Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ তিন বছরের টালবাহানার পর অবশেষে মুক্তির মুখ দেখেছিল জনপ্রিয় পাঞ্জাবি শিল্পী ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ অভিনীত চলচ্চিত্র ‘সতলুজ’ (Diljit Dosanjh)। তবে সেই মুক্তি ছিল অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী। বড়পর্দায় মুক্তির সুযোগ না পেলেও ছবিটি একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়। কিন্তু মুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নির্দেশের জেরে সেটিকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে ছবিটিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি বিতর্ক, রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা।

কেন সরিয়ে নেওয়া হল ‘সতলুজ’? (Diljit Dosanjh)
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সেন্সর ছাড়পত্র পায়নি। অভিযোগ, সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করেই নির্মাতারা ছবির নামের সামান্য পরিবর্তন করে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি ফাইভ-এ মুক্তি দেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ওটিটি প্ল্যাটফর্মটি ছবিটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, ছবিটিকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। জি ফাইভের তরফে জানানো হয়েছে, নির্মাতা এবং অভিনেতার প্রতি তাদের সমর্থন থাকলেও কেন্দ্রের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ছবিটি আর দর্শকদের জন্য উপলব্ধ থাকবে না।
তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ (Diljit Dosanjh)
সূত্রের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০২১-এর নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ না করেই ছবিটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়েছিল। এই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সরকারের বক্তব্য, কোনও চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সম্পূর্ণ না হলে সেটিকে অন্য নামে বা অন্য মাধ্যমে প্রকাশ করা নিয়মবিরুদ্ধ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ছবির প্রদর্শন স্থগিত করা হয়েছে।
যশবন্ত সিং খালরার জীবনকাহিনি ঘিরেই মূল বিতর্ক
‘সতলুজ’ ছবির বিষয়বস্তুই বিতর্কের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এই সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালরার জীবন ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। খালরা নব্বইয়ের দশকে পাঞ্জাবে সংঘটিত একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে আনেন। তাঁর অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছিল, হাজার হাজার অজ্ঞাত পরিচয়ের মৃতদেহকে ‘বেওয়ারিশ’ বলে দাহ করা হয়েছিল। তাঁর তদন্ত আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং মানবাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকেই চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে বলে নির্মাতাদের দাবি।
দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির তীব্র প্রতিবাদ
ছবি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটি (DSGMC)। কমিটির সভাপতি হরমিত সিং কালকা বলেন, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র একটি সিনেমাকে আটকে দেওয়া নয়, বরং মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালরার সংগ্রাম এবং পাঞ্জাবের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে মানুষের সামনে আসতে না দেওয়ার প্রচেষ্টা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খালরা এমন এক সত্য উদঘাটন করেছিলেন, যা গোটা বিশ্বের সামনে পাঞ্জাবের এক অন্ধকার সময়কে তুলে ধরেছিল। সেই ইতিহাসকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।
‘ইতিহাসকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা’ (Diljit Dosanjh)
হরমিত সিং কালকার অভিযোগ, ছবিটি বন্ধ করে দেওয়া মানে ইতিহাসকে আড়াল করার চেষ্টা। তাঁর ভাষায়, যশবন্ত সিং খালরা এমন একজন সমাজকর্মী ছিলেন, যিনি হাজার হাজার মানুষের নিখোঁজ হওয়া এবং তথাকথিত ‘বেওয়ারিশ’ মৃতদেহের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। সেই বাস্তব ঘটনাগুলি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানতে পারলে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। তিনি আরও বলেন, ছবিটি ওটিটি থেকে সরিয়ে নেওয়ায় শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশজুড়ে শিখ সংগঠনগুলির প্রতি আহ্বান (Diljit Dosanjh)
দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি দেশের বিভিন্ন শিখ সংগঠনের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা ‘সতলুজ’-এর বিষয়বস্তু এবং যশবন্ত সিং খালরার সংগ্রামের ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এগিয়ে আসে। তাঁর মতে, একটি চলচ্চিত্র শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়; অনেক সময় সেটি ইতিহাস, সমাজ এবং মানবাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবেও কাজ করে।
রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র
ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলা প্রত্যেক নির্মাতার দায়িত্ব। অন্যদিকে বিরোধী মতের দাবি, যদি ছবির বিষয়বস্তু ইতিহাসনির্ভর এবং জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে সেটিকে নিষিদ্ধ না করে যথাযথ আলোচনার সুযোগ দেওয়া উচিত।



