Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পোস্টারে রুদ্রনীলের উপস্থিতিই কি ছবি পিছানোর মূল কারণ? ছবি মুক্তির জন্য কত অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়েছিল (Jayabrata Das)? স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে মিটিংয়ে ঠিক কী ঘটেছিল? ‘যে অনুপ্রেরণা পেয়েছি সেই অনুপ্রেরণা থেকেই পরের কাজ করব’, টলিউডের নোংরা রাজনীতি নিয়ে অকপট পরিচালক জয়ব্রত দাস। অনেকগুলো প্রশ্ন তার অনেকগুলো উত্তর হয় কিন্তু সন্ধান মেলে না।

২৫ সালের ১৪ নভেম্বর মুক্তি (Jayabrata Das)
হল ভরিয়ে দর্শক ছবি দেখেছে ‘দ্য অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টস। ২৫ সালের ১৪ নভেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল এই ছবির। তবে মুক্তির ঠিক মুখে এসেই টলিউডের অন্দরের রাজনীতির বেড়াজালে আটকে যায় ছবিটি। শেষ পর্যন্ত এক সপ্তাহ পিছিয়ে গত ২১ নভেম্বর মুক্তি পায় এই সিনেমা। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম মেকার হিসেবে এটিই জয়ব্রত দাসের প্রথম ছবি। স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে গোপন মিটিং থেকে শুরু করে টলিউডের নোংরা রাজনীতির শিকার হওয়া সমস্ত বিষয় নিয়ে এবার মুখ খুললেন পরিচালক জয়ব্রত দাস।
পাল্প ঘরানার কাজ (Jayabrata Das)
বাংলা সিনেমায় পাল্প ঘরানার কাজ খুবই বিরল (The Academy of Fine Arts)। কিন্তু জয়ব্রত দাস পরিচালিত ‘দ্য অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টস’ যেন সেই শূন্যস্থানকে এক লাফে পূরণ করতে চায়। শুরুতে প্রায় কমেডির ছলে চলা গল্প কখন যে রক্তাক্ত নৃশংসতায় ঢুকে যায়, আর কখন যে দর্শক অস্বস্তিতে চমকে ওঠেন বুঝতেই দেন না পরিচালক। দু’টি পুরনো বাংলা প্রবাদ, ‘নেপোয় মারে দই’ এবং ‘যার ভাগ্যে যে খায়’ এই দুটোই যেন অদ্ভুতভাবে প্রযোজ্য হয়ে ওঠে এই ছবির মর্মে। কোনো বস্তু পাওয়া গেলেও তা অধরা থেকে যেতে পারে এটাই ছবির মূল সুর।

যে ‘বস্তু’ পুরো গল্প চালায় (Jayabrata Das)
আলফ্রেড হিচককের চলচ্চিত্রভাষায় ‘ম্যাকগাফিন’ হলো এমন এক বস্তু বা লক্ষ্য, যাকে কেন্দ্র করেই গল্পের বাঁক-বদল ঘটে, অথচ সেটা দর্শকের কাছে শেষপর্যন্ত খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই ছবির ম্যাকগাফিন একটি মদের বোতল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক শোনা যায়, বোতলটি নাকি স্তালিনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি, এবং এটির বর্তমান মূল্য প্রায় কুড়ি কোটি টাকা। বোতলটি চুরি হয়ে গেলে কলকাতার দোর্দণ্ডপ্রতাপ মস্তান কিমলিং তাকে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: Smart Border: স্মার্ট বর্ডার প্রকল্পে জোর শাহের, ‘প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করতে হবে’
চরিত্ররা কেন সকলেই শিল্পী?
ছবির প্রতিটি চরিত্রই কোনো না কোনো শিল্পকলায় দক্ষ। তাদের এই শিল্প কারও কাছে অভিশাপ, কারও কাছে পরিচয়। আর তাই ছবির নাম ‘দ্য অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টস’। দীনবন্ধু মিত্র: কথক, শিল্পী, আর এক সম্ভাব্য জ্যাঙ্গো রুদ্রনীল ঘোষের অভিনীত এই চরিত্রের নামের মধ্যেই রয়েছে ইঙ্গিত। দীনবন্ধু মিত্র যাঁর ‘নীলদর্পণ’ নাটকে বর্ণিত নীলকণ্ঠ বা ‘জ্যাঙ্গো’দের অত্যাচারের ইতিহাস। আবার টারান্টিনোর ‘জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড’ এরও যেন স্মৃতি জাগে নামের মধ্যেই। তিনি ছবির বর্ণনাকার দর্শক তাঁর চোখ দিয়েই সব দেখেন। রসিকতা, আত্মদ্বন্দ্ব, ভয়, রাগ সবটাই অনায়াসে ফুটিয়ে তুলেছেন রুদ্রনীল।



