Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের অর্থনৈতিক রাজধানী করাচি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ জলসংকটের মুখে পড়েছে। তীব্র গরম ও ঈদ-উল-আজহার সময়ে জলের চাহিদা বাড়লেও শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকায় অনিয়মিত বা বিচ্ছিন্ন জল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। ফলে লাখ লাখ মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ট্যাঙ্কারের ওপর নির্ভর করছেন(Karachi Water Crisis)।
চূড়ান্ত জলসংকটে করাচি (Karachi Water Crisis)
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলিস্তান-ই-জওহর, গুলশান-ই-ইকবাল, লিয়াকতাবাদ, নর্থ নাজিমাবাদ, নাজিমাবাদ ও নর্থ করাচির মতো এলাকায় দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তীব্র সংকট চলছে। প্রায় ২ কোটি জনসংখ্যার এই শহরে দৈনিক ১,০৮০ থেকে ১,২০০ মিলিয়ন গ্যালন জলের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশ কম। ফলে প্রতিদিন ৪০০ মিলিয়ন গ্যালনেরও বেশি ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে সিন্ধের ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-র বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। জামাত-ই-ইসলামির প্রধান হাফিজ নঈম উর রহমান অভিযোগ করেছেন, প্রায় দুই দশক ধরে পিপিপি ক্ষমতায় থাকলেও করাচির জলসংকটের স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি। তিনি করাচির মেয়রের সেই দাবিও খারিজ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল শহরে কোনো জলসংকট নেই(Karachi Water Crisis)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ শুধু জলের অভাব নয়, বরং দুর্বল পরিকাঠামো। করাচির পাইপলাইনের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ লিকেজ, অবৈধ সংযোগ ও চুরির কারণে প্রচুর জল নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুরনো পাইপলাইন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এছাড়া বহু প্রতীক্ষিত K-IV জলপ্রকল্প ও S-III নিকাশি প্রকল্প অর্থাভাব, প্রশাসনিক জটিলতা ও জমি সংক্রান্ত সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এরই মধ্যে তথাকথিত ‘ট্যাঙ্কার মাফিয়া’ সংকটকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেশি দামে জল বিক্রি করছে(Karachi Water Crisis)।
ভারত-পাকিস্তান সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বর্তমান সংকটের জন্য সেটিকে দায়ী করার মত প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, করাচির জলসংকট মূলত স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যর্থতা, পরিকাঠামোগত দুর্বলতা এবং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাহীনতার ফল(Karachi Water Crisis)।



