Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জয় তুলে নিল বার্সেলোনা (FC Barcelona)।
দুরন্ত জয় বার্সেলোনার (FC Barcelona)
স্পেনের নানান ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে পরিচিত। এর পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে অন্যতম জনপ্রিয় স্প্যানিশ ফুটবল। আর সেই স্প্যানিশ ফুটবলের নাম বললেই সবার আগে দুই দলের কথা মাথায় আসে সেই দুটি দল হল রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা। যে ম্যাচের দিকে নজর থাকে ফুটবলপ্রেমীরা ছাড়াও সেই দেশের জনগণের (FC Barcelona)।
এই দুই ক্লাবের ধ্রুপদী লড়াই পরিচিত এল ক্লাসিকো নাম। তবে যদি ভেবে থাকেন যে এই লড়াই শুধুই ময়দানে হয় তবে সেটা আংশিক সত্য। বাকি সত্য লুকিয়ে আছে পর্দার আড়ালে। সেই সম্পর্কে যাঁরা অবগত তাঁরা জানেন যে এই লড়াইয়ের ইতিহাস বহু পুরনো। এই লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দুই ভিন্ন সংস্কৃতি এবং দুই ভিন্ন প্রদেশের রাজনৈতিক মতাদর্শ।

ফুটবলকে যে সবসময় রাজনৈতিক আঙ্গিকের বাইরে রাখা হবে তা বহু ক্ষেত্রে হয় না বা ফুটবলে রাজনীতি মেশানো হয়নি এটাও কোথাও গিয়ে আংশিক সত্য। কারণ বক্তব্যের স্বপক্ষে স্প্যানিশ ইতিহাস সায় দেয় না। অনেক সময় এই লড়াই শুধু দুই ক্লাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেটা গল্প বলে নানান চাওয়া-পাওয়ার, দুঃখ, ব্যর্থতার। তবে এই কথা কিছুটা জোরের সঙ্গে বলাই যে অবশেষে সেই কথা যখন উঠে আসে ফুটবলের ময়দানে তখন শেষ হাসি হাসে ফুটবল এবং আপামর ক্রীড়া জগৎ (FC Barcelona)।

সেখান থেকেই এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা মুখোমুখি হয়েছিল। এই ম্যাচ ড্র করে এক পয়েন্ট পেলেই জয় নিশ্চিত ছিল মেসির প্রাক্তন ক্লাবের কিন্তু তাঁরা দাপটের সঙ্গে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে রিয়ালের বিরুদ্ধে। এই ঐতিহ্যের এল ক্লাসিকোতে ২-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বার্সেলোনা। ক্লাসিকোর আগেই বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন দলের কোচ তবে ম্যাচ শেষে আবার তাঁর চোখে জল তবে এবারের কান্না ম্যাচ জয়ের আবেগের।

ভারতে যেমন ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা থাকে তুঙ্গে তেমনই উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকে এই দুই দলের লড়াই দেখতে। তবে মাঠের বাইরের নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ফেদেরিকো ভালভের্দে, অরিয়েল চুয়ামেনির মধ্যে ঝামেলা থেকে শুরু করে ড্রসিং রুমে ফাটল একাধিক বিতর্ক ছিল রিয়ালকে ঘিরে। তবে সব মিলিয়ে মাঠে নেমেও লাভ হয়নি, ঘরের মাঠে হারতে হল বার্সেলোনার বিরুদ্ধে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় বার্সেলোনা। ম্যাচের ৯ মিনিটের মধ্যেই রিয়ালকে গোল হজম করতে হয়। জোরালো শটে ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল করেন র্যাশফোর্ড (FC Barcelona)। ফ্রি-কিকে এমন গোল দেখে ফুটবলপ্রেমীদের মনে পরে যায় মেসির কথা। কারণ বার্সার হয়ে সেবার এল ক্লাসিকোতে ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল করেছিলেন এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা। সেটা ছিল ২০১২ আর কাট টু ২০২৬, সেই স্মৃতি ফেরালেন র্যাশফোর্ড।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ান তোরেস। বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠেন তিনি এবং ক্রস রাখেন হোয়াও কানসেলো। সেই বল নিয়ে দানি ওলমো আলতো বল বাড়িয়ে দেন তোরেসের দিকে। এই স্প্যানিশ উইঙ্গার বল বিপক্ষের গোলে জড়িয়ে দিতে কোনও ভুল করেননি। ১৮ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। রিয়ালের হয়ে সুযোগ নষ্ট করেন গন্সালো গার্সিয়া, ভিনিসিয়াসরা (FC Barcelona)।
আরও পড়ুন: India Forex: বিদেশ ভ্রমণ, সোনা কেনা কমাতে মোদির আবেদন, চাপের মুখে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার
দ্বিতীয় হাফে খেলার ছবি পাল্টায়। দুই দলের ফুটবলাররা ঝামেলায় ঝরান ৫০ মিনিটের মাথায়। ৬৩ মিনিটে রিয়ালের হয়ে গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম কিন্তু সেই গোল অফসাইদের কারণে বাতিল করা হয়। এরপর দুই দল বেশ কিছু সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে ২-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় বার্সেলোনা (FC Barcelona)।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দে ফেটে পড়েন বার্সা দল এবং সমর্থকরা। এই ম্যাচ জিতে ৯১ পয়েন্টে পৌঁছে যায় বার্সেলোনা। লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রাখা রিয়ালের সংগ্রহে রয়েছে ৭৭ পয়েন্ট ৩৫ ম্যাচ খেলে। বাকি তিনটি ম্যাচও যদি রিয়াল যেতে তবে তাদের পয়েন্ট হবে ৮৬। ফলে বার্সাকে টপকানো সম্ভব না। ফলে তিন ম্যাচ বাকি থেকেও লা লিগা চ্যাম্পিয়ন বার্সা। ২০২৪-২৫ এর পরে ২০২৫-২৬ মরশুমেও বার্সা খেতাব ধরে রাখল। ট্রফিহীন হয়েই মরশুম শেষ করল রিয়াল মাদ্রিদ (FC Barcelona)।


