Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঝাল খাবার, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, মানসিক চাপ বা রাত জেগে খাওয়ার পর অনেকেই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন। দ্রুত আরাম পেতে অনেকে নিয়মিত অ্যান্টাসিড বা অ্যাসিডিটি কমানোর ওষুধ খান। তবে চিকিৎসকদের মতে, অভ্যাস হলে তাতে ঝুঁকি থাকতে পারে(Acidity Medicine)।
অ্যাসিডিটির ওষুধে সাময়িক স্বস্তি (Acidity Medicine)
গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স তখন হয়, যখন পাকস্থলীর অ্যাসিড বারবার খাদ্যনালীতে উঠে আসে। এর ফলে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর, পেট ফাঁপা, বমিভাব, গলায় জ্বালা, দীর্ঘস্থায়ী কাশি ও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে GERD-এর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, তামাক ও অ্যালকোহল সেবন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা এর অন্যতম কারণ।
অ্যাসিডিটি কমানোর ওষুধ, বিশেষ করে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI), দ্রুত উপশম দিলেও দীর্ঘদিন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ পাকস্থলীর অ্যাসিড শুধু খাবার হজমেই সাহায্য করে না, শরীরে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন বি১২ শোষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন অপ্রয়োজনীয়ভাবে PPI ব্যবহার করলে ভিটামিন বি১২ ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি, ক্যালসিয়াম শোষণে সমস্যা, অন্ত্রের সংক্রমণ এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল ঘনঘন অ্যাসিডিটি অন্য কোনও রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। যেমন GERD, পেপটিক আলসার, হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি সংক্রমণ, হায়াটাল হার্নিয়া বা ব্যারেটস ইসোফ্যাগাস। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে হৃদরোগের লক্ষণও অ্যাসিডিটির মতো মনে হতে পারে(Acidity Medicine)।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সপ্তাহে দুইবারের বেশি অ্যাসিডিটি হলে, গিলতে সমস্যা, ওজন কমে যাওয়া, কালো পায়খানা বা ওষুধে কাজ না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত(Acidity Medicine)। অ্যাসিডিটির ওষুধ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে জরুরি।



