Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সের পাশাপাশি এই দিন ধাক্কা খেয়েছে ব্যাঙ্ক নিফটি-ও (Sensex and Nifty50)।
ফের পতন স্টক মার্কেটে (Sensex and Nifty50)
‘যুদ্ধ যা কিছু করতে পারে, শান্তি তার থেকে আরও ভাল ভাবে সেটা করতে পারে’, কিন্তু এরপরেও যুদ্ধ হয়। আজ পৃথিবীর বুকে দগদগে দুই বিশ্বযুদ্ধের ঘা। সময়টা ১৯৪০ সালের ইংল্যান্ড। ২০২৬ সালে বসে সেই সময়টা ভাবা কিছুটা কঠিন। সেই সময় ইউরোপের আকাশে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে নাৎসি ফাইটার আর বোম্বার বিমান। প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের দক্ষ নেতৃত্ব ও পরিকল্পনায় ব্রিটেন তখনও ঠেকিয়ে রেখেছে জার্মান বাহিনীকে। চারদিকে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ আর সেই সময়েই ৯ অক্টোবর যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়ে জন্ম হল ফিনিক্স পাখির (Sensex and Nifty50)।
সেই নবজাতকের কান্না যেমন একদিকে বাজছে তেমন খবর আসছে যুদ্ধের বীভৎসতার। মা আদর করে তাঁর নাম রাখলেন উইনস্টন লেনন। পরবর্তীতে যিনি পরিচিত জন লেনন নামে। যুদ্ধের ভয়াবহতা যিনি উপলব্ধি করেছেন তিনিই যে ভালবাসার কথা বলবেন, যুদ্ধ থামার কথা বলবেই সেটাই কালের অমোঘ নিয়ম। আর সেই লেনন একদিন লিখে ফেললেন, ‘Imagine all the people, living life in peace’. যুদ্ধ নয় শান্তি চাই সেই বার্তাই দিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু এই সময়েও বিশ্ব যুদ্ধের আগুনে উত্তপ্ত। পশ্চিম এশিয়ার অশান্তি কমবেশি থাবা বসিয়েছে সব জায়গায় আর সেখান থেকে ছাড় পায়নি স্টক মার্কেট।
সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেও বড় ধাক্কা খেল স্টক মার্কেট। সোমবার সেনসেক্স পড়েছিল ১৩০০ পয়েন্টের মত আর মঙ্গলবার ১১ টার আগেই সেনসেক্স পড়ে ৮০০ পয়েন্টের বেশি। অন্যদিকে নিফটি৫০ ২০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে। ধাক্কা খেয়েছে ব্যাঙ্ক নিফটি। এই সূচক পড়েছে ৫০০ পয়েন্টের বেশি (Sensex and Nifty50)।
বিশ্লেষকদের মতে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ার কারণে ধাক্কা খেয়েছে দালাল স্ট্রিট। ক্রমাগত বিদেশি লগ্নি বেরিয়ে যাওয়া এবং সামগ্রিক ভাবে বিশ্ব বাজারেও এই ধাক্কা লাগে এই পরিস্থিতি ভারতে। এখন পর্যন্ত NSE-তে অধিকাংশ সেক্টর ধাক্কা খেয়েছে। শুধু লাভের মুখ দেখছে মেটাল, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সেক্টর। PSU ব্যাঙ্ক সেক্টরও পরিস্থিতি ভাল। সবথেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে নিফটি মিড ক্যাপের মত সূচক।
শুধু এখনও পর্যন্ত ভাল রিটার্ন দেখা গিয়েছে ONGC, হিন্দুস্তান জিঙ্ক, বেদান্ত, Hindalco, পিডিলাইট ইন্ডাস্ট্রিজ়, Tata Steel-এ। একাধিক আইটি স্টকে ধাক্কা লেগেছে মারাত্মক। সেই তালিকায় রয়েছে টিসিএস, ইনফোসিস-এর মত বড় বড় সংস্থা। দাম পড়েছে আদানি পাওয়ারেরও।
আরও পড়ুন: Gold Market: ১ বছর সোনা না কিনলে কী হবে? মোদির আহ্বানে অর্থনীতিতে কী বদল হতে পারে?
কেন সংকট ভারতের স্টক মার্কেট?
- আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনও রকম উন্নতি না হওয়া। আপাত সংঘর্ষ বিরতি হলেও এখন পর্যন্ত শান্তি ফেরার কোনও নিশ্চিয়তা নেই। আর এই কারণে রক্তক্ষরণ অব্যাহত রয়েছে দালাল স্ট্রিটে।
- লাগামছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও পড়েছে শেয়ার মার্কেটের উপর। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ১০০ ডলারের বেশি। এর কারণে চাপ দেখা গিয়েছে অভ্যন্তরীণ বাজারে।
- এর পাশাপাশি টাকার ক্রমাগত পতন চিন্তার বড় কারণহয়ে দাঁড়াচ্ছে শেয়ার মার্কেটের। বিশেষ করে গত এক বছরে ডলারের তুলনায় রেকর্ড পতন হয়েছে ভারতীয় মুদ্রার। এর সঙ্গে বিদেশি লগ্নি ক্রমাগত বেরিয়ে যাওয়ার কারণে নেগেটিভ সেন্টিমেন্ট পড়েছে বাজারের উপর। এখান থেকে কবে বা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে শেয়ার মার্কেট সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না বিশ্লেষকরা (Sensex and Nifty50)।


