Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: গঙ্গাসাগর (Gangasagar) বললেই মনে পড়ে মকর সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণের কথা। চোখের সামনে ভেসে ওঠে কাদা-জলের সাগরে অসংখ্য মানুষের স্নানের ছবি। প্রবল ঠান্ডা, ভিড় উপেক্ষা করেও সাগরের জল মাথায় ছোঁয়ানোর তীব্র বাসনার টানে অনেকেই। মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে ছুটে আসে এখানে। তবে সাগরস্নানের পুণ্য তিথি বাদ দিলে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ মহকুমার সাগরদ্বীপ কিন্তু নিছক বেড়ানোর জন্য নেহাত মন্দ নয়।

নিজের কাছের মানুষের সঙ্গে হোক কিংবা পরিবারের সঙ্গে, কিছুটা সময় সমুদ্রের কিনারায় বসে কাটাতে চান? দিঘা কিংবা বকখালিতে বড্ড বেশি ভিড় আর নির্জন বিচের খোঁজ করতে তা আবার সাধ্যের মধ্যে পাওয়া কঠিন। তাই এবার গঙ্গাসাগরকেই (Gangasagar) রাখতে পারেন বাকেটলিস্টে। একটু নিরিবিলি স্থানের খোঁজ করলে সাগরদ্বীপও হয়ে উঠতে পারে বেশ ভালো একটা পর্যটন কেন্দ্র। একইসঙ্গে দর্শন নিতে পারবেন কপিলমুনির। মন্দিরের শান্ত পরিবেশ শান্ত করে দেবে আপনার মনকেও।
আরও পড়ুন: Pithe Recipe: পৌষ পার্বণ মানেই বাঙালির পিঠে পুলি উৎসব, রইল বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠের রেসিপি
আরও পড়ুন: Duarsini: প্রকৃতির মাঝে হারানোর ঠিকানা দুয়ারসিনি, নতুন বছরে উপচ্ছে পড়া ভিড় পর্যটকদের
কীভাবে যাবেন? (Gangasagar)
ডিসেম্বর, জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারির সপ্তাহান্তের ছুটিতে দিব্যি বেড়িয়ে পড়া যায় সাগরদ্বীপের (Gangasagar) উদ্দেশে। কলকাতা থেকে যাওয়াও এখন সহজ। আউট্রাম ঘাট থেকে ছাড়ে বড়সড় ক্রুজ। পাঁচ-সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় সোজা পৌঁছে দেয় কচুবেড়িয়া জেটিঘাটে। সাগরে আসতে হলে কচুবেড়িয়াই ভরসা। জলপথে ভেসেল বা ক্রুজ যাত্রাটি হতে পারে গঙ্গাসাগর ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। তবে কলকাতা থেকে সরাসরি ক্রুজে আসতে না চাইলে নামখানা বা কাকদ্বীপ হয়েও আসা যায়।
শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে ট্রেন ধরে কাকদ্বীপ স্টেশন। সেখান থেকে টোটো অটো ধরে ফেরিঘাট। এখানে একাধিক ফেরিঘাট রয়েছে। সেখান থেকে ভেসেল যাবে কচুবেড়িয়া ঘাটে। গঙ্গাসাগর (Gangasagar) অ্যাপ থেকে ভেসেলের সময়সূচি জেনে নিতে পারেন। এতে যেতে সুবিধা হবে। কচুবেড়িয়া ঘাট থেকে ৩২ কিমি দূরে গঙ্গাসাগর।
কী কী দেখবেন? (Gangasagar)
কোনও এক সকালে কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করলে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায় পৌঁছনো যাবে সাগরদ্বীপে। দুপুরে খানিক বিশ্রাম করে টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন আশপাশ ঘুরে দেখতে। গঙ্গাসাগরে এলে অবশ্যই যেতে পারেন কপিল মুনির আশ্রমে। ছোট তিন চূড়া বিশিষ্ট মন্দিরের ভিতরে রয়েছে কপিল মুনি, সগর রাজা এবং দেবী গঙ্গার মূর্তি। পুজো দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। কপিল মুনির মন্দিরের পাশেই মা গঙ্গা পার্ক। সন্ধ্যায় আলো জ্বলে উঠলে সাজানো পার্কটিতে বসে সময় কাটাতে পারেন।

এ ছাড়া ঘুরে নেওয়া যায় মোহনা, লাউট হাউস, মনসা মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন। ৩০০-৪০০ টাকায় টোটো ভাড়া করে দু’ঘণ্টাতেই জায়গাগুলি ভ্রমণ করতে পারেন। লাইট হাউস অবশ্য দূর থেকে দেখেই তুষ্ট থাকতে হবে। তবে বিকেলের দিকে মোহনা পৌঁছলে অনেকটা সময় এখানে কাটাতে পারেন। একটি খাঁড়ি সাগরে এসে মিশেছে। চলে গিয়েছে বাঁধের মতো রাস্তা। রামকৃষ্ণ মিশনেও সন্ধ্যাবেলার আরতি দেখতে যেতে পারেন। নিরিবিলি পরিবেশ মন ছুঁয়ে যাবে।
কোথায় থাকবেন? (Gangasagar)
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব আবাস থেকে শুরু করে আধুনিক সুবিধাযুক্ত একাধিক হোটেল রয়েছে সেখানে। আছে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের থাকার জায়গাও। গত কয়েক বছরে একাধিক নতুন থাকার জায়গা তৈরি হয়েছে পর্যটনের প্রসারে। ৮০০টাকা থেকে ২০০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।


