Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি বহুতল গোডাউন ও কোল্ড স্টোরেজ প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে (Taratala Collapse)। বুধবার দুপুর প্রায় ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ হঠাৎ করেই তিনতলা নির্মীয়মাণ গুদামঘরের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে লোহার বিম, টিনের শেড, কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় প্রায় ৪০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক নির্মাণস্থলের ভিতরে কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে বহুজন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার পরেই এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান।

মুখ্যমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন (Taratala Collapse)
ঘটনার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। পরে তিনি জানান, উদ্ধার অভিযান চলায় ঘটনাস্থলে কোনও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি যাতে উদ্ধারকারীদের কাজে কোনও বাধা না সৃষ্টি হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের আশা এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে বেশ কয়েকজন জীবিত অবস্থায় রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে প্রশাসন। তিনি আরও জানান—
আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে গ্রিন করিডর তৈরি করা হয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য সচিবের নেতৃত্বে বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেনা, এনডিআরএফ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় রাখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একাধিক জনের চিকিৎসা চলছে। পুলিশ, দমকল ও সিভিল ডিফেন্সকে ধন্যবাদ।
মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে পুলিশ, দমকল এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, দুর্ঘটনার পর তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে না গেলে আরও বড় প্রাণহানি ঘটতে পারত। প্রশাসনের মতে, প্রথম কয়েক ঘণ্টার দ্রুত তৎপরতার ফলেই বহু শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

কোন জমিতে তৈরি হচ্ছিল এই প্রকল্প? (Taratala Collapse)
জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত জমিটি প্রায় ৬,৬৮৯ বর্গমিটার আয়তনের। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ৩০ বছরের লিজে জমিটি দেওয়া হয়েছিল Syama Prasad Mookerjee Port Authority-এর পক্ষ থেকে। এই জমিতে বহুতল গোডাউন এবং কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের দায়িত্বে ছিল বেহেরা ব্রাদার্স নামে একটি সংস্থা। বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে, নির্মাণকাজের অনুমোদন, নকশা এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না।
আগে ভেঙেছিল কাঠামোর একাংশ! (Taratala Collapse)
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। সূত্রের দাবি, এর আগেও নির্মীয়মাণ কাঠামোর একটি অংশ ভেঙে পড়েছিল। পরে সেটি মেরামত করে ফের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। কিন্তু সেই মেরামত যথাযথ হয়েছিল কি না, অথবা পূর্ববর্তী ক্ষতির প্রভাব পুরোপুরি দূর হয়েছিল কি না, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন : Naushad Siddiqui: মণিপুর থেকে চাকরি দুর্নীতি, একসঙ্গে একাধিক ইস্যুতে নওশাদের তোপ
বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া অবস্থান
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় জলাশয় বুজিয়ে বা বিতর্কিত জমিতে চলা সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণকাজ আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের অডিট কমিটি সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রকল্পগুলি পরিদর্শন করবে।



