Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইডেনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে কলকাতাকে প্রথম ব্যাট করতে পাঠান গুজরাট অধিনায়ক গিল (KKR vs GT)।
খাতায় কলমে প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখল কলকাতা (KKR vs GT)
কলকাতার আবহাওয়া এই মুহূর্তে বেশ উত্তপ্ত। বাইরে মৃদু হাওয়া দিলেও সেই হাওয়া যেন পরিণত হচ্ছে উত্তেজনার চোরাস্রোতে। রাত পোহালেই মেগা ডার্বি আর তার আগেই ক্রিকেটের নন্দন-কাননে মুখোমুখি কলকাতা নাইট রাইডার্স আর গুজরাট টাইটান্স। গ্যালারি তখন দুই যুদ্ধের উত্তেজনায় কাঁপছে (KKR vs GT)। তবে আজ কলকাতার সমর্থকদের হতাশ হতে হল না। ম্যাচ জিতে প্লে-অফের ক্ষীণ আশা এখনও বাঁচিয়ে রাখল নাইট বাহিনী।
এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন গুজরাট অধিনায়ক শুভমন গিল। তবে এই মাঠের সঙ্গে গিলের পরিচয় বহু পুরনো। ক্রিকেটের নন্দন-কাননই হতে পারত গিলের দ্বিতীয় ঘরের মাঠ। কলকাতার ইডেন থেকেই যেন নতুন করে পথচলা শুরু হয়েছিল গিলের। আজ কোথাও কেকেআর-এর বিরুদ্ধে ইডেনে ম্যাচের সময় গিলের স্মৃতি যেন ঘুরে বেড়াল রূপকথার উপত্যকায় তবে সেই উপত্যকা কিছুটা যেন ট্র্যাজিক। তবে প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চিও জমি যে তিনি ছাড়েন না তার সাক্ষী থেকেছে ক্রিকেটবিশ্ব। এই ম্যাচে নাইট দলের হয়ে অভিষেক হয় লঙ্কান তারকা পাথিরানার (KKR vs GT)।

আরও পড়ুন: R G Kar: আরজি কর – এ অভিজিৎ গাঙ্গুলির হঠাৎ পরিদর্শন
এই ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই একই সঙ্গে ঘটল দুটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ক্রিকেটের নন্দন-কানন তথা ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতার এটা আইপিএল-এ ১০০ তম ম্যাচ। আরেকটি রেকর্ড গড়লেন অন্যতম নাইট তারকা সুনীল নারিন। বিদেশি প্লেয়ার হিসেবে খেলে ফেললেন নিজের ২০০টি আইপিএল ম্যাচ।

গুজরাটের বিরুদ্ধে শুরুটা খুব বেশি ভাল হল না আজও। ৪৪ রানেই ভেঙে যায় ফিন অ্যালেন ও রাহানে জুটি। নাইট অধিনায়ক রাহানে ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন। তাঁকে সাজঘরে ফেরানোর কাজটা করেন সিরাজ। রাহানের উইকেট নিয়ে সিরাজ নিজের টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারের ২০০ উইকেট নেওয়ার মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন (KKR vs GT)।

ফিন অ্যালেন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট করতে থাকেন। অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের স্কোর বোর্ড এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন অ্যালেন (KKR vs GT)। অ্যালেনের কাছে এই ম্যাচ বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে কারণ এটা তাঁর ইডেনে প্রথম অর্ধশতরান।
ব্যাট হাতে একাই শুরু থেকে ঝড় তোলেন। শনিবার গুজরাটের বিরুদ্ধে ১০টা ছক্কা হাঁকিয়ে রেকর্ড গড়লেন ফিন। আইপিএল-এর ইতিহাসে ১০ বা তার বেশি ছক্কা মারা ব্যাটারদের তালিকায় নাম লেখালেন এই নিউ জিল্যান্ড তারকা। ৩৫ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেললেন আর সেটা স্মরণীয় হয়ে থাকল ইডেনে।
এরপর চলতে থাকে রঘুবংশী ও গ্রিন ঝড়। অ্যালেন আউট হওয়ার পর রানের গতি মন্থর হতে দেননি এই দুই ব্যাটার। রঘুবংশী উইকেট ধরে রাখার কাজ করতে থাকেন আর গ্রিন দ্রুত রান যোগ করতে থাকেন স্কোর বোর্ডে।
দুজনের দাপটে ১৭ ওভারে ২০০ রান পার করে কলকাতা। শেষ দিকে ব্যাট হাতে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন রঘুবংশী। তিনি শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৭টি ছয় এবং ৪টি চারে। অন্যদিকে গ্রিনও ৪টি ছয় এবং ৩টি চারের সাহায্যে ২৮ বলে ৫২ রানে নট আউট থাকেন।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের বড় স্কোর তোলে কলকাতা নাইট রাইডার্স। গুজরাটের বিরুদ্ধে গোটা ইনিংসে নাইট ব্যাটাররা মোট ২২টি ছক্কা হাঁকান (KKR vs GT)।
এভারেস্ট সমান রান তাড়া করতে নেমে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন সাই সুদর্শন। তবে নিজের প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন শুভমন গিল। তার সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দেন বাটলার। দুই ব্যাটার তখন কলকাতার বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়।
নাইট বোলাররা কেউই তেমন দাগ কাটতে পারেননি। ৪৯ বলে ৮৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন গুজরাট অধিনায়ক গিল। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ৭টি ছয় এবং ৫টি চার দিয়ে। ৩৫ বলে ৫৭ করে আউট হন বাটলার। সাই সুদর্শন এরপর আবার মাঠে নেমে লড়াই চালিয়ে যান কিন্তু পাহাড় প্রমাণ রানের কাছে পরাজয় মেনে নিতে হল তাঁকে। তবে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন তিনি। ম্যাচ হারলেও মন জিতে নিলেন সাই সুদর্শন। ২৯ রানে ম্যাচ জিতে কলকাতা এই মুহূর্তে পয়েন্ট টেবিলে একটা ধাপ উঠে সাত নম্বরে থাকল (KKR vs GT)।


