঠে রয়েছেন। ধোনির কাছে স্ট্রাইক অন্যপ্রাতে বিরাট। বিরাট নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ফেলেছেন। ধোনির ফিনিসিং শট দেখার জন্য অপেক্ষারত সমর্থকরা। তবে ধোনি বরাবরই উল্টো পথের পথিক। শুধু মাত্র ডিফেন্স করে পরের ওভারের জন্য স্ট্রাইক দিলেন বিরাটকে। যে মাটি কামড়ে লড়াই চালিয়েছেন সেই যাতে খেলা ফিনিশ করতে পারেন। পরের ওভারে বিরাট চারে জয় হয় ভারতের। আর এই কারণেই এটা টিম গেম। শুধু ক্রিকেট নয় ফুটবলেও এক। কে কত গোল করলেন তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় অনেক সময় কে গোল করার জন্য নিখুঁত শটে গোল করার সুযোগ করে দিলেন। তেমনই এক দৃশ্য দেখা গেল কলকাতা বনাম দিল্লির ম্যাচে (Finn Allen)।
আরও পড়ুন: BJP Bengal: ২৫ বৈশাখেই বাংলায় শুরু বিজেপি যুগ, মোদি-শাহ উপস্থিতিতে ব্রিগেডে শপথ
ফিন অ্যালেনকে তাঁর আইপিএল-এ প্রথম সেঞ্চুরি করার সুযোগ করে দেন অজি তারকা ক্যামেরুন গ্রিন। জয়ের জন্য নাইটদের তখন প্রয়োজন ২ রান। সেই সময় গ্রিন এক রান নিয়ে ফিনকে সুযোগ করে দেন শতরানের। ফিন ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের শতরান পূর্ণের পাশাপাশি দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিলেন। কিউয়ি তারকার এই সাফল্যের দিনে খুশি অজি তারকা অলরাউন্ডার। গ্রিন বলেন, ‘বিশেষ শতরান। নন স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকার খুব বেশি সুযোগ পাওয়া যায় না। ফিন শুধু বলেছিল, পরের ওভারে দেখা হবে। আমি দ্বিতীয় ব্যাটারের ভূমিকা পালন করি। জানতাম ফিনকে শতরান করতে না দিলে, কলকাতায় আমাকে সবাই ঘৃণা করবে। এখান থেকে আমাদের প্রত্যেক ম্যাচ জিততে হবে (Finn Allen)।’


