Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
প্রতিবেদন ত্রয়ণ চক্রবর্তী: কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একের পর এক ইস্যুতে সরব হচ্ছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui)। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফর, মনিপুরের পরিস্থিতি, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে যেমন ছিল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রশ্ন, তেমনই ছিল রাজ্যের শাসকদলের প্রাক্তন ও বর্তমান নেতাদের উদ্দেশে তীব্র কটাক্ষ।

প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে (Naushad Siddiqui)
নওশাদ সিদ্দিকীর মতে, দেশের প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন বা কোন রাজ্যে সফর করবেন, তা নিয়ে সাধারণত প্রশ্ন তোলা হয় না। কিন্তু দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য মণিপুর যখন দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি ও সংকটের মধ্যে রয়েছে, তখন সেখানে আরও বেশি সময় দেওয়া উচিত ছিল কেন্দ্রের। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করেছে বিজেপি নয়, তবুও প্রধানমন্ত্রী এখানে আসছেন। অন্যদিকে মণিপুরের সাধারণ মানুষ এখনও নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য সংগ্রাম করছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান বা রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে মণিপুরে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই মুহূর্তে বেশি প্রয়োজন ছিল।
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতাদের নিশানায় (Naushad Siddiqui)
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও জনপ্রতিনিধি দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। এই প্রসঙ্গে নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, আজ যারা পরিবারতন্ত্র বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন একই ব্যবস্থার অংশ ছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, এতদিন কেন তাঁরা প্রতিবাদ করেননি? কেন দলের ভেতরে থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি? তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের ৪ মে-র আগে পর্যন্ত এই ধরনের সমালোচনা খুব একটা শোনা যায়নি। অথচ এখন অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার জন্য নতুন ভাষ্য তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

‘সুবিধা থাকলে নীরবতা, সুবিধা না থাকলে প্রতিবাদ’ (Naushad Siddiqui)
নওশাদের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল রাজনৈতিক সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ জানতে চাইছে, যখন ক্ষমতা, পদ এবং সুযোগ-সুবিধা মিলছিল তখন কেন প্রতিবাদ করা হয়নি। তাঁর মতে, অনেকেই এতদিন সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন। এখন সেই সুযোগ কমে যাওয়ায় বা ভবিষ্যতে না পাওয়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে সমালোচনা শুরু করেছেন। তিনি মনে করেন, প্রকৃত নীতির প্রশ্নে আপস না করলে অনেক আগেই প্রতিবাদের পথ বেছে নেওয়া যেত।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান হলে পদত্যাগ করুন
চাকরি দুর্নীতি, আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে নওশাদ সিদ্দিকী আরও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই কেউ নীতিবান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন হন, তাহলে শুধু বক্তৃতা দিয়ে হবে না। তাঁর বক্তব্য, যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতার অংশ ছিলেন অথচ এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, তাঁদের উচিত প্রথমে নিজেদের পদ ছেড়ে দেওয়া। তারপর জনতার সামনে এসে নৈতিকতার কথা বলা। তাহলেই মানুষের কাছে তাঁদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
বিধানসভায় সময় বণ্টন নিয়েও ক্ষোভ (Naushad Siddiqui)
রাজ্য বিধানসভার কার্যপ্রণালী নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভাঙড়ের বিধায়ক। তিনি জানান, বাজেট অধিবেশন কিংবা রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনায় একজন নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে তাঁর নির্দিষ্ট সময় পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কাউকে খুশি করার জন্য বা রাজনৈতিক তদবির করে সময় আদায় করার পক্ষপাতী তিনি নন। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী যে সময় তাঁর প্রাপ্য, সেটাই তিনি চান। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক প্রতিনিধির বক্তব্য রাখার সমান সুযোগ থাকা উচিত বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

সাধারণ মানুষের জীবনযুদ্ধই আসল রাজনীতি (Naushad Siddiqui)
নওশাদ সিদ্দিকীর বক্তব্যে উঠে আসে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, রাজনীতির বড় বড় তর্ক-বিতর্কের বাইরে একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন কলকাতায় এসে কঠোর পরিশ্রম করে সামান্য আয়ে সংসার চালান। তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো পরিবারের জন্য দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা। এই বাস্তবতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্বের জীবনযাত্রার তুলনা টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের সঙ্গে কতটা সংযোগ রয়েছে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার।
আরও পড়ুন : US Command: মার্কিন কম্যান্ডের নাম থেকে ইন্দো উধাও, ভারতের গুরুত্ব কি কমছে? নয়া বিতর্ক
রাজনৈতিক অবস্থান বদলের সমালোচনা
বক্তব্যের শেষাংশে নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, কিছু নেতা রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছেন। একসময় যাঁরা সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁরাই এখন নিজেদের নতুন রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলতে চাইছেন। তাঁর দাবি, সত্যিকারের আদর্শ থাকলে ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। রাজনৈতিক সুবিধা শেষ হওয়ার পরে সমালোচনা শুরু করলে সাধারণ মানুষ সেই অবস্থানকে আন্তরিক বলে মনে করবেন না।



