Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত কথিত সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে শনিবার তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন।

শান্তিনিকেতনে পৌঁছয় সিআইডির দল (Abhishek Banerjee)
শনিবার দুপুর প্রায় ১টার পর চার সদস্যের একটি সিআইডি দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতন এলাকার বাসভবনে পৌঁছয়। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে বাড়ির গেট খোলা হয়নি বলে জানা যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বাড়ির এক কর্মী স্মরণজিৎ দে বাইরে এসে সিআইডি আধিকারিকদের জানান যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যই বর্তমানে সেখানে নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি শান্তিনিকেতনে থাকি না। আমার সঙ্গে দেখা করতে হলে কালীঘাটের বাড়িতেই আসতে হবে। আমার কাছে কোনও নোটিস আসেনি। কেন সিআইডি এসেছে, আমি জানি না। কোনও নোটিস পাইনি। ইডি-সিবিআইয়ের কাছে মাথা নত করিনি, সিআইডি কী?”
তারপর কালীঘাটের বাড়িতে তদন্তকারীরা (Abhishek Banerjee)
শান্তিনিকেতন থেকে ফিরে সিআইডির দল দুপুর আড়াইটে নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছয়। সেখানেই তাঁকে নোটিস দেওয়া হয় বলে জানা যায়। সূত্রের খবর, বিধানসভায় পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবপত্রে সই জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই এই নোটিস প্রদান করা হয়েছে। যদিও প্রথমে শান্তিনিকেতনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক।

সই জালিয়াতি বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? (Abhishek Banerjee)
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে জয়ী বিধায়কদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-কে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয় বলে জানা যায়। কিন্তু বিতর্কের সূত্রপাত হয় এই প্রশ্ন ঘিরে যে, বৈঠকে উপস্থিত না থাকা বেশ কয়েকজন বিধায়কের সই কীভাবে ওই নথিতে এল? অভিযোগ ওঠে, অনুপস্থিত বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেটারহেডে একটি চিঠি বিধানসভায় পাঠানো হয় বলেও জানা যায়। সেই চিঠির স্বাক্ষর নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এরপর বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডির হাতে।
“আমি শান্তিনিকেতনে থাকি না” (Abhishek Banerjee)
ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিনিকেতনে বসবাস করেন না। তাঁর বক্তব্য: “আমি শান্তিনিকেতনে থাকি না। আমার সঙ্গে দেখা করতে হলে কালীঘাটের বাড়িতেই আসতে হবে। ” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, একটি তদন্তকারী সংস্থা যদি সাত বছর পরেও তাঁর প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়, তাহলে তাদের তদন্তের দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।
“নোটিস নিয়েছি, আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করব” (Abhishek Banerjee)
অভিষেক জানান, শেষ পর্যন্ত তিনি নোটিস গ্রহণ করেছেন এবং আইন অনুযায়ী সহযোগিতা করবেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী: তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আইনি পথে লড়াই করবেন। তাঁর কথায়, এই বিষয়ে মামলা করব, আদালতের দ্বারস্থ হব। তিনি আরও বলেন, অতীতে যেমন ইডি ও সিবিআইয়ের তলবে হাজিরা দিয়েছেন, তেমনই এই ক্ষেত্রেও তদন্তে সহযোগিতা করবেন। “আমি কখনও পালিয়ে যাইনি। ইডি, সিবিআই ডেকেছে, আমি গিয়েছি। এবারও সহযোগিতা করব।”

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ (Abhishek Banerjee)
সিআইডির পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে চাপে রাখতেই প্রশাসনিক ও তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “ইডি, সিবিআইয়ের কাছে মাথা নত করিনি। সিআইডি কী? রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, তদন্তের নামে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু তাতে তিনি বা তাঁর দল পিছিয়ে আসবে না।
কেএমসি নোটিস ও হাইকোর্টে আইনি লড়াই (Abhishek Banerjee)
শুধু সিআইডি নয়, কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) একটি নোটিস নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, বাড়ির নির্মাণে বিচ্যুতির অভিযোগ তুলে নোটিস পাঠানো হলেও সেখানে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তিনি জানান: “আমরা সেই নোটিসের জবাব দিয়েছি এবং হাইকোর্টে গিয়েছি। আমার কাছে সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, একের পর এক বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিজেপিকে আক্রমণ, নারদা প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন (Abhishek Banerjee)
নিজের বক্তব্যে বিজেপিকেও তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নারদা মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? তিনি বলেন, “এখন যিনি বাংলার বিজেপির মুখ, তাঁর টাকা নেওয়ার ভিডিও রয়েছে। তখন কেন ব্যবস্থা হয়নি? এখন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁরা সৎ হয়ে গেলেন?” অভিষেকের দাবি, সাধারণ মানুষ সব দেখছেন এবং রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বুঝতে পারছেন।

আরও পড়ুন: Rituparno Ghosh: বাংলা সিনেমার পর্দায় নারীর যন্ত্রণা ‘বাড়িওয়ালি’ থেকে ‘উত্তরা’র বেঁধে
“প্রয়োজনে গ্রেফতার করুক, লড়াই চলবে”
শেষ পর্যন্ত তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে আইনি ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর বক্তব্য: “যদি সাহস থাকে, গ্রেফতার করুক। ভয় দেখিয়ে আমাদের থামানো যাবে না। আমরা লড়াই থেকে সরে যাব না।” ক্যামেরার সামনে ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছিল যাঁকে, তিনিই আজ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির ভয় দেখানোয় মাথা নত করব না: বিজেপি ও তাদের সহযোগীদের পাল্টা আক্রমণ শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ অংশবিশেষ
কলকাতা (৩০ মে) (Abhishek Banerjee)
- আমি শান্তিনিকেতনে থাকি না। যদি কেউ আমার সঙ্গে দেখা করতে চান, তাহলে তাঁকে এই বাড়িতেই আসতে হবে। আপনাদের মাধ্যমেই আমি সেই বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছি। সাংবাদিক হিসেবে আপনারা জানেন আমি কোথায় থাকি। যদি তাঁদের কোনও বক্তব্য জানাতে হয় বা কোনও নোটিস দিতে হয়, তাহলে এখানে আসতে হবে। সিআইডি আধিকারিকরা কেন আমার বাড়িতে এসেছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর তাঁরাই দিতে পারবেন। কলকাতা পুরসভাকে জিজ্ঞাসা করুন কেন তারা নোটিস পাঠিয়েছে এবং বাড়ির কোন অংশকে তারা বেআইনি বলছে।
- সাংবাদিক হিসেবে তথ্য যাচাই করা এবং যাঁরা বেছে বেছে এই ধরনের খবর সংবাদমাধ্যমকে দিচ্ছেন, তাঁদের প্রশ্ন করা আপনাদের দায়িত্ব। কেউ যদি একটি নোটিস লাগিয়ে দিয়ে চলে যায় এবং দাবি করে যে বাড়ির একটি অংশ বেআইনি, তাহলে সেই দাবির ভিত্তি কী? তা তাদের জানাতে হবে। আমার কাছে ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। কোথায় সেই সংযুক্ত নথি, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে আমার বাড়ির কোন অংশ অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত?
- এই বিষয়েও আমি আইনি পদক্ষেপ নেব। আদালতের দ্বারস্থ হওয়া আমার অধিকার। আমি ইতিমধ্যেই লিখিতভাবে আমার জবাব জানিয়েছি। সিআইডি কেন এসেছিল এবং কলকাতা পুরসভা কেন নোটিস পাঠিয়েছে, তার উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই দিতে পারবে।
- প্রথমে আপনারা জিজ্ঞাসা করেছিলেন সিআইডি কেন আমার বাড়িতে এসেছে, আর এখন বলছেন এটি নাকি স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলার সঙ্গে যুক্ত। আমি এখনও কোনও নোটিস পাইনি, অথচ আপনারা আগেই কারণ জেনে গিয়েছেন। যদি সিআইডিই সব তথ্য আগাম জানিয়ে দেয়, তাহলে আমার আর বলার কিছু থাকে না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগই আনা হোক না কেন, আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত, এবং আমি আইনতভাবে তার মোকাবিলা করব।
- সিআইডি আবার কী? আমি কখনও এদের ইডি বা সিবিআইয়ের সামনেই মাথা নত করিনি। তারা কিংবা তাদের কোনও সংস্থা যদি সিআইডিকে ব্যবহার করে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে, কলকাতা পুরসভাকে দিয়ে আমার বাড়ি ভাঙতে চায়, আমার ঘরের ওপর আক্রমণ চালায়, কিংবা শারীরিকভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তারা যা খুশি করতে পারে, আমি দমার ছেলে নই।
- আমি বেলেঘাটায় আমাদের দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলাম, আমাদের নির্বাচিত বিধায়ক কুণাল ঘোষের অফিসে। আজ দিনের শুরুতেই সেখানে গিয়েছিলাম এবং সেখান থেকে ফিরে এসেছি। অল্প সময়ের মধ্যেই আমি সোনারপুরের উদ্দেশে রওনা দেব।
- সাম্প্রতিক নোটিসের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, আমার আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করব। আইনি পরামর্শ নেওয়া আমার অধিকার। ইডি ও সিবিআইয়ের তদন্তে আমি বরাবর সহযোগিতা করেছি এবং কলকাতা ও দিল্লিতে একাধিকবার হাজিরাও দিয়েছি।
- আমার বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ আমাকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা জনসংযোগমূলক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে পারবে না।
- ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ওপর যে হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। আমার রাজনৈতিক কার্যকলাপ এবং তৃণমূল স্তরের জনসংযোগ কর্মসূচি ব্যাহত করার চেষ্টা সফল হবে না।
- আমি ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার নোটিসের জবাব দিয়েছি এবং এই বিষয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। পুরসভার নোটিসে নির্মাণ সংক্রান্ত কিছু বিচ্যুতির অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু তার সমর্থনে কোনও নথি বা বিস্তারিত তথ্য সংযুক্ত করা হয়নি।
- সবাই অমিত শাহের পদলেহন করে বিজেপিতে যোগদান করে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে যায় না। যাদের মাথার উপর দুটো, তিনটে, চারটে করে ইডি-সিবিআই কেস ঝুলছে, তারা আজ দুর্নীতি নিয়ে বড় বড় ভাষণ দিচ্ছে। যারা তৃণমূলকে চোর বলে, বাংলায় স্বাধীনতার পর প্রফুল্ল সেন, প্রফুল্ল ঘোষ, অজয় মুখোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ শংকর রায় পরবর্তীতে সিপিএম জমানায় জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পরিবর্তনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কোন মুখ্যমন্ত্রীকে দু কান কাটার মতো ক্যামেরার সামনে হাত বের করে টাকা নিতে দেখা যায়নি। এখন বাংলার যে মুখ্যমন্ত্রী তাকে টিভির পর্দায় দু কান কাটার মতো হাত পেতে ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছে। এরা আমাদের চোর বলে? মানুষ বোকা নয়, যেভাবে রাষ্ট্র শক্তিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে এর বিচার মানুষ করবেন।
- বিজেপি যতই বাধা সৃষ্টি করুক না কেন, আমি আমার রাজনৈতিক কার্যকলাপ এবং জনসংযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। আজ বিকেলে আমার সোনারপুর যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করব।



