Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজ্য সরকার গঠনের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা (Kalyani Airport)। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল নদীয়া জেলার কল্যাণীতে কলকাতার পর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার একর জমি দেওয়া হবে। ঘোষণার পর থেকেই কল্যাণী ও আশপাশের এলাকায় উৎসাহের আবহ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিনের দাবিতে মিলল সরকারি স্বীকৃতি (Kalyani Airport)
দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণবঙ্গে কলকাতার বাইরে আরেকটি বড় বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্প ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার চাহিদার কারণে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে। অবশেষে রাজ্য সরকারের বাজেট ঘোষণায় সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পাওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল।
চিকিৎসা পরিষেবায় নতুন সম্ভাবনা (Kalyani Airport)
কল্যাণী বর্তমানে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে বিশ্বমানের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, মেডিক্যাল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল। এছাড়াও অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখানে আসেন। স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্রুত যাতায়াত এবং মেডিক্যাল ট্যুরিজমের ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শিক্ষানগরী কল্যাণীর জন্য বড় উপহার
গত কয়েক বছরে কল্যাণী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এখানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র। দেশ-বিদেশের বহু ছাত্রছাত্রী পড়াশোনার জন্য কল্যাণীতে আসেন। বিমানবন্দর নির্মিত হলে শিক্ষাক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। গবেষক, অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও কল্যাণীর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে গতি আসবে (Kalyani Airport)
অর্থনীতিবিদ ও শিল্পমহলের মতে, একটি বিমানবন্দর শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে শিল্পাঞ্চল, লজিস্টিক হাব, গুদাম, হোটেল, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং বিভিন্ন পরিষেবা খাত। কল্যাণী ইতিমধ্যেই শিল্প সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে পরিচিত। নতুন বিমানবন্দর নির্মিত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সহজ হবে। শিল্পপতিদের মতে, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলবে (Kalyani Airport)
বিমানবন্দর প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিকগুলির মধ্যে অন্যতম হল কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। নির্মাণ পর্যায়ে হাজার হাজার শ্রমিক, প্রকৌশলী এবং প্রযুক্তিগত কর্মীর কাজের সুযোগ তৈরি হবে। বিমানবন্দর চালু হওয়ার পর নিরাপত্তা, গ্রাউন্ড স্টাফ, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন, হোটেল, পর্যটন ও অন্যান্য পরিষেবা খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে। স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কাছে এই প্রকল্প তাই নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন (Kalyani Airport)
বর্তমানে কলকাতা বিমানবন্দরের উপর দক্ষিণবঙ্গের বিশাল অংশ নির্ভরশীল। কল্যাণীতে দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরি হলে কলকাতার উপর চাপ কমবে এবং উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন : Kolita Maji: পরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী, স্বপ্নের উড়ান বর্ধমানের কলিতার
খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা
রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি আনন্দিত কল্যাণী ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, বিমানবন্দর শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই করবে না, বরং গোটা এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথও প্রশস্ত করবে। ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি, জমির মূল্য বৃদ্ধি, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কল্যাণী একটি আধুনিক নগরী হিসেবে আরও দ্রুত বিকশিত হবে।



