Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কর্মক্ষেত্রে ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক তরুণী(Mysuru Suicide)। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের মাইসুরুতে। নিহতের নাম নাগেশ্বরী। তাঁর উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে উঠে এসেছে কর্মক্ষেত্রের ভয়াবহ মানসিক নির্যাতনের চিত্র।
বঞ্চনার শিকার হয়ে আত্মহত্যা (Mysuru Suicide)
নাগেশ্বরী মাইসুরুর হিনাকালের ‘রিলায়েন্স মার্ট’-এ পিপিএমএস (PPMS) এজেন্সির মাধ্যমে ‘টাটা’ পণ্যের প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৫ দিন ধরে তিনি চরম মানসিক দুঃশ্চিন্তা ও বিষাদগ্রস্ততায় ভুগছিলেন। কর্মক্ষেত্রে তাঁর ওপর কীভাবে অত্যাচার চালানো হচ্ছিল, সে কথা পরিবারকে জানিয়েওছিলেন তিনি।
সুইসাইড নোটে যে বিষ্ফোরক অভিযোগ
বিষ খেয়ে আত্মহত্যার আগে নাগেশ্বরী একটি চিঠি লিখে যান। সুইসাইড নোট অনুযায়ী:
কোনও ভুল না থাকা সত্ত্বেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে ক্রমাগত টার্গেট ও হেনস্থা করতেন।
গত ৪ মাস ধরে তাঁকে সাপ্তাহিক কোনও ছুটি (weekly day off) দেওয়া হয়নি।
জরুরি প্রয়োজনে ছুটির আবেদন করলেও তা সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হত।
এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করায় এবং নিজের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
চিঠিতে ডলি (Dolly) নামে এক সুপারভাইজারের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে নাগেশ্বরী জানান, এই লাগাতার মানসিক নির্যাতনই তাঁকে চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে।
বিচারের দাবিতে সোচ্চার মা (Mysuru Suicide)
নাগেশ্বরীর মা রত্নাম্মা কান্নাভেজা কণ্ঠে বিচার দাবি করে বলেন, “ছোটখাটো বিষয় নিয়েও আমার মেয়েকে মানসিক নির্যাতন করা হতো। চাকরি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর ও আর সহ্য করতে পারেনি। ডলি নামে ওই সুপারভাইজারের কারণেই আজ আমার মেয়ে নেই। আমরা সুবিচার চাই, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হোক।”
বর্তমানে পুলিশ একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে(Mysuru Suicide)। সুইসাইড নোটের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনা আরও একবার কর্পোরেট বা বিপণন ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কাজের পরিবেশ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।



