Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহের মধ্যেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui)। ঘটনার তদন্ত, পুলিশের ভূমিকা, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং মহিলা নিরাপত্তা—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখেই তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে যেমন পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠে এসেছে, তেমনই রাজ্য সরকারের কাছে কঠোরতম শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

‘ধর্ষণহীন, ভয়মুক্ত রাজ্য’ (Naushad Siddiqui)
নওশাদ সিদ্দিকির দাবি, রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে নানা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তাঁর কথায়, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, নারী নিরাপত্তাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচার হলেও বাস্তবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের অপরাধ ঘটছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ক্রমশ বাড়ছে।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
বারুইপুরের ঘটনাকে সামনে রেখে নওশাদ সিদ্দিকি পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় বাসিন্দারাই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। কিন্তু এরপরেও পরিস্থিতি সঠিকভাবে সামাল দেওয়া হয়নি বলেই জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যদি পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করত, তাহলে পরিস্থিতি কখনও এতটা উত্তপ্ত হতো না। যাঁরা অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার পর দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি (Naushad Siddiqui)
নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, শুধুমাত্র গ্রেফতার করলেই হবে না, এমন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ নারীদের প্রতি অপরাধ করার সাহস না পায়। তিনি রাজ্য সরকারের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, এই ঘটনায় যুক্ত প্রত্যেক অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, যাঁদের গাফিলতির কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও সমান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের আত্মসমালোচনার আহ্বান
আইএসএফ বিধায়কের বক্তব্যে উঠে আসে মহিলা নিরাপত্তা প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, সরকার বারবার নারী নিরাপত্তার কথা বললেও বাস্তবে কেন মহিলারা নিরাপদ বোধ করছেন না, সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রচার নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে প্রতিটি নারী ও কন্যাশিশু নিরাপদ পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারেন।
জনরোষের জন্য দায়ী কে? (Naushad Siddiqui)
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, পুলিশের হেফাজত থেকে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের পরই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দাবি, জনরোষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৈরি হয়নি; বরং পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েই মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যখন অভিযুক্তকে শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, তখন পুলিশের দায়িত্ব ছিল আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। সেই দায়িত্বে ব্যর্থতার অভিযোগই আজ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তুলছে।

পূর্ববর্তী ঘটনার প্রসঙ্গ টানলেন নওশাদ (Naushad Siddiqui)
নিজের বক্তব্যে তিনি অতীতের জয়নগরের একটি নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনারও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সেই সময়েও অভিযোগ পাওয়ার পর যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশাসনের কাজের ধরনে এখনও পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তন হলেও পুলিশের কাজের ধরনে যদি আগের মতোই গাফিলতি থেকে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করা কঠিন হবে।
আরও পড়ুন: Diabetes Cure Temple: মন্দিরে গেলেই সারবে সুগার! কোথায় জানেন?
‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আহ্বান
নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, নারী নির্যাতনের মতো ঘটনায় কোনও রকম আপস বা শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রশাসনের কাছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, অপরাধী, প্রশাসনিক গাফিলতি কিংবা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ—সব ক্ষেত্রেই কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও দাবি করেন, যদি সরকার নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষও সেই পদক্ষেপকে সমর্থন করবে।



