Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুকৃতি ভট্টাচার্য: আলিপুরের সরকারি দফতরের বহুতলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রহস্য দানা বাঁধছে। গতকাল লাগা এই আগুন নেভানোর পর আজ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন কৌশিক চক্রবর্তী দমকল প্রতিমন্ত্রী তথা রায়গঞ্জের বিধায়ক। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী আগুন মূলত বিল্ডিংয়ের ৩য় এবং ৪র্থ তলায় লেগেছিল। কিন্তু মাঝের তলাগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আচমকা ৮ম এবং ৯ম তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনায় অন্তর্ঘাত বা কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে (Alipore Fire)।

রহস্যের কেন্দ্রে ৮ম ও ৯ম তলা (Alipore Fire)
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আধিকারিকরা জানান, ৩য় এবং ৪থ তলায় আগুন লাগার পর মাঝের ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলায় আগুনের কোনো চিহ্ন মেলেনি। কিন্তু সরাসরি ৮ম এবং ৯ম তলা আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ওই ৮ম ও ৯ম তলায় আলিপুর অঞ্চলের ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৪,০০০ ইভিএম (EVM) মেশিন মজুত রাখা ছিল। অগ্নিকাণ্ডের ফলে সেই সমস্ত ইভিএম মেশিন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ৩য় ও ৪থ তলায় ডিআইও (DIO) অফিস, সর্বশিক্ষা মিশন, মিড-ডে মিল এবং হর্টিকালচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অফিস ছিল, যেখানে থাকা বহু নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
ফরেনসিক দল ও পুলিশের তৎপরতা (Alipore Fire)
ঘটনার তদন্তে আজই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তবে বিল্ডিংটি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে থাকায় প্রাথমিকভাবে তারা কাজ শুরু করতে পারেননি। তাপমাত্রা কিছুটা কমলেই ফরেনসিক ও পুলিশি তদন্ত পুরোদমে শুরু হবে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় জেলা শাসক (DM) এই ঘটনায় একটি সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা ও এফআইআর দায়ের করেছেন।

সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন (Alipore Fire)
দমকল যখন কাজ শুরু করে তখন নিয়ম মেনে প্রথমেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, তা সত্ত্বেও ওপরের তলায় কীভাবে আগুন ছড়ালো? জবাবে কৌশিক চক্রবর্তী জানান, “আমরাও এই বিষয়টি নিয়ে অবাক। ফায়ার ট্রাভেল করার কোনো স্বাভাবিক রুট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুরো বিষয়টিই তদন্তসাপেক্ষ।”
আরও পড়ুন: Hirak Ranir Deshe: ‘তিলোত্তমা’ নয়, আসছে ‘হীরক রানীর দেশে’, বাংলায় ফিরছেন জয়াপ্রদা
পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই দমকল এবং পুলিশ অফিসাররা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাঁদের এই ভূমিকার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। তবে ওই এলাকায় জলের উৎসের অভাব থাকায় এবং মই লাগিয়ে জল দেওয়ার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায়, কেবল সিঁড়ি ব্যবহার করেই জল দিয়ে আগুন নেভাতে হয়েছে, যা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। বিল্ডিংয়ের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম পর্যাপ্ত ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।”



