Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
প্রতিবেদন ত্রয়ণ চক্রবর্তী: কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে (Mustafizur Rahman Rana)। প্রধান বিরোধী শক্তির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে নিজেদের রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে সিপিআইএম। সেই কৌশলেরই অংশ হিসেবে ডোমকলের বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমানকে সিপিআইএমের রাজ্য কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্য কমিটিতে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মোনালিশা সিনহাকেও। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সিপিআইএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজ্য কমিটিতে নতুন মুখ কে? (Mustafizur Rahman Rana)
সিপিআইএমের রাজ্য কমিটি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী স্তর। সেখানে মুস্তাফিজুর রহমান এবং মোনালিশা সিনহার অন্তর্ভুক্তি শুধু সাংগঠনিক রদবদল নয়, বরং আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইকে সামনে রেখে নতুন নেতৃত্বকে তুলে আনার প্রচেষ্টা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ডোমকলের বিধায়ক হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমান ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে পরিচিত মুখ। জেলার স্তরে তাঁর সংগঠনিক ভূমিকা এবং জনসংযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যজুড়ে দলের ভিত্তি আরও মজবুত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাম নেতৃত্ব।
বিরোধী শূন্যতার সুযোগ নিতে চাইছে বামেরা
রাজ্য কমিটির বৈঠকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল বর্তমান বিরোধী রাজনীতির পরিস্থিতি। দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে নেতৃত্বের তরফে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ক্রমাগত ভাঙনের মুখে পড়ছে। ফলে বিরোধী রাজনীতির যে নতুন পরিসর তৈরি হচ্ছে, সেখানে বামপন্থীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। দলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে না থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অসন্তোষ, দলবদল এবং সাংগঠনিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির খোঁজ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে চাইছে বামেরা।

সাধারণ মানুষের ইস্যুতেই জোর (Mustafizur Rahman Rana)
রাজ্য কমিটির আলোচনায় আরও একটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে তোলা। দলীয় নেতৃত্বের মতে, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, কৃষক সমস্যা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সংকট, পানীয় জল ও নাগরিক পরিষেবার ঘাটতি এই সমস্ত বিষয়েই মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাই শুধুমাত্র নির্বাচনী রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিতে চাইছে সিপিআইএম। নেতৃত্বের বক্তব্য, মানুষের বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখেই আগামী দিনে আন্দোলনের কর্মসূচি জোরদার করা হবে। গ্রাম থেকে শহর, শ্রমজীবী থেকে মধ্যবিত্ত সব স্তরের মানুষের সমস্যাকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : Naushad Siddiqui: মণিপুর থেকে চাকরি দুর্নীতি, একসঙ্গে একাধিক ইস্যুতে নওশাদের তোপ

আগামী দিনের রাজনৈতিক বার্তা
মুস্তাফিজুর রহমান ও মোনালিশা সিনহার মতো নেতাদের রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি সিপিআইএমের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে বিরোধী রাজনীতিতে নিজেদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বার্তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে বাম নেতৃত্ব। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের পরিবর্তিত সমীকরণকে সামনে রেখে সিপিআইএম যে নতুন উদ্যমে মাঠে নামতে চাইছে, রাজ্য কমিটির বৈঠকের আলোচনা এবং সিদ্ধান্তে তারই প্রতিফলন দেখা গেল। এখন দেখার, সাধারণ মানুষের ইস্যুকে সামনে রেখে বামপন্থীরা কতটা রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।



