Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন পৌর এলাকায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দুর্নীতি এবং পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে (Chandannagar)। সেই আবহেই এবার চন্দননগরে পথে নামল “সংযুক্ত নাগরিক কমিটি”। চার দফা দাবিকে সামনে রেখে চন্দননগর পৌরনিগমে ডেপুটেশন জমা দিলেন কমিটির সদস্যরা। মিছিল চলাকালীন তৃণমূল কর্মীদের দেখেই “চোর চোর” স্লোগান ওঠায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয় গোটা এলাকায়।

চন্দননগরে বাড়ছে অসন্তোষ (Chandannagar)
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন পুরসভা ও পৌরনিগমে পুরনো বোর্ডের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। চন্দননগরেও দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সমস্যা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমছিল। রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল থেকে শুরু করে একাধিক পরিষেবা নিয়ে নাগরিকদের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে থাকে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই চন্দননগর পৌরনিগমের ভিতরেও শুরু হয় অস্থিরতা। পৌরনিগমের ২১ জন কাউন্সিলর ডেপুটি মেয়র মুন্না আগারওয়ালের বিরুদ্ধে সরব হন এবং মেয়র রাম চক্রবর্তীর কাছে লিখিত ডেপুটেশন জমা দেন।
মুন্না আগারওয়ালের পদত্যাগ ঘিরে চাঞ্চল্য (Chandannagar)
ডেপুটেশন জমা পড়ার পরপরই ডেপুটি মেয়র মুন্না আগারওয়াল নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সেই পদত্যাগ গৃহীতও হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চন্দননগরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে মুন্না আগারওয়ালের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি। পাশাপাশি বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও সামনে আসে। যদিও সমস্ত অভিযোগের জবাবে মুন্না আগারওয়াল পাল্টা প্রশ্ন তোলেন রাজনৈতিক মহলের দিকেই। তার বক্তব্য, “যতদিন বিধায়ক ছিলেন, ততদিন তো কেউ মুখ খোলেনি। তখন তো সকলে একসঙ্গে সেলফি তুলেছেন, বোর্ড মিটিং করেছেন, একান্তে বৈঠক করেছেন। তখন কেন কেউ কিছু বলেননি? আজ কেন বলা হচ্ছে?” তিনি আরও বলেন, “সারা রাজ্যে আমরা হেরে গিয়েছি। আমি মনে করি মানুষের কাছে আমরা পৌঁছতে পারিনি। সেই কারণেই এই পরাজয়। তাই আমি পদত্যাগ করেছি।”

‘অন্যায় করলে শাস্তি হবেই’ (Chandannagar)
এই ঘটনার পর চন্দননগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যারা অন্যায় করেছেন তারা কেউ রেহাই পাবেন না। যে যতই সেটিং করার চেষ্টা করুক না কেন, আমি যতদিন চন্দননগরে আছি কোনও সেটিং চলবে না। দোষ করলে শাস্তি পেতেই হবে।” তার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে পৌরনিগমের ভেতরে দুর্নীতি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংযুক্ত নাগরিক কমিটির মিছিল ঘিরে উত্তেজনা (Chandannagar)
শনিবার সকালে সংযুক্ত নাগরিক কমিটির কর্মী ও সমর্থকেরা মিছিল করে চন্দননগর গেটের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে তারা পৌরনিগমের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান পুরো এলাকা কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিছিল চলাকালীন তৃণমূল কর্মীদের দেখতে পেয়েই আন্দোলনকারীদের একাংশ “চোর চোর” স্লোগান দিতে শুরু করেন। যার ফলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে প্রতিনিধি দল চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তীর হাতে চার দফা দাবি সম্বলিত ডেপুটেশন জমা দেয়।

আরও পড়ুন: Professor Arrest: প্রশ্ন ফাঁসের টোপ, ছাত্রীকে ‘ডার্লিং’ সম্বোধন! পুলিশের জালে অধ্যাপক
কী রয়েছে চার দফা দাবিতে?
যদিও আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, সূত্রের খবর নাগরিক পরিষেবা, দুর্নীতির তদন্ত, পৌর প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়গুলিকেই মূলত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত নাগরিক কমিটির দাবি, চন্দননগরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় ভুগছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বহু অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তাই এবার সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ে সরাসরি পথে নেমেছেন।



