Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় সঙ্গীতজগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র অলকা ইয়াগনিক। তাঁর কণ্ঠে প্রেম, বিরহ, আনন্দ ও আবেগের অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে সমানভাবে জায়গা করে রয়েছে। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বলিউডের সঙ্গীতভুবনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু জীবনের এক কঠিন মোড়ে এসে আজ তাঁকে লড়াই করতে হচ্ছে এমন এক শারীরিক সমস্যার সঙ্গে, যা একজন গায়িকার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে অন্যতম (Alka Yagnik)।

কণ্ঠের জাদুতে মোহিত কয়েক প্রজন্ম (Alka Yagnik)
‘অ্যায় মেরে হামসফর’, ‘চুরা কে দিল মেরা’, ‘তাল সে তাল মিলা’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘অগর তুম সাথ হো’ এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গান ভারতীয় সঙ্গীতপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন অলকা ইয়াগনিক। তাঁর কণ্ঠে ছিল এক অনন্য মাধুর্য, যা রোম্যান্টিক গানকে আরও আবেগঘন করে তুলত। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন। বলিউডের প্রায় সব প্রথম সারির সঙ্গীত পরিচালক ও অভিনেত্রীর কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাঁর গান শুধু জনপ্রিয়ই হয়নি, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ইতিহাসে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছে।
আচমকা জীবনে নেমে আসে অন্ধকার (Alka Yagnik)
২০২৪ সালে অলকা ইয়াগনিক প্রকাশ্যে জানান যে তিনি এক বিরল শ্রবণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। রোগটির নাম সেনসোরিনিউরাল নার্ভ হেয়ারিং লস। এই রোগে কানের অভ্যন্তরীণ অংশ অথবা শ্রবণ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে শুনতে অসুবিধা হয় বা অনেক ক্ষেত্রে শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যায়। একজন সাধারণ মানুষের জন্যও এই সমস্যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক, কিন্তু একজন পেশাদার গায়িকার ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও গভীর। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর অলকা ধীরে ধীরে জনসমক্ষে আসা কমিয়ে দেন এবং গানের জগত থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
‘নরম কালজা’ শেষবারের মতো শোনা গিয়েছিল তাঁর কণ্ঠ
২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অমর সিং চমকিলা ছবির ‘নরম কালজা’ গানটিতেই শেষবারের মতো শোনা গিয়েছিল অলকার কণ্ঠস্বর। এরপর তাঁর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই পোস্টেই তিনি প্রথমবার নিজের অসুস্থতার কথা বিস্তারিতভাবে জানান। অনুরাগীরা তখনই বুঝতে পারেন, তাঁদের প্রিয় শিল্পী জীবনের এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

দুই বছরের নিভৃতবাস (Alka Yagnik)
শারীরিক সমস্যার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে জনজীবন থেকে দূরে ছিলেন অলকা ইয়াগনিক। খুব কম অনুষ্ঠানেই তাঁকে দেখা গেছে। গণমাধ্যমের আলো থেকেও তিনি নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন। তবে এই সময়েও তাঁর অনুরাগীরা তাঁকে ভোলেননি। সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত তাঁর সুস্থতা কামনা করে বার্তা পাঠিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। শিল্পীর প্রতি এই ভালোবাসাই তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।
পদ্মভূষণ সম্মান গ্রহণ (Alka Yagnik)
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি ভবনের অনুষ্ঠানে অলকা ইয়াগনিককে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি Droupadi Murmu-র হাত থেকে তিনি এই সম্মান গ্রহণ করেন। মঞ্চে ওঠার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে প্রণাম করেন। এরপর ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতির দিকে এগিয়ে যান। তবে পুরো সময়টাতেই তাঁকে একজন মহিলা সহায়তা করছিলেন। এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁর অসংখ্য অনুরাগী। একসময় যিনি নিজের কণ্ঠে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন, আজ তিনি নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করছেন এই বাস্তবতা অনেককেই বিষণ্ণ করে তোলে।
সংগ্রামের কথা জানালেন অলকা (Alka Yagnik)
পদ্মভূষণ গ্রহণের পর একটি আবেগঘন বার্তায় অলকা নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত দুই বছর ধরে তিনি জনসমক্ষে খুব কম এসেছেন এবং নিজের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার কথা প্রকাশ্যে খুব বেশি আলোচনা করেননি। এই কঠিন সময়ে ভক্তদের ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থন তাঁকে প্রতিটি মুহূর্তে সাহস জুগিয়েছে। তাঁর কথায়, এই সম্মান কেবল একটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নয়, বরং কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসার স্বীকৃতি।
পদ্মভূষণের মর্যাদা আরও বিশেষ কেন?
পদ্মভূষণ ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান। দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে অলকা অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতির মধ্যে এই সম্মান তাঁর কাছে এক অন্যরকম আবেগের বিষয়। কারণ এটি শুধু তাঁর শিল্পীজীবনের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেয়নি, বরং জীবনের কঠিন লড়াইয়ের মধ্যেও তাঁর অদম্য মানসিক শক্তিকেও সম্মান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন : Naushad Siddiqui: মণিপুর থেকে চাকরি দুর্নীতি, একসঙ্গে একাধিক ইস্যুতে নওশাদের তোপ
অনুরাগীদের কাছে তিনি এখনও অনুপ্রেরণা
আজ হয়তো অলকা ইয়াগনিক আগের মতো নিয়মিত গান গাইতে পারছেন না। কিন্তু তাঁর সৃষ্ট গান, তাঁর শিল্পীসত্তা এবং তাঁর লড়াইয়ের মনোভাব নতুন প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।



