Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আফ্রিকার মাটিতে প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলা হয়েছিল ২০১০ সালে। তবে এই সালের বিশ্বকাপের দুটি ঘটনা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য (World Cup)।
ঘটনাবহুল ২০১০ সালের বিশ্বকাপ (World Cup)
আর দুই দিন পরেই শুরু হতে চলেছে ফুটবল বিশ্বকাপ আর তার আগে ফিরে দেখা বিশ্বকাপের সাড়া ফেলে দেওয়া একাধিক ঘটনা। আফ্রিকার মাটিতে ২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ছিল আফ্রিকার মাটিতে প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের মত আসরে বারবার চর্চায় এসেছেন দেশের ফুটবল তারকারা। আবার কোনও সময় সেই দলের কোচ বা আবার কোনও সময়ে সেই দলের সমর্থকরা তবে ২০১০ সালের বিশ্বকাপের চর্চার মূল কেন্দ্রে ছিল একটি বাঁশি আর একটি অক্টোপাস (World Cup)।
২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ মনে রাখার এক বিশেষ ঘটনা এক অদ্ভুত বাঁশি। যার নাম ভুভুজেলা, আর এই বাঁশির শব্দে কান ফেটে যাওয়ার জোগাড়। উচ্চ স্বরের সেই বিশ্বকাপের তারকা। ফুটবল বিশ্বকাপ জুড়ে এই বাঁশি ছিল সবথেকে বেশি চর্চায়। দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী এই লম্বা প্লাস্টিকের ট্রাম্পেট মাঠের থেকে জায়গা দখল করে নিয়েছিল সমর্থকদের মুখ এবং বিভন্ন দৈনিক সংবাদপত্রের হেডলাইনে। টেলিভিশন থেকে ক্লাস ক্যান্টিন, সব জায়গায় তারকা তখন ভুভুজেলা।
এই বাঁশির আদলে তৈরি অপেক্ষাকৃত ছোট বাঁশি হাতে নিয়ে সেই সময় ঘুরতে দেখা যায় অনেকে। ভুভুজেলার শব্দকে অনেকে তুলনা করেন মৌমাছির ঝাঁকের সঙ্গেও। তবে শুধু চর্চা নয় এই নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল বিস্তর। প্লেয়ার থেকে কোচরা এই বাঁশির শব্দ নিয়ে অভিযোগ করেন। অবিরাম এই শব্দের কারণে মাঠের মধ্যে যোগাযোগ করে কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। শব্দের তীব্রতায় সমর্থকদের অবস্থাও হয়ে উঠেছিল শোচনীয় (World Cup)।
এত কিছুর পর এই শব্দ ‘দানবের’ চাহিদা কমেনি বিন্দুমাত্র। সেই সময় কেপি টাউনের এক ব্যবসায়ী দাবি করেন যে মাত্র দুই দিনের মধ্যে তাঁর সব স্টক শেষ হয়ে যায়। সমালোচনাও এই বাঁশিকে থামাতে পারেনি। এমনকি এই ভুভুজেলার শব্দের রিংটোনও তৈরি হয় এবং সেগুলো ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ফোনে ফোনে।
শুধু বাঁশি নয় বিখ্যাত হয়েছিল আরেকজন। সে কোনও প্লেয়ার, কোচ বা দর্শক নন। মানুষ নিজেদের ভাগ্য বা ভবিষ্যৎ জানতে অনেক সময়ই ছোটেন জ্যোতিষিদের কাছে। এখন আবার কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা তবে সেই সময় এসবের চল ছিল না তবে বিশ্বকাপের ভবিষ্যদ্বাণী করে বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছিল অ্যাকুয়ারিয়ামে থাকা একটা অক্টোপাস।
সেই বিশ্বকাপে মনে করা হয়েছিল লাতিন আমেরিকার দলই জিতবে গ্রুপ পর্বে। দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল সহ পাঁচটি দল ছিল এই মহাদেশের, যার মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে চারটি দল ওঠে। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও বিশ্বকাপের ফাইনাল যেতে স্পেন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সবচেয়ে কম গোল করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘটনা ছিল এটি।
আরও পড়ুন: Director Dev: রাজনৈতিক জল্পনার মাঝে নতুন পথচলা শুরু দেবের
অনেক সময়ই বিশ্লেষকরা বিশ্লেষণ করেন তবে সব সময় সেটা নির্ভুল হয় না। কিন্ত ২০১০ বিশ্বকাপের সবচেয়ে নির্ভুল বিশ্লেষণ করেছিল পল নামের একটা অক্টোপাস। প্রতিটা ম্যাচের আগে আর সামনে রাখা হত দুটি বাক্স। একটি দিকে থাকত জার্মানির পতাকা আর ওইদিকে প্রতিপক্ষের। অক্টোপাসটি নিচে নেমে এসে তাঁর একটি শুঁড় দিয়ে দুটি বাক্সের একটিকে জড়িয়ে ধরত, যা তার ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে ধরে নেওয়া হট। একটিও ভুল করেনি পল। এমনকি সার্বিয়া এবং স্পেনের বিপক্ষে জার্মানির দুটি হারের কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছিল পল। তবে এখানেই থামেনি পল। ফাইনালে কোন দল জিতবে জিজ্ঞেস করা হলে সময় না নষ্ট না করেই স্প্যানিশ পতাকা বেছে নিয়েছিল। তবে এবারের বিশ্বকাপে কী হবে সেটা সময় বলবে (World Cup)।


