Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রবল বর্ষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়াকেও উপেক্ষা করে মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি সদর বিডিও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন শতাধিক মিড ডে মিল কর্মী (Mid Day Meal Worker Protest)। সিআইটিইউ অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কর্মীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। প্রবল বৃষ্টির কারণে কর্মসূচি ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা থাকলেও, কর্মীদের উপস্থিতি ও দৃঢ় মনোভাব সেই আশঙ্কাকে কার্যত মিথ্যা প্রমাণ করে।

কী কী দাবি তুললেন মিড ডে মিল কর্মীরা? (Mid Day Meal Worker Protest)
এদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে মিড ডে মিল কর্মীরা সরকারের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানান। তাদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে, মিড ডে মিল পরিচালনার কাজ কোনো বৃহৎ বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে না দেওয়া। মিড ডে মিল কর্মীদের সরকারি কর্মীর স্বীকৃতি প্রদান। বছরে ১২ মাসের নিরবচ্ছিন্ন বেতন নিশ্চিত করা। উৎসবের আগে উৎসব বোনাস চালু করা। বিদ্যালয়ে শিশুদের রান্না ও খাবার গ্রহণের জন্য উন্নত পরিকাঠামো তৈরি। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ঋণ মুকুব। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাবমুক্ত রাখা। কর্মীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের ন্যায্য মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।
বৃষ্টির মধ্যেই চলল বিক্ষোভ কর্মসূচি (Mid Day Meal Worker Protest)
মঙ্গলবার কর্মসূচি শুরুর ঠিক আগেই প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। কিন্তু আবহাওয়ার প্রতিকূলতা আন্দোলনের গতি থামাতে পারেনি। ছাতা, রেইনকোট কিংবা ভিজে পোশাকেই কর্মীরা স্লোগান তুলে নিজেদের দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। বিক্ষোভ শেষে প্রতিনিধিদল জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। সেখানে সংগঠনের সমস্ত দাবি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়।

গৌরি অধিকারীর কড়া বার্তা (Mid Day Meal Worker Protest)
সিআইটিইউ অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদিকা গৌরি অধিকারী বলেন, মিড ডে মিল কর্মীদের কাজ কোনোভাবেই বড় বড় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে সরকার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হলেও, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন তাঁদের কাজ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মিড ডে মিল কর্মীরা শুধুমাত্র রান্নার কাজ করেন না, তাঁরা স্কুলের শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই তাঁদের সরকারি কর্মীর স্বীকৃতি, সম্মানজনক বেতন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
মিড ডে মিল প্রকল্পে কর্মীদের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মিড ডে মিল প্রকল্প দেশের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুষ্টিকর খাবার পায়, যার ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি এবং অপুষ্টি রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই প্রকল্পের মূল ভিত্তি হলেন মিড ডে মিল কর্মীরা। প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুর জন্য খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করার দায়িত্ব তাঁদের ওপরই বর্তায়। অথচ বহু ক্ষেত্রেই তাঁরা কম পারিশ্রমিক, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান এবং পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষার অভাবের অভিযোগ তুলে আসছেন।

আরও পড়ুন: Adhir Ranjan Chowdhury: ‘মানুষকে না বুঝিয়েই ইথানল চাপিয়ে দিচ্ছে সরকার’, বিস্ফোরক অভিযোগ অধীরের
দাবি পূরণে সরকারের হস্তক্ষেপের অপেক্ষা
বিক্ষোভকারী কর্মীদের আশা, তাঁদের স্মারকলিপি প্রশাসনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কাছে পৌঁছাবে এবং দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবিগুলি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটার বিষয়েও তারা ভাববে।



