Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়ণ চক্রবর্ত্তী: কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় (Srijan Bhattacharya)। সম্ভাব্য উচ্ছেদ অভিযানের আশঙ্কায় বামপন্থী নেতা-কর্মী, হকার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্টেশন চত্বরে জড়ো হয়ে প্রতিবাদে শামিল হন। কয়েক ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর বাম নেতৃত্ব দাবি করে যে আপাতত যাদবপুর স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।

উচ্ছেদের আশঙ্কায় রাতভর অবস্থান (Srijan Bhattacharya)
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই যাদবপুর স্টেশন এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। খবর রটে যে স্টেশন চত্বরে থাকা বহু অস্থায়ী দোকান ও হকারদের সরাতে রাতেই অভিযান চালানো হতে পারে। প্রতিবাদী শিবিরের দাবি, ঘটনাস্থলের কাছেই বুলডোজার এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি দেখা গিয়েছিল, যা হকারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিতে বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ একাধিক নেতা-কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, বহু মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে এই দোকানগুলির উপর। তাই যথাযথ পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ উচ্ছেদ মেনে নেওয়া হবে না।
“মানুষের ঐক্যই আপাতত উচ্ছেদ রুখেছে”
সৃজন ভট্টাচার্য (Srijan Bhattacharya) জানান যে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি, আইনি লড়াই এবং গণচাপের ফলে আপাতত উচ্ছেদ অভিযান রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকার মানুষ তাঁদের জীবিকা ও রুজি-রুটির স্বার্থে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি আইনজীবীদের একটি দল আইনি নথিপত্র নিয়ে বিষয়টি নিয়ে লড়াই করেছেন। সেই কারণেই আপাতত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সৃজন আরও জানান, যাদবপুরের পর এবার বাঘাযতীন স্টেশন এলাকায়ও একই ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে সেখানে মিছিল ও প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।

কেন বাড়ছে উচ্ছেদের আশঙ্কা? (Srijan Bhattacharya)
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পূর্ব রেল এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বিভিন্ন স্টেশন চত্বরে অবৈধ দখলদারি ও হকার উচ্ছেদ অভিযান জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। রেল সূত্রে জানা যায়, স্টেশন এলাকার নিরাপত্তা, যাত্রী চলাচলের সুবিধা এবং অবৈধ দখলমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী ঝুপড়ি, দোকান এবং অননুমোদিত কাঠামো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, হাওড়া ও শিয়ালদহ মিলিয়ে প্রায় ৫০০-রও বেশি অস্থায়ী দোকান ও ঝুপড়ি ইতিমধ্যেই উচ্ছেদ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বুলডোজার ব্যবহার করে কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে।

ক্ষোভে ব্যবসায়ীরা, অভিযোগ ‘আগাম নোটিশ নেই’
উচ্ছেদ হওয়া বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তাঁদের পর্যাপ্ত সময় বা বিকল্প ব্যবস্থা না দিয়েই অভিযান চালানো হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, সকালে দোকানে এসে দেখেন সেটি আর নেই। আবার অনেকে রাতের বেলায় খবর পেয়ে ছুটে এসে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন। প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, প্রশাসন যদি আগে থেকেই আলোচনায় বসত এবং পুনর্বাসনের স্পষ্ট রূপরেখা দিত, তাহলে এত বড় অসন্তোষ তৈরি হত না। তাঁদের মতে, জীবিকা ও মানবিক দিক বিবেচনা না করে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
নিরাপত্তা ও আইন মেনেই অভিযান (Srijan Bhattacharya)
রেল প্রশাসনের যুক্তি, স্টেশন চত্বর এবং রেল জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি দখলদারি চলছিল। এর ফলে যাত্রী চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছিল। সেই কারণেই আদালতের নির্দেশ ও আইন মেনে দখলমুক্তকরণের কাজ চলছে। রেলের একাংশের দাবি, অতীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে এই ধরনের অভিযান সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রশাসনিক সহযোগিতা বাড়ায় উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে।
আরও পড়ুন: Pahalgam Pak: পহেলগাম হামলায় পাক যোগ! ৯/১১ হামলায় যুক্ত ব্যাঙ্কের নাম এল তদন্তে
মঙ্গলাহাটেও কড়া অবস্থান প্রশাসনের
একই সময়ে হাওড়ার মঙ্গলাহাট এলাকাতেও ব্যবসায়ীদের জন্য কড়া বার্তা এসেছে। হাওড়া ময়দান সংলগ্ন রাস্তা ও ফুটপাথে আর পসরা সাজিয়ে বসতে পারবেন না বলে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী নেতাদের ডেকে এই নির্দেশের কথা জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রশাসনের বক্তব্য, রাস্তা ও ফুটপাথ সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য মুক্ত রাখতে হবে এবং অনিয়ন্ত্রিত দখলদারি বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ।



