Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গুজরাট বাহিনীকে ধুলোয় মিশিয়ে দাপুটে জয়ের সঙ্গে ফাইনালের টিকিট কনফার্ম করল বেঙ্গালুরু ( RCB vs GT)। টানা দুইবার আইপিএল-এর ফাইনালে আরসিবি।
আরসিবি-র দাপুটে জয় (RCB vs GT)
শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বের খেলা। বেঙ্গালুরু, গুজরাট, হায়দরাবাদ এবং রাজস্থান জায়গা করে নিয়েছে শেষ চারে। ভারতে এমনিতেই ক্রিকেট নিয়ে বাড়তি উন্মাদনা কাজ করে আর সেটা যখন আইপিএল-এর কোয়ালিফায়ার তখন সেই উন্মাদনার পারদ মাপা যায় না কোনও মিটারে। সেই প্রথম কোয়ালিফায়ার-এ মুখোমুখি বেঙ্গালুরু এবং গুজরাট (RCB vs GT)।
পাহাড়ের কোলে যখন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে সেই সময় সমর্থকদের চিৎকারে যেন সেই সব পূর্বাভাস হারিয়ে গেছে পাহাড়ের কোলেই। সেখান থেকে শুধু বারবার প্রতিধ্বনিত হতে শোনা যায় সমর্থকদের সমর্থিত দলের নাম। কারোর মুখে বিরাট স্তুতি তো আবার কারোর মুখে গিলের নাম। দুজনেই ভারতের অন্যতম তারকা হলেও আজকের ম্যাচে দুজন দুজনের বিপক্ষ।
‘আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণী। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ’, ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাহায্য নিতে হল আজ বেঙ্গালুরুর জেতার উপখ্যান লেখার জন্য। একদিকে যেমন রজত ঝড় তেমন বোলারদের দাপট আর তাতেই ছত্রভঙ্গ গুজরাট বাহিনী। দাপটের সঙ্গে গুজরাটকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল আরসিবি।
মাঠের হেন কোনও দিক নেই যেই দিকে রজত বল পাঠাননি। আজ তিনি যেন মুক্ত বিহঙ্গ, যেখানে খুশি যেমন খুশি শটে গুজরাটকে নিয়ে ছেলেখেলা করলেন। প্রথম দিকে যে বোলারদের মনে হচ্ছিল যথেষ্ট বাধা তৈরি করবেন সেই হোল্ডার, রশিদ খানদের মনে হচ্ছিল পাড়ার বোলার। এক ওভারে আফগানিস্তান তারকা বোলার রশিদ খানকে তিনটে ছয় মারতে কোনও কার্পণ্য করলেন না বেঙ্গালুরু অধিনায়ক এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া। (RCB vs GT)।

আরও পড়ুন: Annapurna Bhandar: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পাবলিশ কবে? প্রশাসনিক বৈঠক থেকে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
প্রথম উইকেট হারিয়েও খুব একটা সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি বেঙ্গালুরুকে। বিরাট কোহলি এবং দেবদত্ত খেলার গতি বাড়িয়ে পাওয়ার প্লে-তে ৭৬ রান যোগ করেন স্কোর বোর্ডে। চলতি মরশুমে যা আরসিবি-র সর্বোচ্চ।
আজকের ম্যাচেও হোল্ডারের বলে ইনসাইড এজ লেগে সাজঘরে ফেরেন কোহলি। ৪৩ রানে থামে বিরাট ইনিংস। আগের ম্যাচেও একই লেংথের বলে একই রকম আউট হয়েছিলেন কোহলি। যা তাঁর জন্য কিছুটা চিন্তা বাড়াবে। এরপরেই আবার হোল্ডার ধাক্কা হানেন ৩০ রানে দেবদত্তকে ফিরিয়ে (RCB vs GT)।
এক সময় গুজরাটের থেকে মনে হচ্ছিল খেলার রাশ বেরিয়ে যাচ্ছে সেই সময়ই জোড়া উইকেট আবার সেই রাশ ফিরিয়ে আনেন হোল্ডার। তখন গুজরাট সমর্থকদের উল্লাস পাহাড় ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের কোণায়। কিন্তু…
প্রতিটা কিন্তুর পর থাকে নতুনের সূচনা। সেই সূচনা করেন অধিনায়ক রজত পতিদার। গুজরাটের বোলারদের একের পর এক আঁচড়ে ফেলতে থাকেন পাহাড়ের খাদের কিনারে। অন্য প্রান্তে যোগ্য সঙ্গত দিতে থাকেন ক্রুনাল পান্ডিয়া। তিনিও ঝোড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যেতে থাকেন। একদিকে যখন হার্দিক পান্ডিয়া মুম্বইয়ের হয়ে ব্যর্থ সেই সময় তাঁর সহোদর ক্রুনাল উজ্জ্বল বেঙ্গালুরুর জার্সিতে।
ম্যাচের গতি-প্রকৃতি পাল্টে যায় এই দুই ব্যাটারের তাণ্ডবে। টানটান উত্তেজনায় দর্শকরা দেখছেন চার ছয়ের বন্যা আর আরসিবি-কে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন রজত। ২৮ বলে ৪৩ করে ক্রুনাল আউট হলেও তাণ্ডব চালিয়ে যান রজত পতিদার। মাত্র ৩৩ বলে ৯৩ রানে অপরাজিত থেকে দলকে পৌঁছে দেন ২৫৪ রানে। তাঁর ইনিংস এই দিন সাজানো ছিল ৯টি ছয় এবং ৫টি চার দিয়ে (RCB vs GT)।
আরসিবি অধিনায়ক রজত যেন বার্তা দিলেন জাতীয় দলের নির্বাচকদের। যেখানে বারবার ঋতুরাজ, বৈভব বা বাকি প্লেয়ারদের জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার কথা হচ্ছে সেই তালিকায় যে তীব্র দাবিদার সেটাই বুঝিয়ে দিলেন রজত পতিদার। আইপিএল-এর ইতিহাসে প্লে-অফে অধিনায়কের এমন ইনিংস এর আগে খুব কম দেখা গেছে বা দেখা গেছে কিনা এখন সেটাও খুঁজতে হবে।
ব্যাট করতে নেমে গুজরাট ব্যাটারদের জন্য শব্দ খরচ না করাই ভাল। প্রথম থেকেই পরপর উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যায় গিল বাহিনী।
বেঙ্গালুরু ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলারদের দাপট ছিল সমান। তাঁদের আগুনে স্পেলের সামনে ধরাশাই হতে থাকেন মহারথীরা। সাই সুদর্শন ১৪ আর বাটলার ২৯ ছাড়া কোনও টপ অর্ডার ব্যাটার ১০-র গন্ডি পার করতে পারেনি। শেষ দিকে রাহুল তেওয়াটিয়া একা দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন তবে ততক্ষণে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ হয়ে গেছে। আজ গুজরাটের প্রাপ্তি হয়ে থাকবে রাহুলের ব্যাটিং।
এখানেও আসে আবার দ্বিতীয় কিন্তু। কারণ এখান রাহুল নিজের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বেঙ্গালুরুর বোলারদের দিশা ভুলিয়ে দেন। যদি অন্য কোনও ব্যাটার কিছুটা সঙ্গ দিতেন তবে এই ম্যাচের ফলাফল বদলে গেলেও যেতে পারত আর সেটা না হলেও শেষ পর্যন্ত টানটান এক ম্যাচের সাক্ষী থাকত সমর্থকরা। ৬৮ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে আউট হন রাহুল। এক তরফা ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এখন বেঙ্গালুরুর অপেক্ষা দ্বিতীয়বার খেতাব জয়ের। আরসিবি-র হয়ে জ্যাকব ডাফি নেন ৩ উইকেট। সালাম দার, ক্রুনাল এবং ভুবি নেন নেন ২ উইকেট (RCB vs GT)।


