Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউন ধসের ঘটনায় তদন্তে নেমে বড় পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ (Taratala Accident)। বুধবার লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠকে অ্যাডিশনাল সিপি (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল জানান, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে, যা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ। নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, শ্রমিকদের উপস্থিতির হিসাব রাখা হয়েছিল কি না, এবং নির্মাণকাজের অনুমোদন সংক্রান্ত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত ৫ জন গ্রেফতার (Taratala Accident)
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রেফতারি হল গোডাউনের মালিক শম্ভুনাথ বেহরার। তদন্তকারীদের মতে, নির্মাণকাজের তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায় এড়ানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে বিল্ডিং সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজারকেও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুলজারের বিরুদ্ধে একবালপুর থানায় মারপিট সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলা রয়েছে। ফলে তাঁর অতীত ভূমিকা এবং বর্তমান দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নিহত শ্রমিক সরবরাহকারীর বিরুদ্ধেও ছিল মামলা (Taratala Accident)
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। নিহত শ্রমিক সরবরাহকারী (লেবার সাপ্লায়ার) আসগার হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে দুটি মামলা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, বিল্ডিং সুপারভাইজার গুলজার আসগার হোসেনের অধীনেই কাজ করতেন। ফলে নির্মাণস্থলে শ্রমিক নিয়োগ, কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে এই দুই ব্যক্তির ভূমিকা এখন তদন্তের কেন্দ্রে চলে এসেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, শ্রমিকদের নিয়োগে কোনও অনিয়ম ছিল কি না এবং নিরাপত্তা বিধি ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছিল কি না।

শ্রমিকদের নামেরও কোনও নথি নেই (Taratala Accident)
পুলিশের তদন্তে যে তথ্য সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তা হল নির্মাণস্থলে কোনও শ্রমিক রেজিস্টারই রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, গত তিন মাস ধরে কোনও রেজিস্টার মেইনটেইন করা হয়নি। নির্মাণস্থলে কারা কাজ করছিলেন, কতজন শ্রমিক প্রতিদিন উপস্থিত থাকতেন, তাঁদের পরিচয় কী এসবের কোনও সরকারি নথি পাওয়া যায়নি। ফলে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে এবং নিখোঁজদের সনাক্তকরণে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, সে সম্পর্কেও কোনও স্পষ্ট তথ্য পুলিশের হাতে নেই।
শ্রমিক সুরক্ষা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন (Taratala Accident)
নির্মাণ শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের নাম, উপস্থিতি, কাজের সময়সূচি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তারাতলার ঘটনায় সেই নিয়ম কতটা মানা হয়েছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নিয়মিত রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হত, তাহলে দুর্ঘটনার পর কতজন শ্রমিক ভিতরে আটকে ছিলেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, তা দ্রুত জানা সম্ভব হত। পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকাজও আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যেত।
কলকাতা পুরসভার কাছেও চাওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
তদন্তের স্বার্থে কলকাতা পুরসভার কাছেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেয়েছে কলকাতা পুলিশ। নির্মাণ প্রকল্পটির অনুমোদিত নকশা, বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণের অনুমতি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশ জানতে চাইছে, নির্মাণকাজ অনুমোদিত পরিকল্পনা মেনেই হচ্ছিল কি না এবং কোনও নিয়মভঙ্গ বা বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে কি না।

আরও পড়ুন : Naushad Siddiqui: মণিপুর থেকে চাকরি দুর্নীতি, একসঙ্গে একাধিক ইস্যুতে নওশাদের তোপ
SIT তদন্তে কী কী বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে?
বিশেষ তদন্তকারী দল মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নির্মাণ ধসের প্রকৃত কারণ কী? নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি? নির্মাণস্থলে কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন? শ্রমিকদের পরিচয় ও উপস্থিতির রেকর্ড কেন রাখা হয়নি? নির্মাণ অনুমোদন এবং বাস্তব নির্মাণের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি ছিল কি? মালিক, সুপারভাইজার এবং শ্রমিক সরবরাহকারীদের ভূমিকা কতটা দায়ী? রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য, অপেক্ষা SIT রিপোর্টের
তারাতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জন
১. কৃষ্ণ চৌধুরী (৪৯ বছর): ভাটপাড়া, উত্তর ২৪ পরগনা। (মৃতদেহ তাঁর নিজের বাসস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে)।
২. রোহিত চৌধুরী (২০ বছর): অগ্রদ্বীপ, পূর্ব বর্ধমান। (মৃতদেহ নিজের বাসস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে)।
৩. চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০ বছর): কৃষ্ণনগর, নদীয়া। (মৃতদেহ নিজের বাসস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে)।
৪. রাহুল চৌধুরী (১৭ বছর): কোতোয়ালি, নদীয়া। (মৃতদেহ নিজের বাসস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে)।
৫. পাপ্পু কুমার রজক (৪০ বছর): শ্যামনগর, জগদ্দল। (মৃতদেহ নিজের বাসস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে)।
৬. ঘি কুমার (১৭ বছর): মুঙ্গের, বিহার। (বর্তমানে মৃতদেহ এসএসকেএম হাসপাতালে রয়েছে)।
৭. আসগর হুসেন (৫৪ বছর): একবালপুর, কলকাতা। (বর্তমানে মৃতদেহ এসএসকেএম হাসপাতালে রয়েছে)।
৮. সাহিল সরদার (১৭ বছর): বাসন্তী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা। (বর্তমানে মৃতদেহ এসএসকেএম হাসপাতালে রয়েছে)।
৯. হাসান ইমাম (৪৪ বছর): গার্ডেনরিচ, কলকাতা। (বর্তমানে মৃতদেহ এসএসকেএম হাসপাতালে রয়েছে)।
১০. গণেশ কালিন্দি (৪৫ বছর): ধানবাদ, ঝাড়খণ্ড। (আজ, ২৫শে জুন সকালে এসএসকেএম-এ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন)।
১১. নবীন সিং (৪৪ বছর): রানিগঞ্জ, বর্ধমান। (আজ, ২৫শে জুন সকালে হাসপাতালে আনার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়)।
আহতদের তালিকা (১৯ জন):



