Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রায় ১২৫ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক গুরুদ্বার ভেঙে ফেলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে (Pakistan Gurdwara)। ঘটনাটি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ সরকারি অনুমতি ছাড়াই এক স্থানীয় ব্যবসায়ী গুরুদ্বারটি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু পাকিস্তানেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে অবিলম্বে তদন্ত ও গুরুদ্বারের পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।

লাহোরের কাছে ঐতিহাসিক গুরুদ্বার (Pakistan Gurdwara)
এই ঐতিহাসিক গুরুদ্বারটি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফারুকাবাদ এলাকায় অবস্থিত। লাহোর শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ধর্মস্থানটি দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এবং ঐতিহ্যবাহী উপাসনাস্থল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, গুরুদ্বারটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ভারত বিভাজনের আগের ইতিহাস, শিখ ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ফলে এই স্থাপনা ধ্বংসের অভিযোগ সামনে আসতেই গোটা শিখ সমাজের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গুরুদ্বার ভাঙার অভিযোগ
সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদনে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) সংগ্রহ না করেই গুরুদ্বারটি ভেঙে ফেলেছেন।প্রশাসনের দাবি, শুরুতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরের নজরে আসেনি। কিন্তু স্থানীয় শিখ সম্প্রদায় প্রতিবাদে সরব হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এরপর ঘটনাটি দ্রুত পাকিস্তানের প্রশাসনিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

প্রতিবাদে রাস্তায় শিখ সম্প্রদায় (Pakistan Gurdwara)
গুরুদ্বার ধ্বংসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই ফারুকাবাদ ও আশপাশের এলাকার শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিবাদে সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, শুধু গুরুদ্বার পুনর্নির্মাণ করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মরিয়ম নওয়াজের হস্তক্ষেপ (Pakistan Gurdwara)
জনরোষ বাড়তে থাকায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এরপর বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাঞ্জাবের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী রমেশ সিং অরোরা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত গুরুদ্বারটি পুনরায় সংস্কারের আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, পাকিস্তানে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাঁদের ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (Pakistan Gurdwara)
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানের ফারুকাবাদে অবস্থিত ১২৫ বছরের পুরনো পবিত্র গুরুদ্বার ভেঙে ফেলার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নিন্দনীয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হচ্ছে। ভারত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছে এবং পাকিস্তান সরকারকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি গুরুদ্বারটি পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানে বসবাসকারী শিখ-সহ সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্যও ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

আরও পড়ুন : Taratala Compensation: মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অতীতেও পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু মন্দির, গুরুদ্বার এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা বা ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাগুলির সংরক্ষণ শুধুমাত্র একটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বিষয় নয়, বরং ধর্মীয় সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ফলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।



