Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দার্শনিক প্লেটোর দর্শনের উপর ভিত্তিকে নির্মাণ বলিউডের দুই বিখ্যাত সিনেমা (Plato)।
প্লেটোনিক দর্শন সিলভার স্ক্রিনে (Plato)
প্লেটোর এক দর্শনের সঙ্গে মিলে যায় বাস্তবের বহু ঘটনা। ধরা যাক বিখ্যাত হিন্দি সিনেমা ‘শোলে’। সেখানে গব্বর সিংয়ের উপদ্রবে গ্রামের প্রতিটা মানুষ জর্জরিত। শুধু লুঠ-পাঠ নয় মানুষের প্রাণ নিতেও সে দু’বার ভাবে না। এবার তাকে শাস্তি দিতে গ্রামে আসে জয়-বীরু, আর তাঁদের নিয়ে আসেন প্রাক্তন পুলিশ অফিসার ঠাকুর। টানটান সংলাপ আর দুরন্ত কিছু অ্যাকশন দৃশ্য দিয়ে সাজানো প্লট। তারপর শেষ পর্যন্ত ক্লাইম্যাক্স আসে এবং এটি পরিণত হয় একটা কাল্ট ক্লাসিকে। কিন্তু সেখানেই একটা বিশেষ দৃশ্যের অবতারণা না করলে লেখাটার প্রকৃত অর্থ বোঝানো যাবে না (Plato)।
ঠাকুরের ডাকে যখন গ্রামে আসে দুই বন্ধু, নাম করা চোর জয় এবং বীরু। সেখানে বীরু তথা ধর্মেন্দ্র প্রেমে পড়েন হেমা মালিনীর। তাঁকে ইমপ্রেস করতে বীরু এক পন্থা অবলম্বন করেন আর সেটা হল জয় বাগানের গাছে নিশানা করবে আর হেমা মালিনী সেই দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রেমে পড়বে বীরুর কারণ বীরু এখানে অভিনয় করবেন এমন যেন মনে হয় তিনিই নিশানা করছেন। এখানেই লুকিয়ে আছে একটা সূক্ষ লাইন যে লাইন গিয়ে মিশছে প্লেটোর সঙ্গে। এখানে বাসন্তী তথা হেমা মালিনীকে মুগ্ধ করতে ধর্মেন্দ্র অবভাসের আশ্রয় নিলেন। অর্থাৎ ঠকালেন।
আরেকটি অতি পরিচিত এবং বিখ্যাত সিনেমার উদাহরণ টেনে দেখা যাক। সেটা কিশোর কুমার, সুনীল দত্ত অভিনীত ‘পাড়োসান’। হাসির মোড়কে এক অনবদ্য প্রেম কাহিনী। সংক্ষেপে বলতে গেলে এখানে এক তীব্র সংকটের ছবি তুলে ধরা হয়েছে আর সেই সংকট প্রতারণার। প্রতিবেশিনী সায়রা বানু ওরফে বিন্দুকে মুগ্ধ করে নিজের ভালবাসায় বাঁধতে সুনীল দত্ত সাহায্য নিচ্ছেন বিদ্যাপতির। এই বিদ্যাপতি চরিত্রটি অভিনয় করেন কিশোর কুমার। খুব সহজ করে বললে কিশোর কুমার গাইবেন আর সুনীল দত্ত ওরফে ভোলা লিপ মেলাবেন। বিন্দু প্রেমে পড়ে ভোলার (Plato)।
তবে মিথ্যে যে বেশিদিন স্থায়ী হয় না সেটা সবাই জানে। এবার সিনেমায় উপস্থিত হন বিন্দুর বান্ধবী অনুরাধা। যে সত্যিটা তুলে ধরেন বিন্দুর সামনে। এই পর্যন্ত একটা সিনেমার গল্পই বটে কিন্তু এখানেও সেই বৃত্ত এসে মিলছে প্লেটোর সঙ্গে। আচ্ছা এতবার প্লেটো প্লেটো বলছি কিন্তু প্লেটোর সঙ্গে এই সবের মিলটা কোথায়?

আরও পড়ুন: FC Barcelona: রিয়ালকে উড়িয়ে এল ক্লাসিকোতে দাপুটে জয় বার্সেলোনার
এই সিনেমার ক্ষেত্রে বান্ধবী অনুরাধাকে আমার তুলনা করতে পারি দার্শনিক প্লেটোর সঙ্গে। যে মানুষকে অবভাসের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জগতের সত্য রূপের সামনে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। যেখানে গল্পে একটি আলো-ছায়া গুহার গায়ে রয়েছে অসংখ্য ছায়া, সেখানেই যেন বন্দী হয়ে রয়েছে আমাদের সকল ইচ্ছে। প্লেটোর গুহা সেই ইতিহাস চিন্তার ক্ষেত্রে যে আলোচিত রূপক সেই রূপকগুলিই রয়েছে সিনেমার গল্পে। সেখান থেকেই আবার জুড়ে যাচ্ছে আজকের বাস্তবের পরিস্থিতি। আমরা সেই অন্ধকার আর মিথ্যে দিয়ে দেখতে চাইছি কিন্তু সত্যের আলোকে বা সেই পন্থায় কেউ হাঁটছি না।
সব আলোর পিছনে এক অদৃশ্য আলো থাকে আর সেটা যতক্ষণ না দেখতে পারি ততক্ষণ সামনের আলো কাজ করে মরীচিকার মতন। আমরা কী দেখতে পাচ্ছি বা আমাদের কী দেখানো হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ হয় আসল হল আমরা যা দেখতে চাইছি সেটাই আমাদের দেখানো হচ্ছে বা বিক্রি করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের ভ্রম থেকে বেরিয়ে মানুষ খোঁজ পাবে আলোকের, এটাই প্লেটোর বহু দর্শনের মধ্যে অন্যতম দর্শন। (Plato)।


