Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বকাপে প্রথম বার নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা।এই গ্রুপের শীর্ষে মেক্সিকো (South Africa)।
বিশ্বকাপের বড় চমক (South Africa)
বিশ্বকাপের এখনও পর্যন্ত যদি সবথেকে বড় অঘটনের ম্যাচ বলতে হয় তবে সেটা হল দক্ষিণ কোরিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটে বড় নাম হলেও ফুটবলে এখনও সেই জায়গা তাঁরা পাননি বা বলা ভাল এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত অন্তত কেউ খুব বেশি আশাবাদী ছিলেন না। কিন্তু গ্রুপের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এখন দক্ষিণ কোরিয়ার ভাগ্য নির্ধারণ হবে বাকিদের খেলার উপর (South Africa)।
একদিকে ব্রাজিলের উল্লাস, নেইমারের প্রত্যাবর্তন আবার সেই দিনেই ভিনির ম্যাজিক। তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও বড় চমক অপেক্ষা করছিল এই ম্যাচে। রেফারির শেষ বাঁশি যখন বেজে উঠল সেই সময় হাঁটু মুড়ে দুহাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে দেখা গেল হুগো ব্রুসকে। কেউ কাঁদছেন আবার কেউ মেতে উঠছেন উল্লাসে। বিশ্বকাপের সেই আবেগ তখন ছড়িয়ে পড়েছে সাত সমুদ্র তেরো নদীর প্রতিটা প্রান্তে। সেই উত্তেজনায় তখন ফুটছে প্রতিটা মানুষ যাঁদের কাছে আবেগের আরেক নাম ফুটবল।
একদিকে পুরো দল, দলের স্টাফ আবার গ্যালারিতে তখন সমর্থকদের একই অবস্থা। কেউ কাঁদছেন আবার কেউ একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন। আর এমন করবেন নাই বা কেন? বিশ্বকাপের সবথেকে বড় অঘটন যে তাঁদের দেশ ঘটিয়ে ফেলেছে। দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে প্রথম বার জায়গা করে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa)।
এ রকম যে কিছু হতে পারে, তা বোধহয় কোনও বিশেষজ্ঞই আশা করেননি। ফিফা ক্রমতালিকায় ২৮ নম্বরে থাকা দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫৪ নম্বরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে অনেকটা এগিয়ে রেখেছিলেন তাঁরা হয়ত সেটা অনেক কিছু ভেবেই। কিন্তু মাঠে দেখা গেল অন্য ছবি।

প্রথম দু’ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু অভিজ্ঞ কোচ ব্রুস জানতেন, তাঁদের সুযোগ রয়েছে আর সুযোগ যখন আসবে তখন যাতে সেটার সঠিক ব্যবহার করা হয় সেইদিকেই নজর ছিল তাঁর। সেই শিক্ষায় ফুটবলারদের দিয়েছিলেন ৭৪ বছর বয়সি পোড়খাওয়া কোচ। মাঠে সেটাই দেখা গেল আবারও সেই অভিজ্ঞতার জয়। দক্ষিণ কোরিয়া গোলের জন্য যাঁর উপর ভরসা করে সেই সনকেই পুরো আটক করে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে গোল করতে পারল না এশিয়ার দেশ (South Africa)।
আরও পড়ুন: BJP Worker Death: বিজেপি করাই অপরাধ, প্রকাশ্য দিবালোকে বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে খুন!
শারীরিক লড়াইয়েও হার মানল দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের কাছে স্কিল আছে। কিন্তু দৈহিক উচ্চতা ও ক্ষমতায় অনেকটা পিছিয়ে তাঁরা দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে। ফলে একের বিরুদ্ধে একের লড়াই জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। রক্ষণ মজবুত থাকায় দক্ষিণ কোরিয়া আক্রমণের লাভ তুলতে পারল না। কিন্তু ম্যাচের ৬৩ মিনিটের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করে ফেললেন থাপেলো মাসেকো। এর পর যদি দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর মূর্তি বসে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। দেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য এল তাঁর পা থেকেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে নকআউটে যাওয়ার স্বপ্ন ধাক্কা খেল দক্ষিণ কোরিয়ার। তারা তিন নম্বরে রয়েছে। তবে এখনও নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এশিয়ার এই দেশের। তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে বাকি গ্রুপের ফলের উপর (South Africa)।


