Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় হাইকোর্টে আবারও ধাক্কা তৃণমূলের (High Court)। মঙ্গলবার তৃণমূলের দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। সিলিসিটর জেনারেলের অনুরোধ আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করল আদালত। তৃণমূলের আর্জি খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর মন্তব্য- ‘এক দিন দেরি হলে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না।’*
ভাঙনের পর দলের তহবিল (High Court)
গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে দল। একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের তৃণমূল এবং অপরটি বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। ভাঙনের পর দলের তহবিল কাদের হাতে থাকবে সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম সংঘাত। দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করে চিঠি দিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে তৃণমূলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানান দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। এরপরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় ঋতব্রত শিবির। সেই আবেদনের ভিত্তিতে তৃণমূলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার যাতে কোনও রকম লেনদেন না হয় তার জন্য ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেয় পুলিশ। এরপরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গুলো খুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি ভট্টাচার্য্য (High Court)
গত মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি ভট্টাচার্য্য, অভিযোগ দায়েরের সময় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিচারপতি বলেন, ‘অভিযোগ দায়েরের সময়টা যথেষ্ট সন্দেহজনক। ২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় অভিযোগ দায়ের হল। আর পরেরদিন সকালেই ব্যাঙ্ক জানাল অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। অথচ অভিযোগ জানানোর আগে ওই অ্যাকাউন্ট নিয়ে নির্দিষ্ট কেন অপরাধের অভিযোগে ওঠেনি! তাহলে হঠাৎ অভিযোগের পর পুলিশ কিসের ভিত্তিতে এত তড়িঘড়ি ফ্রিজ করার জায়গায় চলে গেল!’

তুষার মেহতা আদালতে বলেন (High Court)
গত শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, ‘তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা রয়েছে। তৃণমূল দলটা দুই ভাগে বিভিক্ত হয়ে গিয়েছে। তাই দুই পক্ষই তাদের টাকা বলে দাবি করলে তখন কী হবে! তাই ওই অ্যাকাউন্ট গুলোতে এখন কোনও লেনদেন করতে দেওয়া ঠিক হবে না। তাই এখন অ্যাকাউন্ট গুলো বন্ধ রাখা উচিৎ।’
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলেন (High Court)
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য তাঁর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করা হতে পারে। তাঁর নজরদারিতে দৈনিক খরচ চালানোর জন্য তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনও বড় খরচ করা যাবে না। এবং নীতিগত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। তারপরই বিচারপতি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গুলোর যাবতীয় তথ্য চেয়ে শরৎ বোস রোডের বেসরকারি ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষের থেকে হলফনামা তলব করেন। এবং এই মামলায় তদন্তে এখনও পর্যন্ত যে তথ্য উঠে এসেছে, তার রিপোর্টও এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশের থেকে তলব করেন। এবং তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট আপাতত ফ্রিজ থাকবে বলে জানিয়ে দেয় হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন: BJP MLA Dilip Ghosh: তৃণমূল তোমার বাপ আর বিজেপি তোমার সৎ বাপ: দিলীপ ঘোষ
তথ্য আদালতে পেশ
এদিন তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্য আদালতে পেশ করার কথা ছিল। তাই এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী কিশোর দত্ত বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর কাছে আবেদন করেন, যেহেতু বর্ষিয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি উপস্থিত রয়েছেন, তাই মামলাটি আজকেই শোনা হোক। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য জানিয়ে দেন আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলা শুনবেন তিনি। এবং তখনই তিনি তৃণমূলের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একদিন দেরি হলে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়বে না।’



