Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরবঙ্গে বর্ষার বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে নদীভাঙনের ভয়াবহ চিত্র (Siliguri)। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত খড়িবাড়ি ব্লকের মনসা জোত গ্রামে এখন আতঙ্কের আরেক নাম খেমচী নদী। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নদীর জলস্তর যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে নদীর স্রোতের তীব্রতাও।

তার জেরেই কয়েক সেকেন্ড পরপর নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি, বাগান এবং সবুজে মোড়া বিস্তীর্ণ এলাকা। গ্রামের বাসিন্দাদের কথায়, এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি। চোখের সামনে ফসলি জমি ভেঙে নদীতে মিশে যেতে দেখে অসহায় হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বছরের পর বছর ধরে চাষ করে গড়ে তোলা জমি মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ায় তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আনারস ক্ষেত ও বাঁশঝাড় ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে (Siliguri)
নদীভাঙনের ফলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এলাকায়। নদীর ধারে থাকা চা বাগানের বড় অংশ, আনারস চাষের জমি এবং বিস্তীর্ণ বাঁশঝাড় একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই নদী আরও কিছুটা করে এগিয়ে আসছে গ্রামের দিকে। বর্তমানে নদী গ্রামের বসত এলাকা থেকে মাত্র প্রায় ৫০ মিটার দূরে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই নদী গ্রামের ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে।
বালি উত্তোলনকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা (Siliguri)
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণেই খেমচী নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। অতিরিক্ত বালি তোলার ফলে নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং নদী নতুন পথ খুঁজতে গিয়ে কৃষিজমির দিকে ধাবিত হয়েছে। তাঁদের দাবি, বহুবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা ছিল সাময়িক। ফলে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ হয়নি। এর ফলেই আজ নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে গ্রামের অস্তিত্বের উপর বড়সড় সংকট তৈরি করেছে।

৪০টি পরিবারের মাথার উপর বিপদের কালো মেঘ
মনসা জোত গ্রামের প্রায় ৪০টি পরিবার এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রাতের বেলা বৃষ্টি শুরু হলেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। অনেকেই ঘুমোতে পারেন না এই ভেবে যে, কখন নদী আরও কিছুটা ভেঙে তাঁদের বাড়ির দিকে এগিয়ে আসবে। গ্রামবাসীদের মতে, নদীভাঙন যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে শুধু কৃষিজমিই নয়, বসতবাড়িও বিপদের মুখে পড়বে। বহু পরিবারকে হয়তো বাস্তুচ্যুত হতে হবে। সেই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বেশি তাড়া করছে এলাকার মানুষকে।
দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি (Siliguri)
স্থানীয়দের একটাই দাবি—যত দ্রুত সম্ভব নদীর ধারে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া এই সমস্যার মোকাবিলা সম্ভব নয় বলেই মত তাঁদের। তাঁদের বক্তব্য, বর্ষাকাল এখনও অনেকটাই বাকি। এখনই যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
প্রশাসনের দ্বারস্থ গ্রামবাসীরা (Siliguri)
ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর নজরে আনা হয়েছে। স্থানীয় গ্রাম প্রধানও জানিয়েছেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে বিষয়টি ব্লক প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত মাঠে দৃশ্যমান কোনও বড় উদ্যোগ দেখা না যাওয়ায় উদ্বেগ কাটছে না সাধারণ মানুষের। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র ভরসা বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: Today weather update: বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ের মুখে দক্ষিণবঙ্গ? কোন কোন জেলায় কমলা সতর্কতা?

প্রকৃতি ও মানুষের দ্বৈত সংকট
খেমচী নদীর এই ভাঙন শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের চিত্র নয়, বরং পরিবেশের উপর মানুষের হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতিরও এক নির্মম উদাহরণ। অবৈধ বালি উত্তোলনের মতো কার্যকলাপ যদি সত্যিই নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণ হয়ে থাকে, তবে তা শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের জীবন-জীবিকা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।



