Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের শিরোনামে উঠে এসেছে বহুচর্চিত আরজি কর কাণ্ড (Aniket Mahata)। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে ক্ষোভ, আন্দোলন এবং প্রশ্নের জন্ম হয়েছিল, সেই মামলাতেই এবার বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তিন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার, বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আরজি কর মামলার ফাইল নতুন করে খোলার কথাও জানানো হয়েছে। এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। প্রশ্ন উঠছে, এতদিন যে তদন্ত নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল, এবার কি সত্যিই সেই রহস্যের জট খুলবে?

আন্দোলনের মুখ অনিকেত মাহাতোর বিস্ফোরক মন্তব্য (Aniket Mahata)
আরজি কর কাণ্ডের পর জুনিয়র ডাক্তারদের যে ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার অন্যতম মুখ ছিলেন চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। দীর্ঘ অনশন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। কে টিভি ডিজিটালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শুধুমাত্র সাসপেনশন যথেষ্ট নয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে গ্রেফতারও হওয়া উচিত। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “যদি তিনজন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই, তারা কেন তদন্তে গাফিলতি করলেন? কার নির্দেশে করলেন? কেন প্রমাণ ট্রাম্প-এর অভিযোগ উঠল?” অনিকেতের দাবি, গোটা ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। অথচ এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র সঞ্জয় রায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তের গতি কেন থমকে গেল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
অভিযোগে ফের চাপের মুখে তদন্তকারী সংস্থা (Aniket Mahata)
জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের শুরু থেকেই একটি বড় অভিযোগ ছিল, ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। অনিকেত মাহাতো সাক্ষাৎকারে বলেন, কলকাতা পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত নিয়েই তাঁদের গভীর সন্দেহ ছিল। সেই কারণেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। তিনি দাবি করেন, সিবিআই তাদের প্রাথমিক চার্জশিটে প্রমাণ বিকৃত করা এবং তদন্তে গাফিলতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিল। এমনকি সন্দীপ ঘোষ এবং তালা থানার ওসিকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেসম্পূরক চার্জশিট জমা না দেওয়ায় তাঁরা জামিন পেয়ে যান। অনিকেতের বক্তব্য, “একুশ মাস কেটে গেলেও এখনও সম্পূরক চার্জশিট জমা পড়েনি। কেন দেরি হচ্ছে? কারা তদন্তকে প্রভাবিত করছিল?”

নতুন সরকারের কাছে বড় প্রত্যাশা (Aniket Mahata)
রাজ্যে এবং কেন্দ্রে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকায় এবার তদন্তে আর কোনও “প্রশাসনিক বাধা” থাকবে না বলেই আশা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। অনিকেত মাহাতোর মতে, অতীত সরকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল, তদন্তকে প্রভাবিত করা বা খামতি রেখে দেওয়া, এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই। তার কথায়, “এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। তাহলে মানুষের প্রত্যাশা থাকবেই যে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।” তিনি আরও বলেন, প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া, evidence tampering-এর সঙ্গে কারা যুক্ত ছিল তা প্রকাশ করা এবং কার নির্দেশে তদন্তে গাফিলতি হয়েছে, এসবের উত্তর জনগণ জানতে চায়।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নামও কি উঠে আসতে পারে? (Aniket Mahata)
সাক্ষাৎকারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে, তদন্তে কি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নামও উঠে আসতে পারে? এই প্রসঙ্গে অনিকেত মাহাতো সরাসরি কোনও নাম উল্লেখ না করলেও বলেন, আমরা সত্য জানতে চাই। তদন্তে যার নাম আসবে, সে-ই সামনে আসবে। সত্যের সন্ধানে গিয়ে যদি কোনও বড় নাম উঠে আসে, সেটাও সামনে আসুক।” এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি।
আরও পড়ুন: NEET Re exam Date: বাতিল নিটের নতুন তারিখ ঘোষণা হল

শুধু এক মামলার প্রতিবাদ নয়
২০২৪ সালের আরজি কর কাণ্ড শুধু একটি অপরাধের বিচার চাওয়ার আন্দোলন ছিল না। এটি হয়ে উঠেছিল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক ক্ষোভের প্রতীক। রাতের পর রাত পথে নেমেছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। হাসপাতালের করিডর থেকে রাজপথ, সব জায়গাতেই শোনা গিয়েছিল একটাই দাবি, “ন্যায়বিচার চাই”। অনিকেত মাহাতোদের মতো তরুণ চিকিৎসকরা সেই আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, একজন তরুণী চিকিৎসকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষেরও বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা ফিরবে।



